ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যার নৃশংস বর্ণনা দিল যুবক!


Published: 2020-05-05 22:03:20 BdST, Updated: 2020-05-29 23:17:07 BdST

নেত্রকোনা লাইভ : ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নৃশংস বর্ণনা দিয়েছে বখাটে যুবক। হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের সময় চিৎকার করায় ওই ছাত্রীকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। পরে তাকে জঙ্গলে নিয়ে গর্তে ফেলে রাখা হয়। ছাত্রীকে হত্যার ওই নৃশংস ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার বারহাট্টায়। সুলতান উদ্দিন নামের এক যুবককে গ্রেফতারের পর সে ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। সুলতান বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রাশিদের ছেলে। নিহত মণি আক্তার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামের আব্দুল মন্নাফের মেয়ে। সে একই গ্রামের পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এর আগেও ওই ঘটনায় শনিবার নিহত ছাত্রীর বাবা আব্দুল মন্নাফ বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মণি আক্তার ও তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে প্রতিদিনের মতো পাশের নয়পাড়া গ্রামের তালেব আলীর কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে মণি বাড়ি থেকে বের হয়। পরে পৌনে ১১টায় ওই শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে লেখাপড়া শেষে সেখান থেকে প্রায় সাড়ে ১২টায় চলে আসে। এরপর বাড়িতে আর ফিরে আসেনি। তাদের বাড়ি থেকে ওই গৃহ শিক্ষকের বাড়ি প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের হাঁটার পথ। মণি বাড়িতে না আসতে দেরি হওয়ায় দুপুরে পরিবারের লোকজন রাতে স্থানীয় ফকিরের বাজারে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে সংবাদ দেওয়া হয়। নিখোঁজ হয়েছে মর্মে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপরদিন শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টায় স্থানীয়রা একই গ্রামের মান্দারতলা এলাকায় একটি বাড়ির পেছনে জঙ্গলের গর্তে মণির হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) এসএম আশরাফুল আলম জানান, ঘটনার পর চারদিন ধরে বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়।

যেভাবে হত্যা করা হয় মণিকে : জিজ্ঞাসাবাদে সুলতান জানায়,“৩০ এপ্রিল সকালে মণি আক্তার প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তাকে দেখে সে উৎ পেতে তাকে। শিশু শিক্ষার্থী মণি প্রাইভেট থেকে ফেরার পথে তাকে ডেকে সুলতানের ঘরে নিয়ে যায়। এবং সেখানে ওই শিশুকে ধর্ষণ করা সময় চিৎকার করলে গলায় টিপে ধরায় সে মারা যায়। এরপর নিহত মণিকে কাপড় দিয়ে ডেকে রেখে দেয়। ওইদিন সন্ধার পর শিশুটিকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ফেলে রেখে সে সুলতানের শ্বশুর বাড়ি দশধার চলে যায়। সেখানে অনেকটা নিশ্চিত অবস্থান করছিল সুলতান। পরে পুলিশ সন্দেহজনকভাবে তাকে সোমবার দিবাগত রাতে গ্রেফতার করে। জেরার একপর্যায়ে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

ঢাকা, ০৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।