বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুর রেলস্টেশনে ঘুমানোর ছবি ভাইরাল!


Published: 2018-10-23 08:23:00 BdST, Updated: 2018-11-22 17:28:12 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে ভর্তিচ্ছুর রেলস্টেশনে ঘুমানোর ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছবিটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি বড় ফেইসবুক গ্রুপে ছবিটি শেয়ার হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা ভর্তিচ্ছুর ছবি এটি।

এদিকে ছবিটি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এনিয়ে রাবি ছাত্র নিয়ামুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামে একটি গ্রুপে ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, এই ছবিটার ক্যাপশনে লেখা; রেলস্টেশনে রাত কাটাচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। ব্যাপারটি কতটুকু সত্য তা যাচাই না করে ফেসবুকে শেয়ারের পর শোয়ার হচ্ছে। গতববারের তুলনায় এবার পরিক্ষার্থী অনেক কম। আর দুদিনে পরীক্ষা নেওয়ায় রাতে থেকে যাওয়া পরিক্ষার্থীর চাপটাও কম। তারপরেও আমাদের প্রতিটি হলের মসজিদ, টিভিরুম, গেমস রুম, সেন্ট্রাল মসজিদে সুন্দর ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এদিকে হল আর মেসের রুমগুলোতেও থানা-জেলা সমিতির বড়ভাইরা আয়োজন করে রেখেছেন। ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার, ফেস্টুন টাঙিয়ে নাম-নাম্বারের লিস্ট দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অনলাইন-অফলাইনে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। তারপরেও কাউকে স্টেশনে রাত কাটাতে হবে, এটা অন্তত বিশ্বাস করার মত না। আর এটাকে ভাইরাল করে আমরা নিজেরাই ছোট হচ্ছি। বড় বড় গ্রুপে ছবিটি পোস্ট হয়ে ইতিমধ্য আমাদের মেন্টালিটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারও শো-অফের নিমিত্তে তোলা একটা ছবি আমার রাবিয়ান ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে ধূলিসাৎ করবে, তা অন্তত সহ্য করা কঠিন। কেউ লাইক কামানো কিংবা হিমু সাঁজতে গিয়ে ছবি পোজ দিলো। আর আমরা দিক/বেদিক যাচাই না করে দিলাম ভাইরাল। সন্মানটা কাদের যায়?

ওই পোস্টের নিচে অনেকেই কমেন্ট করেছেন এর মধ্যে Arif Mahmud নামে একজন লিখেছেন, তোমাদের আবেগ বেশি। পরীক্ষা দিতে যারা আসবে তাদের রাখার দায়িত্ব কী বিশ্ববিদ্যালয়ের বা এর ছাত্রছাত্রীদের? যারা আসবে তাদের ব্যাবস্থা তাদেরই করতে হবে। দেশের অন্য ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিতে গেলে কখনো এইভাবে নিজের রুম হল মসজিদ মেস কেউ ছেড়ে দেয়? না। তাহলে তোমরা এত আবেগে লাফাচ্ছো কেন। যে ছাত্র একটা থাকার জায়গা ম্যানেজ করতে পারেনি এটা কিছুটা তার নিজেরও ব্যার্থতা। এর দায় নিজের ঘারে নেবার কিছু নেই।

Nurjahan Eva লিখেছেন, একদম রাইট আমাদের ইউনিভার্সিটিরর শিক্ষার্থীরা অনেক আন্তরিক, এখানে নিজে রুম ছেড়ে দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। এমন কি আমরা যারা হলে থাকতাম না তবু বান্ধবিদের বলে রুম ঠিক করে দিতাম। কিন্তু সত্য মিথ্যা যাচাই বাছাই না করে বিভ্রান্তি মুলক পোস্ট দেওয়া, বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই না।

আখতারুজ্জামান রিপন লিখেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এত জনের জায়গা দিতে পারে আর একে জায়গা দিতে পারে না! এই সাধারণ ব্যাপারটা যদি কেউ না বুঝে তাহলে কিছু বলার নাই। এই ভর্তি ইচ্ছুকদের একটু জায়গা করে দেয়ার জন্য ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভাই বোন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। ছবিটা দেখে আমার মনে হচ্ছে প্রচার করার জন্য করা হয়েছে।

শারমিন আক্তার লিখেছেন, আমরা যাদের জন্য রুম ছেড়ে দিয়ে হলের মাঠে বসে বসে মশার কামড় খেয়ে রাত পার করছি, তারা যদি এসব প্রচার করে আমাদের ক্যাম্পাস এমনকি যেটা হয়তো দু'একদিন পর তাদের নিজেদের ক্যাম্পাস হবে, তার সম্মান নষ্ট করে তাহলে আর কিছু বলার নেই।শুধু এটুকুই বলবো- প্রকৃতি কখনও অবিচার করে না। তুমি/তোমারা যাকে অসম্মান করবে, নিজেরা ও কখনও তার কাছে সম্মান আশা করো না।

MD Tarek Aziz লিখেছেন, ভাই উনি আমার রুমে থাকার কথা ছিল, লোকাল ট্রেনে আসছে তাই রাত ৩ টায় নাকি পৌছালো। আমার ম্যাসে রাত ১২ টায় গেইট বন্ধ করে দেয়। ম্যাস মালিককে অনুরোধ করলে উল্টো জাটকি মারে, ইডিয়ট, ননসেন্স বলে, যেন আমরা জীবনে ইংলিশ পড়ি নাই, আর কোথাও রাখার জন্য বেশ কয়েকজনকে কল দিলাম, কিন্তুু পাইনি। তাই বলেছি ওখানে কোথাও থাকো, সকালে আসো। তাই এই কাজটা করে দিলো। কি আর করার ভাই।

এদিকে ভর্তিচ্ছুদের অভিযোগ রাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের শিকার হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে যেসব মোবাইল নম্বর দিয়ে ভর্তিচ্ছুদের সাহায্যের কথা বলা হয়েছে সেগুলো দিয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

আরিফুর রহমান নামে এক ভর্তিচ্ছু ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমি এক মোবাইলে ফোন করলে একরাতের জন্য ১ হাজার টাকা দাবি করে তাই আমি বাধ্য হয়ে মসজিদে রাত কাটিয়েছি।

ভর্তিচ্ছু সাইফুল ইসলাম হিমেল বলেন, পত্রপত্রিকায় খবরে দেখলাম রাবিতে ভর্তিচ্ছুর গলায় ছুরি ধরে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ওই ভর্তিচ্ছুরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দেয়া মোবাইলে কল করে থাকার জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তাদের সবকিছু কেড়ে নেয়া হয়েছে। যে ছেলেটিকে ফোন করা হয়েছিল সেই ছেলেই নাকি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েও কাজ হয়নি। তাহলে কোন ভরসায় মোবাইল নম্বরের ওপর নির্ভর করবো। তাই আমি নিজেই নিজের ব্যবস্থা করেছি।

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।