বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিএনপি-জামায়াত কানেকশন ফাঁস!


Published: 2019-09-26 13:33:52 BdST, Updated: 2019-10-14 14:45:31 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত কানেকশন ফাঁস হয়ে গেছে। তিনি এখন নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচয় দিলেও একসময় ছিলেন বিএনপি-জামায়তপন্থি শিক্ষকদের নেতা। এযেন কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মতো অবস্থা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের কারণে এখন তার পদ নিয়েই টেনশন করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি বিএনপি-জামায়াত সমর্থক শিক্ষকদের প্যানেল সোনালি দলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনিও নিজেকে পরিবর্তন করেছেন। নিজেকে আওয়ামী লীগ দাবি করে শীর্ষ নেতাদের কানেকশনে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে যোগ দেন। একই কানেকশনে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভিসি হওয়ার পর তিনি অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তবুও তিনি কোন ক্ষমতাবলে টিকে আছেন এনিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিয়োগে দুর্নীতি, ভর্তি বাণিজ্য, প্রকল্পে দুর্নীতি, বিউটি পার্লার ব্যবসা, গোবর ব্যবসা, শিক্ষার্থীদের কটূক্তি, কথায় কথায় বহিষ্কার ইত্যাদি অভিযোগ আছে ওই ভিসির বিরুদ্ধে। সর্বশেষ নিজের পদ বাঁচাতে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগও উঠেছে। এখন শুধু বশেমুরবিপ্রবি নয়, দেশের বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও যেকোনো মূল্যে তিনি পদ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

এদিকে ভিসির অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনেক আগে থেকে তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত শনিবার বর্তমান পরিস্থিতি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। এর পরিপ্রেক্ষিতে বশেমুরবিপ্রবির প্রকৃত ঘটনা ও বর্তমান অবস্থা জানাতে ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

উল্লেখ্য, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী? পত্রিকায় মন্তব্য প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য এই প্রশ্নটি ফেসবুকে লিখেছিলেন বশেমুরবিপ্রবির আইন বিভাগের ছাত্রী এবং একটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া। তাতেই ক্ষেঁপে যান ভিসি। তিনি ওই ছাত্রীকে শোনান কুরুচিপূর্ণ কথা। ফোনে ওই ছাত্রীকে ভিসি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী, তা তোর আব্বার কাছে শুনিস! গেছে কোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে? এটা (ল ডিপার্টমেন্ট) আমি খুলছিলাম বলেই তো তোর চান্স হইছে, নইলে তুই রাস্তা দিয়ে ঘুরে বেড়াতি। বেয়াদব ছেলে-মেয়ে। তিন দিনের বাছুর তুই আবার জানতে চাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী?’ ওই ঘটনার জের ধরেই জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ অবস্থায় ভিসির পদত্যাগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন চলছে। শেষতক ভিসির ভাগ্যে কী ঘটে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।