পরিবারের বড়ছেলে মেধাবী ছাত্র তুর্য রাবিতে এসে পাল্টে যায়!


Published: 2019-04-08 12:24:32 BdST, Updated: 2019-12-15 19:44:59 BdST

নীলফামারী লাইভ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তুর্য রায় ২০১৪ সালে ডোমার বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেছিলেন। ক্লাসে বরাবরই তিনি প্রথম সারিতে ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এসে তুখোড় সেই মেধাবী ছাত্রটির জীবন বদলে যায়। অসৎসঙ্গে পড়ে মদের নেশা পেয়ে বসে তাকে। যে ছাত্রটি স্কুল-কলেজে বই নিয়ে ব্যস্ত থাকতো সেই ছেলেটিই রাবিতে এসে আড্ডা আর হৈ-চৈয়ে সময় কাটাতে শুরু করে। সেই অসৎসঙ্গে পড়ে তিনি এখন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। অতিরিক্ত মদপান করে মারা গেছে এই মেধাবী ছাত্র।

জানা গেছে, তুর্য রায়ের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহরে। পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের ছোট রাউতা চাকধা পাড়া গ্রামের পুনেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে তিনি। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তুর্য বড়। ছোট বোন নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার বাবা ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন, এখন বাড়িতে জমাজমি দেখা শোনা করেন, মা কাজল রায় মাহিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

তুর্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজশাহী নগরের উপরভদ্রা এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন। অতিরিক্ত মদপানের পর রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাবির দুই ছাত্র। একই ঘটনায় রুয়েটের রাকিব হাসান চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বেঁচে গেছেন অল্পের জন্য। নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন বিভাগের মুহতাসিম খুলনার দৌলতপুরে উপজেলার কবির আলম ছেলে। অর্থনীতি বিভাগের তূর্য রায় নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ছোট রাউতরা গ্রামের পুর্নেন্দ্র রায়ের ছেলে। তারা দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। ছাত্রদের দাবি আদায়ের নানা আন্দোলনে তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তাদের এভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের অনেকেই বিব্রতবোধ করছেন। যদিও তারা এবিষয়ে কোন মুখ খুলছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রফ্রন্টের এক কর্মী জানান, শনিবার ওই ছাত্ররা একসঙ্গে মদ খাওয়ার পর ছাত্রফ্রন্টের এক নেতাকে ফোন করে জানান তারা অসুস্থ বোধ করছেন। পরে তাদের মেসে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলে কিছুটা সুস্থবোধ করেন তারা। পরে গভীর রাতে তারা আবারও অসুস্থবোধ করেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে ভোরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোরে একজন মারা যান। অন্যজন মারা যান সকাল ৮ টার দিকে। একই ঘটনায় অসুস্থ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিব হাসান সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ওই ঘটনায় আটকরা হলেন, ইফতেখায়ের হোসেন ওরফে সুমন (৩৭)। তিনি রাজপাড়া থানার সিপাইপাড়া এলকার আব্দুর রওফের ছেলে, মো. লুৎফর রহমান (৩৮) কাশিয়াডাঙ্গা কোট বরসি এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে, জনি শেখ ওরফে শুভ (২৪) বোয়ালিয়া বড়কুঠি এলকার বাচ্চু শেখের ছেলে। এর আগে নগরীর জিরোপয়েন্টে এলাকার স্টার মেডিকেল হল ওষুধের দোকানের মালিকসহ আরও দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা, ০৮ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।