বিশ্বকাঁপানো সেই বিজ্ঞানীও চবির শিক্ষক নিয়োগে অযোগ্য!


Published: 2019-04-13 14:08:29 BdST, Updated: 2019-06-18 03:23:08 BdST

আশরাফুল ইসলাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্র ড. সাজিদ আলী হাওলাদারের কথা মনে আছে নিশ্চই। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ফেজারভারিয়া আসমতি নামের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি ব্যাঙ আবিস্কার করে হৈ-চৈ ফেলে দেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। একারণে তাকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানীর খেতাব দেয়া হয়। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেন। ইতালির বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নাল জুট্যাক্সার ২৭৬১ নম্বর ভলিউমে তার প্রথম স্বীকৃতির খবর ছাপা হয়।

সাজিদের ওই কৃতিত্বে আকৃষ্ট হয়ে বেলজিয়ামের ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের জীববিজ্ঞানের প্রবীণ প্রফেসর ফ্রাঙ্কি বসুইট তার অধীনে মাস্টার্স করার আমন্ত্রণ জানান। তবে সেখানে তার যাওয়া হয়নি। পরে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা প্রফেসর ইয়োহা মারিলা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাজিদকে মাস্টার্স বাদ দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে নিয়ে নেন। ফলে বয়স ৩০ পেরোনোর আগেই সাজিদ পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ড. সাজিদের অধীনে এখন অনেক নামকরা ছাত্র মাস্টার্স করছেন। এতোকিছুর পরেও বিশ্বকাঁপানো সেই ড. সাজিদকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগই দেয়া হয়নি। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে আবেদন করলেও তাকে ভাইভায় ডাকা হয়নি। তিনি মাস্টার্স করেননি এমন অযুহাত দেখানো হয়েছে! যার অধীনে বিদেশে সেরা সেরা শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স করছেন তাকে নাকি মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে হবে। এমন আজব নিয়মের বেড়াজালে ড. সাজিদ আলীর বাংলাদেশে শিক্ষকতার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অথচ ছোটবেলা থেকেই ড. সাজিদ আলীর স্বপ্ন ছিল তিনি শিক্ষক ও গবেষক হবেন। গবেষকের স্বপ্ন পূরণ হলেও তিনি বাংলাদেশে শিক্ষকতার সুযোগ পাচ্ছেন না

জানা গেছে, ড. সাজিদ আলী চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে আবেদন করেন। তবে মাস্টার্স না থাকায় ভাইভায় তাকে ডাকা হয়নি। বর্তমানে ফিনল্যান্ডের জিভাসকিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের অধীনে বিবর্তনবাদ শাখায় গবেষক পদে নিযুক্ত আছেন তিনি। সেখানে তার অধীনে অনেক মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে হলে তাকে মাস্টার্স করতে হবে, বিষয়টি অবাক লাগছে ড. সাজিদ আলীর।

ড. সাজিদ জানান, বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য গোটা ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশি। তাই এখানে গবেষণার অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে একটি প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর বানাতে চান। যেখানে প্রাণিবৈচিত্র্যের নমুনা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, নতুন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সন্ধানে মৌলিক গবেষণা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন জাদুঘর রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় ড. সাজিদকে রাশিয়া একাডেমি অব সায়েন্স এবং চায়না একাডেমি অব সায়েন্স এমন একটি জাদুঘর বানানোর জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না মেলায় সেটি সম্ভব হয়নি। পরে ব্যাঙ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ২০০৯ সালে ব্যাঙমেলার আয়োজন করেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে এই মেলা বন্ধ করে দেয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির অভয়ারণ্য তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। সেক্ষেত্রেও তিনি পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি।

জানা যায়, বর্তমানে সাজিদের আবিস্কৃত ব্যাঙের সংখ্যা চারটি। এমনকি তিনি জাকেরানা নামে প্রাণীর নতুন একটি গণেরও নামকরণ করেছেন। এর মধ্যে 'জাকেরানা ঢাকা' আবিস্কারের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। এ ব্যাপারে নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের দ্বাদশ পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া গবেষণার জন্য ২০১৩ সালে ফিনল্যান্ডের 'হেলসিঙ্কি কালচারাল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩' লাভ করেন ড. সাজিদ।

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।