রাবির লতিফ হলে গড়ে উঠেছে অপরাধীদের সিন্ডিকেট


Published: 2019-09-01 18:17:54 BdST, Updated: 2019-09-19 15:23:58 BdST

রাশেদ রাজন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক হল নবাব আব্দুল লতিফ। অনেক আগে থেকেই বেশ কয়েকটি ঘটনার জন্য এ হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। বিভিন্ন ধরণের চুরি, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সিট বাণিজ্য, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, হলের ছাদে-কক্ষে মাদক সেবন ও হত্যাকান্ড এসব বিষয়গুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে সমালোচনার স্বীকার হয় এ হলটি।

অনুসন্ধান বলছে, রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি বড় সিন্ডিকেট এসকল কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রেখেছে। তবে বরাবরের মত এ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি প্রশাসন। যেন তাদের কিছুই করার নেই। ভুক্তভূগীদের নিরবে সহ্য করে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না।

সূত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেট শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রই চুরি করে না হলের গুরুত্বপূর্ণ মালপত্র ও যন্ত্রপাতি চুরির অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি হল বন্ধের আগের দিন গত ৭ আগস্ট লতিফ হলের পশ্চিম-উত্তর ব্লকের পশ্চিমের জানালার গ্রিলসহ ২ ইঞ্চির ২০ ফিট লম্বা ৪টি লোহার পাইপ চুরি করে এই চক্রটি। এই জিনিসগুলোর বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা।

হল সংশ্লিষ্টদের কাছে থেকে জানা গেছে, এবিষয়ে গত ৮ আগস্ট মতিহার থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করে হল প্রাধ্যক্ষ ড. একরাম হোসেন। এছাড়াও ঘটনার পরের দিন হলে জরুরী মিটিং ডেকে আবাসিক শিক্ষক ড. আব্দুল হালিমকে আহ্বায়ক ও ছালেকুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনের ১৩ নং গার্ডের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী জানান, গত ৭ আগস্ট সন্ধ্যার পরেই হালকা অন্ধকার নেমে আসলে একটি ভ্যানগাড়িতে করে লোহার পাইপগুলো সাজাতে থাকে কয়েজন ব্যাক্তি। পরে সেখানে গিয়ে তিনি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা লতিফ হলের ছাত্র বলে পরিচয় দেয় আর সেই প্রহরীকে কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়। পরে ভয় পেয়ে ঘটনা¯’ল থেকে চলে আসেন তিনি। তবে প্রহরী পাইপবাহী সেই ভ্যানটিকে জোহা হলের সামনে দিয়ে সোজা রাস্তা হয়ে যেতে দেখেন।

লতিফ হল সূত্রে ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, হলের জিমনেশিয়ামে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্ট প্রশাসন যোগ করলেও একে একে সব জিনিসগুলো চুরি হয়ে যায়। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের শিক্ষার্থী ও প্রভোস্ট নিজেও।

মতিহার থানায় অভিযোগপত্রের দায়িত্বে থাকা এসআই মমিনুল হক বলেন, ‘তদন্তের কাজ চলছে আমরা দুই-তিন দিনের মধ্যে রির্পোট জমা দিব।’

২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হলের ড্রেন থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওইদিন বিকালে লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হলের সংশ্লিষ্টরাসহ বিভিন্ন সূত্র বলছে লিপু হত্যার সাথে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে।

অনুসন্ধান বলছে, গত এক বছরে আবাসিক শিক্ষর্থীদের রুমের জানালা ও ভ্যান্টিলেটর ভেঙ্গে ৫টি ল্যাপ্টপ চুরি হয়। ভুক্তভূগীদের মধ্যে শরিফ আহমেদ একজন। শরিফ জানান, প্রায় ১০ মাস আগে তার রুমের (৩৬১) ভ্যান্টিলেটর ভেঙ্গে একটি ল্যাপটপ চুরি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবাব হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, মাঝের মধ্যেই এই হল থেকে ফোন ও ল্যাপটপ চুরি হয়। কখনই চোরদের দেখা ও ধরা যায় না। বেশির ভাগ সময় ছাত্ররা টিউশনি বা প্রয়োজনীয় কোন কাজে হলের বাইরে গেলে সুযোগ বুঝে চুরি করে চোররা। কিন্তু হলের কেউ জড়িত না থাকলে বহিরাগত চোররা কিভাবে বুঝবে যে কোন রুমে ল্যাপটপ আছে এবং কোন সময় রুমে কেউ থাকে না।

এদিকে ঐসিন্ডিকেটের সাথে কে বা কারা জড়িত সে বিষয়ে হলের কর্মচারী-কর্মকর্তা, আবাসিক ছাত্র ও হল প্রাধ্যক্ষ জানলেও তাদের নাম প্রকাশে কেউ রাজি হননি।

এবিষয়ে নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. একরামুল হোসেন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চিতের জন্য আমি ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হলের সার্বিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। পুলিশ প্রশাসন অপরাধীদের ধরার জন্য তৎপর আছে।


ঢাকা, ০১ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।