ট্রেনে দুই পা হারিয়ে বিসিএসের স্বপ্ন ফিকে জবি ছাত্রীর!


Published: 2019-01-29 12:28:42 BdST, Updated: 2019-04-23 08:42:42 BdST

পঞ্চগড় লাইভ : রুবিনা আক্তার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে পড়াশোনা করেন তিনি। স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন তিনি। স্বপ্ন মেলে ধরার আগেই একটি দুর্ঘটনা তার সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। ট্রেনে কেটে দুই পা হারিয়েছেন জবির শেষ বর্ষের ওই ছাত্রী।

জানা গেছে, মেধাবী ছাত্রী রুবিনা টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। শুধু তাই নয় তিনি প্রাপ্ত বৃত্তির টাকায় ছোট ভাইকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার খরচও দিতেন। এছাড়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধি বোনের চিকিৎসার খরচ চালাতেন পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত গ্রামের মেধাবী ছাত্রী রুবিনা। তার বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের জংলীপাড়ায়। একটি দুর্ঘটনা সব স্বপ্ন থেমে গেছে। চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন রুবিনা। ভবিষ্যৎ কী হবে এনিয়ে শংকায় রয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ জানুয়ারি মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে বাড়ি যাচ্ছিলেন রুবিনা। কমলাপুর রেল স্টেশনে মাথা ঘুরে পড়ে যান রুবিনা। এ সময় ওই লাইন দিয়ে ট্রেনের একটি ইঞ্জিন ঘোরানোর সময় রেল লাইনে কাটা পড়ে রুবিনার দুটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সাহায্যে তাকে তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতালে নেয়ার পর ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান রুবিনা। এরপর জবির সহপাঠিদের সহযোগিতা আর কিছু মানুষের সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চলে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে রুবিনা প্রানে বেঁচে গেলেও তার দুই পা চিরতরে হারান। আর এর মধ্য দিয়ে হারিয়ে যায় তার জীবনের সব স্বপ্ন। সারাবেলা কাটে বিছানায় শুয়ে বসে। অপলক চেয়ে থাকা আর বোবা কান্নাই যেন তার একমাত্র নিয়তি। রুবিনাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে হাঁটা চলার জন্য যে দুটো কৃত্রিম পা দেয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত ভারী হওয়ায় সেটা তিনি ব্যবহার করতে পারছে না। তাই সহজে ব্যবহারের জন্য তার নতুন একজোড়া কৃত্রিম পা প্রয়োজন।

দিনমজুর বাবা রবিউল ইসলাম মারা গেছেন বছর তিনেক আগে। মা টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছেন। সহায় সম্পদ বলতে বাড়ি ভিটেসহ পৌনে দুই বিঘা জমিই সম্বল। ভাই বোনদের মধ্যে রুবিনা মেজ। রুবিনার বড় বোন জুলেখা মানসিকভাবে অসুস্থ আর ছোট ভাই রুবেল ইসলাম রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন।

রুবিনার পরিবার জানায়, রুবিনা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবৃত্তির টাকা আর টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। সেই টাকা থেকে ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচও দিতেন রুবিনা। সম্প্রতি সেই শিক্ষাবৃত্তিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যায় রুবিনা। এছাড়া সে শারীরিকভাবে অসুস্থও ছিল। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি। এর মধ্যেই নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল রুবিনা। ইচ্ছে ছিল ভঙ্গুর পরিবারের হাল ধরার। কিন্তু দুর্ঘটনায় তার স্বপ্ন ভেঙে গেছে।


ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।