আবরার হত্যা: মদ্যপ সেই অনিক সরকারের পরিবার বিএনপি!


Published: 2019-10-11 19:58:41 BdST, Updated: 2019-11-20 04:37:28 BdST

রাজশাহী লাইভঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে মদ্যপ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি পিটিয়েছিলেন অনিক সরকার। তার মারধর দেখে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সেই টর্চার সেলে উপস্থিত অন্যরাও ভয় পেয়ে যান। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এর আগেও তিনি অনেক জুনিয়র ছাত্রকে পিটিয়েছেন। সর্বশেষ আবরার হত্যার পর অনিক সরকারের নামটি আলোচনায় আসে। টর্চার সেলে এই অনিকই ছিলেন সবচেয়ে বেশি মারমুখী। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তার পরিবারের সদস্যরা বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

বাবা-চাচারা বিএনপি করেন। এমন একটি পরিবার থেকে বুয়েটে এসে অনিক রং পাল্টে ফেলেন। জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। আর পদ পাওয়ার পর হয়ে উঠেন বেপরোয়া। আবরার হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি অনিক সরকারের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামে। তিনি কাপড় ব্যবসায়ী আনোয়ার সরকারের ছেলে।

এছাড়া পেট্রোলপাম্প ও সারের ডিলারের ব্যবসাও রয়েছে তা। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট অনিক। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে হতবাক অনিকের পরিবারও। এসএসপি পরীক্ষার পর থেকে অনিক ঢাকাতেই লেখাপড়া করছেন। যদিও অনিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তা জানেন না তার পরিবারের সদস্যরা। মোহনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনিক যে বুয়েটের ছাত্রলীগের নেতা আমরা তা কখনোই শুনিনি।

গণমাধ্যমের খবর দেখে আমরা জানতে পারি অনিক ছাত্রলীগ করেন। অনিকের বাপ চাচারা সবাই বিএনপি করেন। তিন কিভাবে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাকে পদ দেয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি।

তবে অনিকের বাবা আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, আমি কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। তিনি বলেন অনিক রাজশাহীতে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনীতি করত না। কারো সাথে তেমন মিশতোও না। কি করে সে রাজনীতিতে প্রবেশ করলো তা জানি না।

আমরা জানি অনিক সেখানে পড়ালেখা করছে। যখন জানতে পারলাম অনিক এক ছাত্রকে হত্যা করেছে, সেই দায়ে তাকে আটক করেছে পুলিশ। আমারা অবাক হয়ে গেছি। কখনো ভাবিনি আমার ছেলে কাউকে খুন করবে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনিক সরকারের ডাক নাম অপু।

তিনি ছোট থেকেই মেধাবী। মোহনপুর কেজি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান তিনি। ২০১৩ সালে একই বিদ্যালয় হতে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন।

এরপর ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হন এবং জিপিএ ৫ পেয়ে ২০১৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। একই সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হন। তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থবর্ষের ছাত্র।

ঢাকা, ১১ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।