ইবি শিক্ষকের নিপীড়নে মানসিক ভারসাম্যহীন ছাত্রী!


Published: 2018-07-06 22:23:39 BdST, Updated: 2018-07-16 10:43:22 BdST

ইবি লাইভ : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। স্বপ্নের এ ক্যাম্পাসে নিজেকে মেলে ধরার প্রত্যয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তামান্না (ছদ্মনাম)। দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে না উঠতেই তার রঙীন স্বপ্নগুলো ফিকে হয়ে আসতে শুরু করেছে। বিভাগের শিক্ষকের ললুপ বৃষ্টি পড়েছে তার দিকে। কারণে অকারণে এসএমএস, গভীর রাতে ফোন করাসহ নানাভাবে যৌন হয়রানির কবলে পড়েন ওই ছাত্রী। পাত্তা না য়োয় শুরু হয় নিপীড়ন। ওই নিপীড়নে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পথে ওই ছাত্রী।

এ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্ম নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইবির ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

একই বিভাগের এক ছাত্রীর জীবন অতিষ্ট করে তুলেছেন তিনি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে কোর্স পরীক্ষায় ফেল করানো, অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে কারণে অকারণে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সহপাঠীদের। এ অবস্থায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় ওই ছাত্রীকে পরিবারের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

সহপাঠী এবং হলের শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১ জুলাই ভুক্তভোগী ছাত্রী তামান্না (ছদ্মনাম) ৩য় সেমিস্টারের ভাইভা পরীক্ষা শেষে কাঁদতে কাঁদতে হলে ফেরেন। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন এবং অস্বাভাবিক আচারণ করতে থাকেন।

পরের দিন তামান্না আবারো ওই শিক্ষকের কাছে পরীক্ষার বিষয়ে কথা বলতে যান। তখন ওই শিক্ষক তাকে কক্ষে ডেকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন বলে তামান্না তার বন্ধুদের জানান। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রী মানসিক ভারসম্যহীন হয়ে পড়লে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপরও তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় হল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর ১৬ সেপ্টেস্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের আয়োজনে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে যৌন নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসাকরীর কাছে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অপর ছাত্রী ফারজানা (ছদ্মনাম) অভিযুক্ত শিক্ষক সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে গভীররাতে ফোন কারা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ম্যাসেজ পাঠানোসহ যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। একইসাথে ওই ছাত্রীর অভিযোগের সাক্ষী হিসেবে তামান্নার (বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন) নাম উল্লেখ করেন। পরদিন ভিসি ওই বিভাগের সব শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন এবং সঞ্জয়কে এ বিষয়ে তিরষ্কার এবং সতর্ক করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে পরীক্ষায় ফেলের ভয়ে কোন ছাত্রী মুখ খুলতে পারেন না বলে জানান একাধিক ছাত্রী।

এদিকে শিক্ষক সঞ্জয় কুমার ফারজানার অভিযোগের পেছনে তামান্নার ইন্ধন রয়েছে ভেবে ওই দুই ছাত্রীকে তার কক্ষে ডেকে বিভিন্ন হুমকি দেন। পরবর্তীতে ফারজানার সঙ্গে সঞ্জয় কুমারের কোন এক অদৃশ্য কারণে সম্পর্ক ঠিক হয়ে যায়। এরপর থেকে সঞ্জয় কুমার তামান্নাকে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ফারজানার মাধ্যমে সবসময় নজরে রাখার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে ২য় সেমিস্টার পরীক্ষায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তামান্নাকে ১২৩ ও ১২৫ নং কোর্সে ফেল করানো হয়েছে এমন অভিযোগ ওঠে। তামান্না কোর্সে ফেল করার বিষয়ে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে দেখে সঞ্জয় কুমার তাকে রুমে ডেকে আবারও বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন।

এ বিষয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সঞ্জয় কুমার সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ভিসি স্যার আমাকে মেয়েদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন। আমি স্বীকার করছি, ওই মেয়েকে আমি ভাইভা বোর্ডে একটু বেশি প্রশ্ন করেছি, তবে আমি কোন ছাত্রীকে ফেল করাইনি। ফেল করানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ সেখানে সেকেন্ড পরীক্ষকের খাতা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

এবিষয়ে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের আহবায়ক প্রফেসর ড. নাসিম বানু সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি সত্য হলে এটি অত্যন্ত দু:খজনক। এটি অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পাস হবে ছাত্রীদের অভয়ারণ্য। এখানে যৌন নিপিড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স জারি রয়েছে। তবে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা, ০৬ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।