'মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ' নাম ব্যবহার নিয়ে দ্বন্ধ, দায়ভার কে নেবে?


Published: 2019-12-19 15:02:04 BdST, Updated: 2020-01-18 14:45:48 BdST

মিজানুর রহমান, ঢাবিঃ 'ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না'- আমিনুল ইসলাম বুলবুল। 'বহিষ্কার হওয়ার পর বুলবুল - মামুনরা শুধু মাত্র পরিচিতি পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে।' ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বছর আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে 'মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ' নামে একটি নন রেজিস্টার্ড সংগঠন। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি করলে শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে একটি প্লাটফর্ম গঠন করেন।

আর সেই রাতেই সবার সম্মতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সংগঠনটির আহবায়ক এবং সাবেক সড়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের ছেলে আসিফুর রহমান খানকে সদস্য সচিব করে সংগঠনটি প্রতিষ্টা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠাকালে কোনো গঠনতন্ত্র তৈরি করা হয়নি, যা অনুসরণ করে সংগঠনটি চলবে।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, এ বছর মার্চ মাসে ডাকসু নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদ বঞ্চিত নেতা আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সভাপতি ও আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি দেন অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন। পরে ‌'মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ' ব্যানারে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকাদাহসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

গত ১০ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও আল আমিনকে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সংগঠন থেকে অব্যহতি দেন মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যাপকড. আ.ক.ম জামাল উদ্দিন। এতে উভয় পক্স একে অপরকে সংগঠনের কেউ না বলে দাবি করেন।

এ বছর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ভাঙন, উভয় পক্ষ একে অপরকে বহিষ্কার করে সংবাদ সম্মেলন, উভয় গ্রুপের দেশে বিদেশে নতুন কমিটি প্রদান, মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদলের উপর হামলা,নৈকিক স্খলনের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে পদচ্যুত নেতা গোলাম রাব্বানীর পক্ষে অবস্থান, দুর্নীতির অভিযোগ এনে ডাকসু ভিপি নুরের অপসারণ চেয়ে ভিসি বরাবর আবেদন, ভিপি নুরের মিছিলে একাধিক বার হামলা, ভিপি নুরের বিরুদ্ধে হত্য চেষ্টা মামলা ইত্যাদি নিয়ে গণমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এসেছে সংগঠনটি।

কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধ মঞ্চের নেতৃত্বে কারা এটা নিয়ে চলছে দ্বন্দ্ব। একদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধ মঞ্চের প্রতিষ্টাতা আহবায়ক ড. আ. ক. ম জামাল উদ্দিন দাবি করছেন সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়ে পরিচিতি লাভের জন্য আমিনুল বুলবুল ও মামুন পরিষদ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন অন্যদিকে তারা দাবি করছেন ড. আ. ক. ম জামাল উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের কেউ না এমনকি তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও মুক্তিযোদ্ধ মঞ্চের মুখপাত্র ড. আ. ক. ম জামাল উদ্দিন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ``জাতীয় নির্বাচন এবং ডাকসু নির্বাচনের পরে আমরা আমাদের কর্মকান্ড শুরু করি। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন আন্দোলন করি। তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সভাপতি ও মোঃ আল মামুন কে সাধারণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে নিয়োগ দিই।

কিন্ত তারা যখন তখন হুটহাট করে নানা ধরনের প্রোগ্রাম করে, এরে মারে ওরে ধরে, নানা ধরনের অপকর্ম করে তখন ১০ অক্টোবর রাত ১০ টায় আমি তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দিই। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধ মঞ্চ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি বিজয় দিবসে দেশ বিদেশে আমাদের অসংখ্য ইউনিট নানা রকম প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে। আর তারা কী করেছে দেখুন বলে উল্টা প্রশ্ন রাখেন। তিনি দাবি বলেন ছাত্রলীগের বিদ্রোহীদের নিয়ে তারা নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। ''

অন্যদিকে সম্প্রতি ডাকসু ভিপি নুরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের আরেক অংশের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ড. আ ক ম জামাল ছিলেন আমাদের কমিটির আহবায়ক। একটা আহবায়ক কমিটির মেয়াদ থাকে তিনমাস বা চারমাস। অথচ ওনি একবছর হয়ে গেলেও কমিটি দেয় না।

তখন আমরা মুক্তিযুদ্ধার সন্তানেরা মিলে তাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করি। মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের প্রতিষ্টাতা হিসেবে তিনি যে দাবি করে যাচ্ছেন সেটা সম্পূর্ণ ভূয়া। আসলে তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানই না। একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের পাশে দাড়িয়ে ছিলেন তাই তাকে সম্মান করে উপদেষ্টা বানায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সদস্য সচিব ছিলেন সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের ছেলে আসিফুর রহমান খান। অথচ ড. আ ক ম জামাল উদ্দিন একক সাইনে কমিটি দেয়। ওনাকে সকলে ত্যাগ করেছে।

প্রতিষ্টাতা আহবায়ক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনকে কেন বহিষ্কার করা হয়েছিল জানতে চাইলে ক্যাম্পাসলাইভকে তিনি বলেন, তিনি হটকারী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলে জানে তার মানসিক সমস্যা আছে। শিক্ষকদের সাথে ঝামেলা করেন এমনকি প্রক্টর স্যারের সাথেও মারামারি করেছেন।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর একেএম গোলাম রব্বানী ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি চর্চার কেন্দ্র। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তিক দাবিতে আন্দোলন করবে, মিছিল-মিটিং করবে, কিন্তু শৃঙ্খলাবর্হিভূত কোনো কাজ করার সুয়োগ নেই।

যারা রেজিস্টার্ড সংগঠন, তারা আসবে, কর্মসূচি পালন করবে, কিন্তু টিএসসিকে ব্যবহার করে কার্যালয় করা সুযোগ নাই। 'মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ' নামে কোনো টিএসসি ভিত্তিক সংগঠন আছে বলে আমার জানা নেই। এখানে যারা মারামারি করছে তাদের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। মারামারি তো আর এক পক্ষে হয় না । যারা এসব ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।