‘অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করিনি, তবে স্বাধীনতার স্বপক্ষে কাজ করেছি’


Published: 2019-03-30 12:25:06 BdST, Updated: 2019-10-14 21:58:56 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের সন্তান বলে তোপের মুখে রয়েছেন ভিসি প্রফেসর ড. ইমামুল হক। এর জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দমানো যাচ্ছে না। তারা ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ভিসি নিজেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। তিনি ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র থাকলেও যুদ্ধে যাননি। তার বাবাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ছিলেন সরকারি চাকরিজীবি। এমন পরিবারে থেকেও তিনি শিক্ষার্থীদের রাজাকারের সন্তান বলেন এটা মেনে নেয়া যায় না। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বাইরে থেকে ভিসি অন্যদের রাজাকারের সন্তান বলার কে?

এদিকে ভিসি প্রফেসর ড. ইমামুল হক ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, আমি ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করিনি এটা ঠিক তবে সবসময় স্বাধীনতার স্বপক্ষে কাজ করেছি। পাক বাহিনীর বন্দুকের সামনে আমাকে বেশ কয়েকবার পড়তে হয়েছে। মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছি। রাজাকাররা আমাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলাম আমি। ১৯৭১ সালে ঢাবির মাস্টার্সের ছাত্র ছিলাম। তবে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া হয়নি। স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আমার অবস্থান ছিল। তিনি ঢাবির নীল দলের শিক্ষকদের আহবায়ক ছিলেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রসেফর ড. এস এম ইমামুল হক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে মন্তব্য করেন। এঘটনার পর থেকে ফুঁসে উঠেন শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসির পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ২৮ মার্চ বিকেল ৫ টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা হলে থাকার সিদ্ধান্ত নিলে বেকায়দায় পড়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিতে নানা কৌশল হাতে নেয়। তাতেও কোন কাজ হয়নি।
শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন। শুক্রবার রাতে তারা ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল ও ভিসির কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

এমন পরিস্থিতিতে ভিসি তার অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের তিনি রাজাকারের সন্তান বলেননি বলেও উল্লেখ করেন বিবৃতিতে। তার বক্তব্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। শুক্রবার রাত ১০টায় ইমেইল বার্তায় জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ রুমি সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ভিসি তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে ভিসির বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমার প্রদত্ত বক্তব্যের একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আমি এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে রাজাকার সম্বোধন করিনি বরং যারা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের এহেন কার্যক্রম রাজাকার সদৃশ বলে মন্তব্য করেছি।

উক্ত শব্দটি আমি কোনোভাবেই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। এরপরেও যদি আমার উক্ত বক্তব্যে কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলমান রাখার স্বার্থে আমি সব শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার তারা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। বিকেলে তারা প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম করবেন বলে জানিয়েছেন। ভিসি প্রফেসর ড. ইমামুল হক তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও সেটা শিক্ষার্থীরা কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দু:খ প্রকাশের নামে ভিসি কৌশলী বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তারা ভিসির এমন দুঃখ প্রকাশকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন ভিসি ক্ষমা প্রার্থনা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে করা হয়েছে। তিনি আমাদের রাজাকারে সন্তান বলেছিলেন। এখন তিনি বলছেন তা তিনি বলেননি। তার বক্তব্য নাকি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি সত্যকে আড়ালের চেষ্টা করছেন। তাকে নি:শর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যেতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই অন্যথায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে সাংবাদিকদের।

ঢাকা, ৩০ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।