আ'লীগের ইশতেহার নিয়ে সন্দেহ-সংশয় কোটা আন্দোলনকারীদের!


Published: 2018-12-19 02:19:35 BdST, Updated: 2019-03-25 22:56:22 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় প্রকাশ করেছে কোটা আন্দোলনের নেতারা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দুই নেতা এনিয়ে তাদের মন্তব্য দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, ভালো লেগেছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ব্লু-ইকোনমি, তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, শিক্ষার সকল স্তরে মান বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু চমৎকার প্রস্তাবনা রয়েছে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন এবং জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা গড়ে তোলা হবে বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে। এমন প্রতিটি দাবিই আওয়ামী লীগ চাইলে তাদের দুই মেয়াদের যে কোন এক মেয়াদেও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করতে পারতো, কিন্তু করেনি। সুতরাং আগামীতে ক্ষমতায় এলে কতটুকু করবে তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় রয়েছে। তাছাড়া ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের ইশতেহারে না দেখে হতাশ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একই সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, আওয়ামীলীগের কাছে আমাদের মূল দাবি ছিল, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে ছাত্রদের নামে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আমাদের স্বাভাবিক জীবনে চলাচলে সহায়তা করা। কিন্তু সে বিষয়ে তারা ইশতেহার কোনকিছু উল্লেখ করেনি। তাদের ইশতেহার তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বেকারত্ব দূরীকরণেরও কথা বলা হয়েছে, গ্রামকে শহরে রুপান্তর করবে এ বিষয়েও বলেছে, যেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর ক্ষেত্রে কোটা সংস্কারের একটি যৌক্তিক সমাধানের বিষয়ে বক্তব্য আসলে আরো ভালো লাগতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দলটি। সেই সঙ্গে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। অঙ্গীকারের কথা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে মেধা ও দক্ষতা বিবেচনায় রেখে বাস্তবতার নিরিখে যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রায় পাঁচ কোটি ৩০ লাখ তরুণদের উদ্দেশ্যে দলটির ইশতেহারে বলা হয়, সরকার ক্ষমতায় গেলে তরুণরা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন এবং তরুণদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির জন্য আবেদন করার আহ্বান জানাতে পারবে। ২০২৩ সাল নাগাদ অতিরিক্ত এক কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে নতুনভাবে এক কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার মানুষ শ্রমশক্তিতে যুক্ত হবে। শতেহারে তরুণ সমাজকে উৎপাদনমুখী করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারে দেয়া হয়েছে ২১ অঙ্গীকার।

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।