ঢাবিতে প্রফেসর আফরোজা শেলীর নিয়োগ নিয়ে নানান প্রশ্ন!


Published: 2020-03-15 18:20:04 BdST, Updated: 2020-04-03 16:31:12 BdST

মিজানুর রহমান, ঢাবিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চলছে নানান বিতর্ক। শুরু হয়েছে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি। ওই শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানান গুঞ্জন এখন ক্যাম্পাস জুড়ে। জানাযায় ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এক প্রফেসর পদে নিয়োগের সুপারিশ করতে গত ৮ মার্চ নির্বাচনী বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু কোনো সুপারিশ ছাড়াই সেই সভা স্থগিত করা হয় ৷ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভাগের শিক্ষকেরা বলেছেন 'পছন্দের প্রার্থীকে' নিয়োগ দিতে ভিসি এই কাজটি করেছেন ৷ এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন । তবে ভিসি অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানাগেছে, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একজন প্রফেসর নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ৷ এই নিয়োগের জন্য ৮ মার্চ আয়োজন করা হয় নির্বাচনী বোর্ডের সভা ৷ এই বোর্ড সভা স্থগিত হওয়ার পর ওই 'পছন্দের প্রার্থী' গত ১১ মার্চ পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ' এসোসিয়েট প্রফেসর' হওয়ার জন্য নির্বাচনী বোর্ডে উপস্থিত হন ৷ ওই প্রার্থী উপস্থিত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা।

নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেছেন, বিশেষ একজন প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে নির্বাচনী বোর্ডের সভা স্থগিত করা হয় ৷ বিজ্ঞাপনে একজন প্রফেসর নিয়োগের যোগ্যতা পূরণ করা একজন বিভাগীয় প্রার্থী থাকলেও কাউকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়নি ৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ভিসি প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান ও নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত প্রফেসর খোরশেদ আহমদ কবিরের 'বিশেষ পছন্দের' প্রার্থী আফরোজা শেলীকে নিয়োগ দিতে এখন নতুন করে দুই প্রফেসর পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৷ এটি নিয়ে বিভাগীয় শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ৷

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আফরোজা শেলী বর্তমানে বেসরকারি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রফেসর ৷ এর আগে তিনি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন ৷ ২০০০ সালে তিনি জাপানের টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করেছেন ৷ তিনি ১৯৯৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

প্রফেসর আফরোজা শেলী নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগের সব যোগ্যতা পূরণ করলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রফেসর হওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী আছেন । বিভাগীয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে আফরোজা শেলীকে নিয়োগের জন্য নির্বাচনী বোর্ডের সভা স্থগিত করায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ৷ এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন করে দুটি পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়ায় ক্ষোভের মাত্রা নতুনভাবে বেড়েছে ।

নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মোহম্মদ মনজুর হোসাইন খান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমি বিভাগের চেয়ারম্যান হয়েছি দুই মাসও হয়নি । আর বিভাগের চেয়ারম্যান সিলেকশন বোর্ডের সদস্য নয়। এসব তথ্য সিলেকশন বোর্ডে যারা আছেন তারা জানবে। বিষয়টি খুবই কনফেডেন্সিয়াল । সুপারিশ না করে কেন স্থগিত করা হয়েছে সেটা তারা জানেন। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।

দু’জনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমিও অনানুষ্ঠানিকভাবে শুনেছি। হয়তো এমনই হবে। তবে এই পর্যন্ত আমি কোন লিখিত নির্দেশনা পাইনি।

নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাচনী বোর্ডের সভা স্থগিত হওয়ার পর প্রফেসর আফরোজা শেলী নির্বাচনী বোর্ডের সভায় উপস্থিত হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিয়োগ পাননি৷

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, অধ্যাপক আফরোজা শেলী ওই বিভাগে শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করলেও বিভাগের সিঅ্যান্ডডি কমিটি তাঁকে নিয়োগ বোর্ডের সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্বাচন করেননি। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যও কোন মেসেজ দেন নি। এরপরও তিনি কীভাবে নির্বাচনী বোর্ডের সভায় উপস্থিত হলেন, সেটি আমি বলতে পারব না।

তিনি আরোও বলেন, 'আফরোজা শেলী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার আবেদন করতে হলে তাঁকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আসতে হবে ৷ কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় সিঅ্যান্ডডি কমিটি তাঁকে বাদ দেয় ৷ তবে রেজিস্টার অফিস থেকে নির্বাচনী বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্বাচন করেছে কিনা তা বলতে পারবো না।

সিঅ্যান্ডডি কমিটি থেকে যদি বাদ দেওয়া হয় তাহলে প্রশাসন অন্য কোন ভাবে নির্বাচনী বোর্ডের জন্য সিলেকশন করতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি না সূচক উত্তর দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন 'তাহলে সিঅ্যান্ডডি কমিটির কাজ কী'।

এ ব্যাপারে শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, 'এসব কনফিডেনশিয়াল বিষয়। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, তুমি কীভাবে জানলে সেটা আমাকে এসে লিখিতভাবে জানাবে। আমি জানতে চাই।

ঢাকা, ১৫ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআর//টিআর

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।