স্ট্যামফোর্ড ছাত্রীর লাশ, সেই ১১তলা বিল্ডিংয়েই বয়ফ্রেন্ডের মেস!


Published: 2019-12-08 06:23:07 BdST, Updated: 2020-03-28 13:55:29 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : রহস্যময় সেই আয়েশা কমপ্লেক্স। ১১ তলা ভবনের পুরো ছাদটি অরক্ষিত। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ছাদে হাঁটাচলা করাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদের চারদিকে কোনো রেলিং নেই। মাঝখানে অনেক ফাঁকা জায়গা, সেখান দিয়ে হাঁটাচলা করলে যে কোনো সময় নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই ছাদে একটি কবুতরের খামার করেছেন আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোর মালিকের ছেলে ফেরদৌস আলী। ওই খামারের পেছন দিকে ছাদের সঙ্গে লাগোয়া একটি ছোট্ট কার্নিশ। এটি ছাদ থেকে একটু ঢালু। সেখানে সাধারণত কারও যাওয়ার কথা নয়। কারণ সেখানে দাঁড়ালে নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেই ১১ তলা ভবনের ওই ছাদ থেকেই পড়ে গিয়ে নিহত হয়েছেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্য কোন ঘটনা ঘটেছে সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। ওই ভবনেই রুম্পার বয়ফ্রেন্ড সৈকতের মেস রয়েছে। বন্ধুদের নিয়ে তিনি সেখানে থাকতেন। রুম্পার লাশ উদ্ধারের পর থেকে সেই মেস তালাবদ্ধ দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই ভবনটি আগে থেকেই রুম্পার কাছে পরিচিত ছিল। ঘটনার রাতে তিনি ওই ভবনে প্রবেশ করেছিলেন একা। তবে ছাদে তার সঙ্গে আর কে কে ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই ভবনের ছাদ থেকেই পড়ে গিয়ে নিহত হয়েছেন রুম্পা।

এদিকে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার সেই বয়ফ্রেন্ড আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা শনিবার তাকে আটক করেন। তিনি বিবিএর সাবেক ছাত্র। পুলিশ বলছে, আবদুর রহমান সৈকত রুম্পার ছেলেবন্ধু ছিলেন। পাশাপাশি অপর একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি নিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এ দুজনের বিষয়টি অফিসিয়ালি কেউ স্বীকার করেননি।

ঢাকা মাহনগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় মেয়েটির ছেলে বন্ধু স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর সাবেক ছাত্র আবদুর রহমান সৈকতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার মিন্টু রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে ওই ছাত্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হয়নি ডিবি পুলিশ।

এদিকে রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর রহস্য এখনও অজানা। হত্যা না আত্মহত্যা তা উদঘাটনে পিবিআই, ডিবি এবং সিআইডি আলাদাভাবে তদন্ত কাজ চালাচ্ছে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, দেখে মেনে হয়েছে রুম্পা ওপর থেকে পড়ে মারা গেছে। ওপর থেকে পড়ে মারা যাওয়ার আগে তাকে ধর্ষণ কার হয়েছে কি না- সেটি নিশ্চিত হতে তার শরীরর থেকে আলামত সংগ্রহ করেছি।

জানা গেছে রাজধানী ঢাকার শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। পড়াশোনার পাশাপাশি রুম্পা টিউশনি করাতেন। গত বুধবার টিউশনি শেষে বাসায় ফেরার পর রুম্পা। এরপর বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হন। কিন্তু এরপর রাতে আর বাসায় ফিরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার রুম্পার মা-সহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।