জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ, সন্দেহ ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়া!


Published: 2018-08-01 19:03:02 BdST, Updated: 2018-08-19 23:54:06 BdST

লাইভ প্রতিবেদক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র আরিফুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। বাসা থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজের পর ওই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি পানিতে ডুবে মারা গিয়েছেন এনিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে আরিফুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিবাহিত ওই ছাত্রীর স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে আরিফুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি ওই ছাত্রীরর স্বামী দেশে এসেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই জবি ছাত্র আরিফুলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার কেরানীগঞ্জের ভাড়া বাসা থেকে টিউশনির উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মোবাইল ফোনটিও ছিল বন্ধ। ওই দিনই বুড়িগঙ্গায় এক নৌকার মাঝির কাছে মেলে তার বইয়ের ব্যাগ, মানিব্যাগ ও মোবাইল সেট। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বুড়িগঙ্গাতেই পাওয়া গেলে ওই ছাত্রের লাশ।

সুরতহালে শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নৌকা তলিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে আরিফুলের। তবে সহপাঠী ও স্বজনরা এতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়েই এক ছাত্রীর সঙ্গে আরিফুলের সম্পর্ক ছিল। বিবাহিত ওই ছাত্রীর স্বামী বিদেশ থাকতেন। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। আরিফুলের মৃত্যুর পেছনে প্রেমের সম্পর্কের জের থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ।

স্বজন ও সহপাঠীরা বলছেন, আরিফুল বুড়িগঙ্গা নদীর দক্ষিণপাড়ে কেরানীগঞ্জের ইস্পাহানি মহল্লায় একটি মেসে থাকতেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে মেস থেকে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে টিউশনির উদ্দেশ্যে বের হন তিনি। সেদিন সকাল ১১টার দিকে সদরঘাট টার্মিনালের ৩নং পন্টুনের লঞ্চের পেছনে পানিতে তার বইয়ের ব্যাগ, মোবাইল, মানিব্যাগ ভাসতে দেখে নৌকার এক মাঝি তা উদ্ধার করেন।

আরিফের ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাশেদুল ইসলাম জানান, ভাইকে তারা খুঁজে না পেয়ে ওই রাতে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। দু'দিন বুড়িগঙ্গায় ডুবুরিদল অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার বিকেলে সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটের পাশে নদীতে তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঢাকা জেলা পুলিশের কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার সমকালকে বলেন, আরিফুলের লাশ উদ্ধারের পর দেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন চোখে পড়েনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য ওই ছাত্রের লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর এটি হত্যা নাকি অন্যকিছু তা জানা যাবে বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

ঢাকা, ০১ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।