ব্রেকআপের বিরোধেই রুম্পাকে ছাদ থেকে ফেলে দেন বয়ফ্রেন্ড!


Published: 2019-12-08 16:24:20 BdST, Updated: 2020-01-26 15:28:35 BdST

এসইউবি লাইভঃ স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পাকে হত্যার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ব্রেকআপ নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে বয়ফ্রেন্ড আবদুর রহমান সৈকত রুম্পাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

এসময় সৈকতের কয়েকজন বন্ধুও তাকে সহযোগিতা করেন। তবে ছাদ থেকে ফেলে দেয়ার আগে রুম্পাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রুম্পার লাশ উ'দ্ধারের ঘটনায় বয়ফ্রেন্ড সৈকতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এমন সন্দেহ হচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)।

একারণে সৈকতকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদের আ'দালতে এ রি'মান্ড আবেদন করা হয়।

জানা গেছে, রুম্পার সঙ্গে প্রেমের স'ম্পর্ক ছিল আবদুর রহমান সৈকতের। সম্পর্কের ইতি টানতে চেয়েছিলেন সৈকত। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে সৈকত তার সহযোগীদের নিয়ে রুম্পাকে সিদ্ধেশ্বরীর সেই বাসার ছাদে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাকে ওই ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

রুম্পার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করছেন ডিবির রমনার জোনাল টিমের পরিদর্শক শাহ মো. আকতারুজ্জামান ইলিয়াস। ঘটনার প্রাথমিক ত'দন্তের বিষয়ে তিনি আদালতকে জানান, রুম্পা ও সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দিন দিন তাদের স'ম্পর্কে অবনতি ঘটে। গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে তারা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বাইরে দেখা করেন। তখন কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন সৈকত।

রুম্পা বারবার অনুরোধ করলেও সৈকত সম্পর্ক রাখতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে দুজনের মনোমালিন্য ও বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এর জেরে ওই দিন রাত পৌনে ১১টায় সৈকত তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রুম্পাকে ৬৪/৪ সিদ্ধেশ্বরীর বাড়ির ছাদে নিয়ে যান।

একপর্যায়ে রুম্পাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এটাই প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। একারণেই সৈকতের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডিবির ওই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। পড়াশোনার পাশাপাশি রুম্পা টিউশনি করাতেন। গত বুধবার টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পর রুম্পা। এরপর বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হন।

কিন্তু এরপর রাতে আর বাসায় ফিরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার রুম্পার মা-সহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।