যেভাবে অল্পদিনেই কোটিপতি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র!


Published: 2019-03-04 00:47:06 BdST, Updated: 2019-08-18 19:49:02 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : মামুন মিয়া ওরফে মাহবুব। পড়াশোনা করেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগে। তার পড়াশোনা এখনও শেষ হয়নি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র ইতিমধ্যে কোটিপতি হয়ে গেছেন। আর এরজন্য তিনি একটু বাঁকা পথ বেছে নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে তিনি ওই টাকা কামিয়েছেন। তিনি প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা বলে প্রমাণ মিলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে। ইতিমধ্যে তিনি সিআইডির জালে আটক হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত শাখা। গ্রেফতারের পর জেরার মুখে মামুন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (১ মার্চ) তিনি এব্যাপারে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল হোতাদের পাশাপাশি প্রধান প্রধান সহযোগিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, মামুন মিয়া এর আগে গ্রেফতার হওয়া চক্রটির দুই মূল হোতা ইব্রাহীম মোল্লা ও আইয়ুব আলী বাঁধনের প্রধান সহযোগী ছিলেন। গ্রেফতারের পর দুই দিনের পুলিশি হেফাজতে ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিয়েছে মামুন। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানিয়েছে, ২০১৬ সালে আইয়ুব আলী বাঁধনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা একই বাসায় থাকতেন। বাঁধনের মাধ্যমে ২০১৭ সালের শুরুর দিকে ইব্রাহীম মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ হয় মামুনের। এসময় তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে জড়িয়ে যান। মামুন আরও জানিয়েছে, ২০১৬ ও ১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ এবং ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইস পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস করে ৬ শিক্ষার্থীর ভর্তিতে সহায়তা করে সে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরির পরীক্ষা, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সোনালী ব্যাংক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, তিতাস গ্যাস, পরিবার পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রায় ৭০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। জালিয়াতির এই কাজে ইব্রাহীম মোল্লার আরও কিছু সহযোগির নাম জানিয়েছে মামুন। তারা হলেন, শহিদুল ইসলাম শহীদ, মিঠুন, ঢাকা কলেজের মহসিন, আজাদ মাহমুদ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়সাল, রবিউল ইসলাম রবি এবং জাহিদ হাসান জয়।

ঢাকা, ০৪ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।