ছাত্রীকে জাবি শিক্ষক, ‘তোমার প্রতি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ বোধ করি’


Published: 2019-09-26 23:22:23 BdST, Updated: 2019-10-14 14:42:06 BdST

জাবি লাইভ : ‘আমি তোমার প্রতি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ বোধ করি, তোমার সঙ্গে সময় কাটাতে চাই, ঘুরতে যেতে চাই’। ছাত্রীর কাছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সানোয়ার সিরাজের আবদার এটি। নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষক জাবি ছাত্রীর কাছে এমন আরো অনেক আবদার করেছেন। আবদারে অতিষ্ট হয়ে ওই ছাত্রী এক পর্যায়ে ফেইসবুক ডিএক্টিভ করে দিতে বাধ্য হন। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। মোবাইলে একের পর এক যৌন প্রস্তাবে জাবি ছাত্রীর জীবন অতিষ্ট করে তুলেন তিনি। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মাস্টার্সের ওই ছাত্রীর অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা করাতে হয়েছে। প্রাণে বেঁচে গেলেও মানসিক যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ওই ছাত্রী। নিজ বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না ওই ছাত্রী।

জানা যায়, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ওই ছাত্রী ১৯ সেপ্টেম্বর একই বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সানোয়ার সিরাজের নাম উল্লেখ করে বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় ওই শিক্ষকের কোর্সে (জিপি-৩০৩) কম নম্বর পাই। ওই কোর্সের মানোন্নয়নের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমি কোর্স শিক্ষকের শরণাপন্ন হই। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের সাথে আমার সাক্ষাত হয়। এ সময় তিনি আমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে যে কোন প্রয়োজনে আমাকে ফোন দিতে বলেন।

মানোন্নয়ন পরীক্ষার দিন রাতে (গত বছরের ১২ মার্চ) তিনি ফোন করে পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চান। ওই রাতে তিনি আবারো মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন এবং আমার সাথে ঘোরাফেরা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। হঠাৎ শিক্ষকের এ ধরনের আচরণে আমি বিস্মিত হই। পরবর্তীতে আমি বিভাগে গিয়ে তার কাছে জানার চেষ্টা করি যে, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিলো কিনা? কিন্তু তিনি নিশ্চিত করেন যে আইডি হ্যাক নয় বরং তিনিই এই মেসেজ প্রদান করেছেন। এ সময় ওই শিক্ষক আরো বলেন যে ‘আমার প্রতি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ বোধ করেন, আমার সাথে সময় কাটাতে চান, ঘুরতে চান’। আমি ধারাবাহিকভাবে শিক্ষকের এমন আচরণে খুব বিব্রত ছিলাম। ফলে বারবার ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করছিলাম। কিন্তু তিনি রেগুলার আমাকে উত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন।

আমি এ ঘটনার জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ইচ্ছা পোষণ করি। কিন্তু আসন্ন স্নাতকোত্তর পরীক্ষার কারণে অভিযাগ না দেওয়ার জন্য অনেকে আমাকে পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় আমি তার আচরণে হতাশ হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে তিনি আমাকে আবারো কল করে ড্রেস গিফট করা, ঢাকা এবং সাভারের রেস্টেুরেন্টে খাওয়া, রাতে একসাথে ঘুরতে যাওয়া এবং তার বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় তিনি আরো কিছু অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দেন। আমি তার ধারাবাহিক অত্যাচারে মানসিক ও শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং একাধিক ডাক্তার ও মনোবিজ্ঞানীর সাহয্য নিতে বাধ্য হই।

ওই ছাত্রী আরও বলেন, এক সময় ওই শিক্ষকের কাছ থেকে আসা যৌন নিপীড়নমূলক কথাবার্তা, ফোনকল রেকর্ড ও মেসেঞ্জারের চ্যাটের প্রমাণ বিভাগের তৎকালীন সভাপতির কাছে হস্তান্তর করি। সভাপতি আমাকে সহানুভূতি জানিয়ে এসব ভুলে গিয়ে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে বলেন। বিভাগীয় সভাপতি এসব গোপন না রেখে শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমি জানিনা। তাই এবিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পত্রটি হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর নাসরিন সুলতানা। অভিযোগপত্রটি বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান প্রফেসর রাশেদা আখতার বলেন, ‘আমি অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছি। তদন্ত প্রক্রিয়াধীন আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।