ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতি, ডজন খানেক শিক্ষার্থী নজরদারিতে


Published: 2018-12-02 12:47:56 BdST, Updated: 2018-12-13 06:08:38 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : প্রতিবছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত একটি বিশাল চক্র। প্রতিবছর ওই চক্রের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যান অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা। জালিয়াতি ঠেকাতে মাঠে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না তাদের জালিয়াতি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অন্তত ৩৭ জন রয়েছে সিআইডির গোয়েন্দা নজরদারিতে। এদের মধ্যে অবৈধ উপায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ২৬ শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সিআইডির দীর্ঘ অনুসন্ধানে অবৈধভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একটি বড় গ্রুপকে চিহ্নিত হয়েছে। ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছাড়াও টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন কিনে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০০। যদিও গত এক বছরে এমন ৫৯ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি, যাদের মধ্যে ১৬ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিকে আরও ২৬ জন জালিয়াতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০১৫-১৬ সেশনের ১৩ জন, ২০১৬-১৭ সেশনের ৬ জন এবং ২০১৭-১৮ সেশনের সাত শিক্ষার্থী রয়েছেন।

জানা যায়, নতুন তালিকা অনুযায়ী ২০১৫-১৬ সেশনে প্রশ্ন পেয়ে ভর্তি হয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের আবদুল ওয়াহিদ মিশন এবং ইছহাক আলী ইছা, বাংলা বিভাগে এম ফাইজার নাঈম সাগর, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের লাভলুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির মাসুদ রানা এবং শাবিরুল ইসলাম সম্রাট, ইসলামিক স্টাডিজের সাঈদ হাসান নেহাল, সমাজ কল্যাণ ও গবেষণার সৌভিক সরকার, হাসিবুর রশিদ, রাকিবুল হাসান, মারুফ হাসান খান গালিব, মো. মেহেদী হাসান ও জাকারিয়া আল শাহরিয়ার পলাশ।

২০১৬-১৭ সেশনের প্রশ্ন পেয়ে ভর্তি হওয়া নতুন ছয় জন হলেন- কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারের আবু মাসুম, অর্থনীতি বিভাগের জান্নাত সুলতানা, সমাজকল্যাণ ও গবেষণার ইসরাত জাহান ছন্দা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আল আমিন পৃথক, শিক্ষা ও গবেষণার জাহিদুল ইসলাম ইছমী ও সৈয়দ আবু আহমেদ রোমান।

অন্যদিকে ২০১৭-১৮ সেশনের আইন বিভাগের মো. রিজন আহমেদ, একাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেমের মো. রাকিব হাসান, শিক্ষা ও গবেষণার শারমিন আক্তার এবং ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের ইফতেখার আলম জিসান, ম্যানেজমেন্টের রায়হান রহমান শাকিল, মার্কেটিংয়ের মহুয়া আফরোজ নিঝুম ও মাহবুব আলম সিদ্দিকী সম্রাটকে খুঁজছে সিআইডি।

এর বাইরে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্য প্রণয় পান্ডে, জাহাঙ্গীর আলম, সাইদুর রহমান সাইদ, উৎপল বিশ্বাস, সৈয়দ শাকিল, খালিদ হাসান, মাহবুব মামুন, মোহাইমিনুল ইসলাম বাঁধন, মো. সানোয়ার, তাজুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সোহানকে সিআইডি খুঁজছে।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, গত এক বছরে প্রশ্নফাঁসের বিষয় নিয়ে পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা, ০২ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।