থিসিসের বাহানায় ছাত্রীকে একাকী ডেকে নিতেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক!


Published: 2019-04-05 01:48:20 BdST, Updated: 2019-05-24 15:38:31 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মো. আক্কাস আলী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নানা বাহানায় ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন করেন। তার আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে বিভাগের ছাত্রীরা অতিষ্ট। থিসিসের নামে, এমনকি পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার নামে তিনি ছাত্রীদের ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে নানাভাবে হয়রানি করেন ছাত্রীদের।

দীর্ঘদিন ধরে এভাবে তিনি ছাত্রীদের হয়রানি করলেও এবার তিনি পড়েছেন বিপাকে। প্রতিবাদী দুই ছাত্রী তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে এক ছাত্রী অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক আক্কাস আলী থিসিসের বাহানায় তাকে একাকী কক্ষে ডেকে নিতেন। সেখানে থিসিসের বাইরে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতেন ওই শিক্ষক। তিনি মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলতেন যেগুলোতে তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে যেতেন। কিন্তু মান সম্মানের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারতেন না।

সিএসই বিভাগের ওই ছাত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিভাগীয় প্রধানের যৌন হয়রানিতে অতিষ্ট হয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের এক মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় তিনি তার ফলাফল নিয়ে শংকার মধ্যে রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে সিএসই বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, বিভাগীয় প্রধান মো. আক্কাস আলী আমার থিসিসের সুপারভাইজার ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে আমরা তিন ছাত্রী মিলে একটি গ্রুপ গঠন করে কাজ শুরু করি। চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থিসিসের কথা বলে ওই শিক্ষক প্রায় প্রতিদিন তার কক্ষে ডেকে নিতেন। অফিসের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও তিনি সন্ধ্যায় তার কক্ষে দেখা করতে বলতেন। তিনি একদিন আমাদের ৩ ছাত্রীকে তার কক্ষে রাত ১১ টা পর্যন্ত রেখেছিলেন। ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে গল্প করতে চাইতেন। এসময় থিসিসে নম্বর বাড়ানোর কথা বলে আমাকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন ও নানাভাবে যৌন হয়রানি করেছেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ফেল করিয়ে দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। আমাদের এক গ্রুপ মেম্বার অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে নিয়ে অপর ছাত্রী বাড়ি চলে যান। এসময় ওই শিক্ষক তার সঙ্গে আমাকে একা দেখা করতে বলেন। বেলা তিনটায় আমি যখন তার সঙ্গে দেখা করতে যাই তখন ডিপার্টমেন্টে কেউ ছিল না। তিনি আমাকে দীর্ঘক্ষণ তার কক্ষে বসিয়ে রেখে থিসিস নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে তিনি আমার সঙ্গে ঘণিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় আমি তাকে সতর্ক করলেও তিনি ঘণিষ্ট হওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করতে থাকেন। এসময় তিনি অশ্লীল ও আপত্তিকর কথাবার্তা ও আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে থাকেন যেগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তিনি আমাকে নম্বর বাড়িয়ে দেয়া হবে প্রলোভন দেখান। এসময় আমি তাকে বলি আমার নম্বর লাগবে না থিসিসও লাগবে না আমাকে যেতে দিন। এই বলে আমি কান্না শুরু করলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন আমাকে ফেল করিয়ে দেয়ার। অবশেষে আমি কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়।

ওই ছাত্রী বলেন, এঘটনার পর থেকে নানাভাবে তাকে ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন ওই শিক্ষক। এতে করে মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলাফল নিয়েও তিনি শংকার মাঝে আছেন।

এদিকে যৌন হয়রানির ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আক্কাস আলীকে বার বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নাকি মিমাংসা হয়ে গেছে। যৌন হয়রানির প্রমাণ পেলেও বিষয়টি তিনি সমাধান করে দিয়েছেন।

ঢাকা, ০৪ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।