বিশ্ববিদ্যালয়ে বান্ধবী নিয়ে দ্বন্দ্ব, ১৬ জনের কিলিং মিশন!


Published: 2018-09-16 23:29:08 BdST, Updated: 2018-12-13 19:52:04 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : একবছর আগে সাভারে বহিরাগতদের হাতে খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র সিফাত। কিলিং মিশনে অংশ নেন ছাত্রসহ ১৬জন। বান্ধবীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গুলিতে সিফাত নিহত হন। যদিও যাকে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত তার সঙ্গে সিফাতের কোন সম্পর্ক ছিল না। বিনা কারণে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর ওই হত্যার ঘটনায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এতে আসামি করা হয়েছে ১৬জনকে যাদের মধ্যে মাত্র ১ জন জেলে আছেন। ৫ জন জামিনে আছেন আর ১০ জন পলাতক রয়েছেন। নিহত সিফাত সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ী ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। সিফাত ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। গত ২৮ জুলাই চাঞ্জল্যকর ওই মামলার তৃতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা জেলা ( উত্তর) গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো: আবুল বাসার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। গত বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) আদালত তা গ্রহণ করেন। এর আগে এই হত্যা মামলাটি সাভার মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করে।

এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে হত্যার সাথে জড়িত ১৬ জনের নাম পুলিশের নিকট আসে। এদের মধ্যে ৬ জন গ্রেফতার হওয়ার পর ৫ জন জামিনে আছেন। বাকী ১০ জন পলাতক রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে পুলিশ জানায়, গত বছরের ৯ এপ্রিল সিটি ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাহেদ তার বান্ধবী মাহির সাথে বসে আনারস খাচ্ছিলেন। এসময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মামুন, বাপ্পি ও শাওন সেখানে বসে থাকা শাহেদ ও মাহির সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ ব্যাপারে সিনিয়ার ছাত্রদের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়া হয়। অসৌজন্যতার জন্য ওই ছাত্রদের কানে ধরে উঠ বস করানো হয়। এতে অপমানিত হয়ে পরদিন আসামি ছাত্র মামুন, বাপ্পি, জাহিদুল, এজানুর, আতিক হোসন বিটু তাদের বহিরাগত সহযোগী সোহেল মোশারফ, মো: আশ্রু , রিফাত, নাহিদ, সাঈদ বাবু, রাসেল, জুবায়ের, সালমান, আবু বকর সিদ্দিক ও মাসুম মোল্লা অস্ত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের মাঠে অবস্থান নেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সাথে বহিরাগতদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্য়ায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা লাঠি সোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে কুসুম মোল্লা শাওন ও অশ্রু পিস্তল দিয়ে এলোপাথারী গুলি করতে থাকে। এতে কয়েকজন ছাত্রের হাতে পায়ে গুলি লাগলেও দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্র সিফাত উল্লাহর বুকে গুলি লাগে। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহপাঠিরা তাকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ সময় আহত ছাত্রদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তদন্তে এ মামলায় মোট ২৫ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

সিফাতের বাবা মো: মাহফুজুর রহমান জানান, অভিযোগপত্রটি বুধবার আদালত গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, তার ছেলে হত্যা মামলার সব আসামিই চার্জশিটে এসেছে। কিন্তু মাত্র একজন জেলে থাকা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১৬ জনের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করলেও তাদের ৫ জনই জামিনে আছেন। তিনি সকল আসামি গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের দাকি জানান।

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।