স্কুলশিক্ষক বাবার সেই ‘নিরীহ’ ছেলেটি বুয়েটে এসে ভয়ংকর!


Published: 2019-10-12 12:54:50 BdST, Updated: 2019-11-20 04:36:57 BdST

রাজশাহী লাইভ : মেহেদী হাসান রবিন। রাজশাহীল পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভার স্কুলশিক্ষক মাকসুদ আলীর একমাত্র ছেলে তিনি। বাবা মানুষ গড়ার কারিগর হলেও নিজের ছেলেকে মানুষ করতে পারেননি তিনি। এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর পাল্টে যেতে থাকেন রবিন। শেরেবাংলা হলের আবাসিক হলে উঠার পর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন তিনি। ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন তিনি তবে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন। এলাকার সেই ভদ্র ও নিরীহ ছেলেটিই বুয়েট ক্যাম্পাসে এসে ভয়ংকর হয়ে উঠেন। হলের টর্চার সেলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। তার নির্দেশেই টর্চার সেলে চলতো অমানুষিক নির্যাতন।
ক্যাম্পাসে জুনিয়রদের কাছে তিনি ছিলেন অনেকটা মূর্তিমান আতংক। সর্বশেষ বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ধরা খেয়েছেন তিনি। আবরার হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি রবিন বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে ইফতি মোশারফ সকালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিনের নাম উঠে আসে। তিনিই প্রথম আবরারকে ধরতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। গত ৪ অক্টোবর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিন শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি নির্দেশনা দেন। এতে বলা হয়, আবরার শিবির করে, তাকে ধরতে হবে। এরপর মেসেঞ্জার গ্রুপে সাড়া দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা। আবরার তখন বাড়িতে থাকায় তিনি ইফতিকে বলেন, ‘ওকে বাড়ি থেকে ফিরতে দেন।’ বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ক্রিকেটের স্টাম্প আর প্লাস্টিকের মোটা দড়ি (স্কিপিং রোপ) দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েন তিনি। তাকে মাটি থেকে তুলে আবারও পেটাতে থাকেন তারা। ঘণ্টা কয়েক পর বমি করতে শুরু করেন আবরার। তিনবার বমি করার পর নিস্তেজ হয়ে যান। পরে আরও কয়েকদফা মারধরে মারা যান আবরার।

কাটাখালি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এলাকায় খুব নিরীহ ও শান্ত ছেলে হিসেবে পরিচিত রবিন। তিনি এলাকার ছেলেদের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। রবিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সে বিষয়টিও এলাকার কেউ জানতেন না।

বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর আসাদ আরও বলেন, রবিনের দাদা ও চাচা দুজনেই জামায়াতে ইসলামির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রবিনের দাদা মমতাজ উদ্দিন জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে একবার কাউন্সিলর নির্বাচনও করেছেন। আর চাচা ইমরান আলী সক্রিয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতি করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চারটি নাশকতার মামলা রয়েছে।

আসাদ বলেন, রবিনের বাবা মাকসুদ আলী পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার ভারুয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। তবে বর্তমানে তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।

রবিনের বাবা মাকসুদ আলী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার বাবা ও ভাই এক সময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন তারা নিষ্ক্রিয়। কলেজের চাকরি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আমার ভাইকে চারটি নাশকতার মামলার আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, রবিন বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে তা বছর খানেক আগে জানতে পেরেছি। তাকে রাজনীতি না করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু শুনেনি।

ঢাকা, ১২ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।