শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে


Published: 2018-06-09 22:42:33 BdST, Updated: 2018-10-21 04:07:12 BdST

মো: রকিবুল হক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবির) এডমিশন রিলেটেড সবচেয়ে বড় গ্রুপ সাস্ট এডমিশন কেয়ারের এডমিন হওয়ায় মাঝে মাঝেই একটা কমন রিকুয়েস্ট আসে, সেটা হল ভাইয়া কিভাবে প্রিপারেশন নিব।

যাই হোক, অবশেষে তোমাদের জন্য কিছু লেখার সময় বের করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আমি আমার লিখায় চেষ্টা করব ৩ টা আলাদা আলাদা বিভাগের (সায়েন্স, আর্টস, কমার্স) শিক্ষার্থীদের জন্যই নোটটা তৈরি করতে। নোটটি ১০০% ফ্রী এবং পাবলিক তাই তোমরা ইচ্ছা মত শেয়ার বা বন্ধুদের মেনশন করতে পারো।

ভর্তিযোগ্যতা :
ভর্তির জন্য মোট দুইটি ইউনিট A এবং B ইউনিট এ ভাগ করা হয়। A ইউনিটে রয়েছে আর্টসের সকল সাবজেক্টসহ বিবিএ। এই ইউনিটে সায়েন্স আর্টস কমার্স সবাই এপ্লাই করতে পারবেন।

B ইউনিটকে B1 & B2 তে ভাগ করা হয়। B1 ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সকল সায়েন্সের সাবজেক্ট গুলোর জন্য। আর B2 শুধু আরকিটেকচারের জন্য (আলাদা করে ড্রয়িং এক্সাম দিতে হয়। বি১ এর এক্সামের পর আলাদা করে ড্রয়িং পরীক্ষা হয়)।

তবে কেউ যদি B2 তে এপ্লাই করে তবে তাকে আর B1 এ এপ্লাই করতে হয় না। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি ড্রয়িং এ খারাপ করে আর B1 এর পরীক্ষায় ভাল করে তবে সে B1 এর সাবজেক্ট গুলোতে ভর্তি হতে পারবে। এই ইউনিটে শুধু মাত্র সায়েন্স এর স্টুডেন্ট & ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করা স্টুডেন্টরাই এপ্লাই করতে পারবে।

A ইউনিটে ভর্তি যোগ্যতা :
যে বছরে ভর্তি পরীক্ষা দিবে অবশ্যই সে বছর বা তার আগের বছরে এইচ এস সি পাশ করতে হবে। যেমন তুমি যদি ২০১৮ সালে পরীক্ষা দাও তবে তোমাকে অবশ্যই ২০১৭/২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে হবে। এসএসসি & এইচএসসিতে নুন্যতম ৩সহ সব মিলিয়ে ১০ এর মধ্যে মিনিমাম ৬.৫ পেতে হবে। O লেভেলে কম্পক্ষে ৩ টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৫ টি বিষয়ে পাশ এবং A লেভেলে ২টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৩ টি বিষয়ে পাশ করতে হবে।

A ইউনিটের আসন সংখ্যা:

B ইউনিটে ভর্তি যোগ্যতা:
যে বছরে ভর্তি পরীক্ষা দিবে অবশ্যই সে বছর বা তার আগের বছরে এইচ এস সি পাশ করতে হবে। যেমন তুমি যদি ২০১৮ সালে পরীক্ষা দাও তবে তোমাকে অবশ্যই ২০১৭/২০১৮ সালে এইচ এস সি পরীক্ষা দিতে হবে। এসএসসি এবং এইচএসসি তে নুন্যতম ৩ সহ সব মিলিয়ে ১০ এর মধ্যে মিনিমাম ৭.৫ পেতে হবে।

O লেভেলে কম্পক্ষে ৩ টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৫ টি বিষয়ে পাশ এবং A লেভেলে ২টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৩ টি বিষয়ে পাশ করতে হবে।

বি:দ্র: বিশেষ বিশেষ সাবজেক্ট এর জন্য কিছু বিশেষ বিশেষ সাব্জেক্টের রিকোয়ারমেন্ট থাকে। যেমন কেউ যদি এইচএসসিতে ফিজিক্স আর ম্যাথে ৩.৫ এর নিচে পায় তবে সে ভর্তি পরীক্ষায় যতই ভাল করুক ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হতে পারবে না।

নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা :
৪. পরীক্ষা পদ্ধতি এবং মান বন্টন :
জিপিএ স্কোর এবং ভর্তি পরীক্ষার নাম্বার মিলিয়ে মোট ১০০ মার্কস থাকবে। যার মধ্যে জিপিএ স্কোর থাকবে ৩০। এবং ভর্তি পরীক্ষায় ৭০ মার্কস থাকবে। ৩০ মার্কস হিসেব করা হবে তোমার এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ থেকে।

যারা চলতি বছরেই এইচএসসি এক্সাম দিয়েছ (ফার্স্ট টাইমার) তাদের জন্য তোমার মোট জিপিএ (SSC+HSC) কে গুন করা হবে ৩ দিয়ে। আর যারা আগের বছর এক্সাম দিয়েছো তাদের মোট জিপিএ (SSC+HSC) কে গুন করা হবে ২.৭ দিয়ে। আর যারা ডিপ্লোমা করে আসবা তাদের এসএসসির সাথে ডিপ্লোমাতে প্রাপ্ত সিজিপিএ যোগ হবে। এক্ষেত্রে সিজিপিএ ৫ এ কনভার্ট করা হবে,এবং এর পর SSC এর সাথে যোগ হবে।

যেমন: মনে করো,
এসএসসিতে জিপিএ- ৪.৫
এইচএসসিতে জিপিএ- ৪.৯
তাহলে তুমি যদি রেগুলার ছাত্র হয়ে থাকো (ফার্স্ট টাইমার) তবে তোমার স্কোর হবে,
(৪.৫+৪.৯)*৩= ২৮.২ আউট অফ ৩০
আর যদি আগের বছরে এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়ে থাকো( সেকেন্ড টাইমার) তবে তোমার জিপিএ স্কোর হবে,
(৪.৫+৪.৯)*২.৭= ২৫.৩৮ আউট অফ ৩০

বি:দ্র: অনেকেই কনফিউজড হয়ে যায় সেকেন্ড টাইমারের ডেফিনেশন নিয়ে। মনে রাখবে সেকেন্ড টাইমার তারাই যারা চলতি বছরের আগের বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। অর্থাৎ তুমি যদি ২০১৭ তে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে থাকো আর ২০১৮ এ সাস্টে এডমিশন দিতে আসো তবে তুমি সেকেন্ড টাইমার। এক্ষেত্রে তুমি আগের বছর ভর্তি পরীক্ষা যদি নাও দিয়ে থাকো তবুও তুমি সেকেন্ড টাইমার।

বাকি ৭০ মার্কসের বন্টন বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন। প্রতিটি পরীক্ষায় ৭০ টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি ঠিক উত্তরের জন্য ১ মার্ক্স পাওয়া যাবে। এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২০ মার্ক্স কাটা যাবে।

A ইউনিট : এপ্লাই করতে পারবে সায়েন্স, আর্টস, কমার্স সকলেই। সকল বিভাগের জন্য পরীক্ষার মান বন্টন দেয়া হল।

সায়েন্স :
ইংরেজী- ২০
বাংলা- ১০
পদার্থ বিজ্ঞান- ১০
রসায়ন- ১০
গণিত/জীববিজ্ঞান- ১০
সাধারণ জ্ঞান- ১০
মোট : ৭০
আর্টস :
ইংরেজী- ২০
বাংলা- ১০

অর্থনীতি, পৌরনীতি, যুক্তিবিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যান, ইতিহাস এবং ইসলামের ইতিহাস, সাধারণ জ্ঞান - ৩০
মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত ১০
মোট: ৭০

কমার্স:
ইংরেজী- ২০
বাংলা- ১০
হিসাব বিজ্ঞান,ব্যাবসায়নীতি ও প্রয়োগ, সাধারণ জ্ঞান ৩০
মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত ১০
মোট: ৭০

B ইউনিট :
ইংরেজি- ১০
পদার্থবিজ্ঞান- ২০
রসায়ন- ২০
গণিত- ২০
মোট : ৭০

বি:দ্র: যারা বি ২ (আর্কিটেকচার) তে এক্সাম দিতে চাও তাদের জন্য আলাদা করে ১ ঘন্টা ড্রয়িং এবং এব্যাপারে সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা দিতে হবে। মার্কস থাকবে ৩০. যারা ডিপ্লোমা করে সাস্টে পরীক্ষা দিতে চাও তাদেরও ওই সাব্জেক্টগুলোতেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে ভর্তির জন্য আলাদা কিছু রিকোয়ারমেন্ট লাগে।

ইংরেজি, ইকোনোমিকস ও আর্কিটেকচারে ভর্তির জন্য স্পেশাল রিকোয়ারমেন্ট

বাছাই প্রক্রিয়া :
A এবং B ইউনিটের জন্য আলাদা ভাবে মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। মেরিট লিস্টে থাকার নুন্যতম যোগ্যতা ১০০(জিপিএ স্কোর+এক্সামে প্রাপ্ত নম্বর) তে মোট ৪০ মার্ক্স পাওয়া।এর মানে এই নয় যে ৪০ পেলেই তোমার চান্স হবে। এটাকে বলতে পারো পাশ মার্ক্স ৪০। কেউ যদি এর নিচে মার্ক্স পায় তবে সে কোন ভাবেই ভর্তি হতে পারবে না (কোটা ধারীদের জন্যও এই শর্ত প্রযোজ্য)।

প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে :
বি-১ ইউনিট :
এটাই মূল পর্ব। মূলত এজন্যই নোটটা লিখছি। যারা এডমিশন দিতে চাও তাদের আমি মূলত দুইভাগে ভাগ করেছি। ফার্স্ট টাইমার (যাদের হাতে ৩-৪ মাস সময় আছে) সেকেন্ড টাইমার (যাদের হাতে ১ বছর সময় আছে)

ফার্স্ট টাইমার :
১) আসলে তোমরা অনেক বড় হয়েছো তোমরাই খুব ভাল করে জানো কিভাবে পড়া উচিৎ। তবুও সামান্য গাইডলাইন দেয়ার জন্য বলছি, তোমাদের এখন টেক্সট বুক পড়ার সময় আর নেই। এখন সময় বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি+ইঞ্জিনিয়ারিং এ যে সকল প্রশ্ন এসেছে সব খুব মনোযোগ সহকারে সলভ করা।

মনে রাখবে এটাতে তুমি হয়ত ডাইরেক্ট কোন প্রশ্ন কমন পাবেনা তবে তোমার বেজ অনেকটা শক্ত হবে। বুঝতে পারবা তোমাদের দুর্বলতা গুলো। কোন ইউনিভার্সিটির প্রশ্ন পড়া শেষ হলে সাথে সাথে পুনরায় আরেকবার সেই প্রশ্ন গুলো রিভিশন দিবা। তাহলে বুঝবা কোন প্রশ্ন গুলো পড়া সত্বেও বার বার ভুল করছো।

২) এখন নতুন করে কিছু পড়ার দরকার নেই। মনে রাখবে ৫০% মার্ক্স পেলেই তুমি খুব ভাল সাব্জেক্টে চান্স পেয়ে যাবা এখানে। তাই যা জানো তাই যদি ১০০% ঠিক করে আসতে পারো তবে খুবই ভাল করতে পারবা এক্সামে।

৩) ফিজিক্সে সাস্টে সাধারণত ম্যাথমেটিক্যাল টার্ম বেশি থাকে তাই প্রতিটা অধ্যায় সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখবে। মনে রাখবে তোমার যে ম্যাথগুলো কঠিন লাগে সেই টপিক থেকেই প্রশ্ন হবে। তাই যদি পারো এরকম টপিক কিছু দেখে যাবা। আর থিউরি যেগুলো আসে সেগুলো ব্যাসিক লেভেলের প্রশ্ন হয়। তাই ছোট ছোট পয়েন্ট গুলোও ছেড়ে যাবা না।

৪) সাস্টের ম্যাথমেটিক্স কি আসে সেটা তো সবাই এতদিনে জেনেই গেছো সবাই। আমি নিজেই ম্যাথে খুব বাজে ছিলাম বাট যেহেতু ব্যাসিক লেভেলের প্রশ্ন হয় ম্যাথে সেজন্য অনেকখানি এডভান্টেজ পেয়েছিলাম এক্সামে আর সবচেয়ে ভাল হয় এই ম্যাথ অংশটাই। যারা এখনো ম্যাথ নিয়ে হতাস তাদের হতাশার কিছুনেই। দেখবা অটোম্যাটিক ম্যাথমেটিশিয়ান হয়ে যাবা সবাই এক্সাম হলে (নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি)।

অনেক ম্যাথ ক্যালকুলেটরে সলভ করা যায়। চেষ্টা করো এগুলা যাতে কোনভাবেই ভুল না হয়। এক্সাম হলে মিনিমাম ২টি ক্যালকুলেটর নিয়ে যাবে। ইন্টিগ্রেশন সলভ করতে বেশি সময় লাগে ক্যালকুলেটরে তাই একটা ক্যালকুলেটর বিজি থাকলে আরেকটা দিয়ে কাজ করবে।

৫) কেমিস্ট্রি পার্ট খুব একটা কঠিন হয়না। তবুও অন্যান্য ইউনিভার্সিটির প্রশ্ন থেকে বেশ কঠিন হয়। সময় নিয়ে পড়তে হবে। ম্যাথমেটিক্যাল টার্মগুলো ভাল করে সলভ করবে। বিক্রিয়াগুলো কিভাবে ঘটে কেন ঘটে সেটা ভাল করে শিখে নেবে। বই বা গাইড থেকে অনেক টেকনিক পাবে যেগুলো এপ্লাই করলে অনেক অল্প পড়েই অনেক কিছু মনে রাখতে পারবে। এগুলো যত পারো শিখে নেবে। আর হ্যাঁ সাস্টে যে কেমিস্ট্রিতে ভাল করে তার চান্স হয় নিশ্চিত। তাই এখানে ভাল করা জরুরি অনেক।

৬) ইংরেজি নিয়ে কেউই কথা বলে না। আমিও খুব বেশি বলবো না কারণ ইংরেজিতে সবাই এভারেজ (৫-৬) মার্কস পায়। তবে যদি ইংরেজিতে একটু ভাল করতে পারো তবে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে যেতে পারবে। সো ইংরেজিতে উত্তর যদি ছেড়ে আসো তবে চান্স পাওয়া টাফ হবে।

সেকেন্ড টাইমার :
১) তোমাদের সামনে অনেক সময়। কিন্তু এটা ভেবে পড়াশোনা ছেড়ে বসে থাকলে বিশ্বাস করো নেক্সট টাইমেও তোমার কোথাও চান্স হবে না। এজন্য প্রতিদিন এটলিস্ট ২-৩ ঘন্টা তোমাকে অবশ্যই পড়তে হবে। খেয়াল করো আমি এখানে প্রতিদিন কথাটি বোল্ড করে দিয়েছি। এর মানে অবশ্যই তোমাকে প্রতিদিন পড়তে হবে।

একদিন ৬ ঘন্টা পড়ে পরের দিন আর পড়বানা এমন করলে চান্স পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে। আর হ্যাঁ ঠিকমত ২-৩ ঘন্টা পড়াই যথেষ্ট। অনেককেই দেখেছি অনেক পড়াশোনা করেও এডমিশনে ভাল করে না। এর মূল কারণ সে নিজের সময়কে এফিসিয়েন্টলি ইউজ করতে পারে না। তাই আমার ফিলোসোফি হল অমনোযোগী হয়ে ১০-১২ ঘন্টা পড়ার চেয়ে মনযোগী হয়ে ২ ঘন্টা পড়া বেটার।

২) সেকেন্ড টাইমারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটা হয় সেটা হল তাদের কনফিডেন্ট লেভেল একেবারেই কমে যায়। এর অনেক কারণ আছে, যেমন বাসা থেকে সব সময় চান্স না পাওয়ার জন্য বকাঝকা করা, বন্ধুদের ভাল কোথাও চান্স হয়েগেছে দেখে হতাশা, কোচিং/প্রাইভেটে মার্কস কম পাওয়া ইত্যাদি।

এ জন্য আমার সাজেশন হল তুমি তোমার ফোকাস শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ করে ফেল। সেটা হল তোমার ইমপ্রুভমেন্ট। প্রত্যেকদিন প্রতিটা ওয়ার্ড পড়ার সাথে সাথে তোমার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছো সেটা বিশ্বাস রাখো। নিজের সাথেই নিজে কম্পিটিশনে লেগে যাও। প্রতিদিন ঘুমের আগে আয়নার সামনে গিয়ে বলো আজকের তুমি কালকের তোমার চেয়ে বেটার। কনফিডেন্ট ফিরে আসবে।

৩) পড়াশোনার ব্যাপারে বললে বলবো তুমি সেকেন্ড টাইমার তোমাকে অবশ্যই ফার্স্ট টাইমারদের চেয়ে বেশি জানতে হবে। কারণ তোমার সামনে সুযোগ একটাই। মিস হয়ে গেলে তুমি পিছিয়ে যাবা। তাই সিলেবাসের কোন কিছুই বাদ দেয়া যাবেনা। প্রতিদিন এটলিস্ট এক টা সালের প্রশ্ন সলভ করবে (যেকোন ইউনিভার্সিটির)।

সলভ করা মানে কিন্তু এন্সার মুখস্থ করা না। সলভ করা মানে ব্যাপারটা সম্পর্কে তোমার আইডিয়া ক্লিয়ার থাকা। মনে রাখবে সাস্টে কোন প্রশ্ন রিপিট হয় না। তাই মুখস্থ করে এখানে চান্স পাওয়া অসম্ভব।

৪) টার্গেট রাখবে ফার্স্ট টাইমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই তোমার সিলেবাস যাতে শেষ হয়ে যায়। এতে করে তুমি অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তাদের তুলনায়। আর যদি কোথাও কোচিং/প্রাইভেট পড়ে থাকো তবে সেখানে নিয়মিত হবে। আর হ্যাঁ অবশ্যই কোন পরীক্ষা মিস করা যাবে না। সব পরীক্ষায় শু্ন্য পাইলেও মিস দিবানা। যত বেশী পরীক্ষা দিবে ততবেশি তোমার বেসিক স্ট্রং হবে। বাসায় এসে প্রতিটা পরীক্ষার প্রশ্ন আবার সলভ করবে।

৫) বিষয়ভিত্তিক সাজেশনের জন্য “ফার্স্ট টাইমার” প্যারার ৩,৪,৫,৬ গুলো পড়ে নাও।

সবার জন্যই কিছু কমন সাজেশন :
প্রত্যেকটা ইউনিভার্সিটির বিগত সালের সকল প্রশ্নগুলো ভাল করে সলভ করে নাও। এক্সামে মোট ৩ ধরনের প্রশ্ন হয়। এধরনের প্রশ্ন সবাই পারে। এই প্রশ্ন ঠিক করার মধ্যে সেরকম কোন সার্থকতা নেই। তবে ভুল করলে চান্স পাবার চান্স অনেক কমে যায়। সাস্টে এরকম প্রশ্ন খুব কম হয়।

এই ধরনের প্রশ্ন সবাই পারে না। আসলে এই প্রশ্ন গুলোই তোমার চান্স ভ্যারি করে। যে এ প্রশ্ন গুলোর সঠিক সঠিক উত্তর দিতে পারে তাদের ভার্সিটিতে চান্স হয়ে যায়। সাস্টে এধরনের প্রশ্নই বেশি থাকে।

এধরনের প্রশ্ন খুব কম সংখক শিক্ষার্থীই সলভ করতে পারে। এই প্রশ্নগুলো সলভ করতে শুধু বইগুলোতে ভাল দক্ষতা থাকলেই চলবেনা থাকতে হয় কিছু জিনিয়াস কোয়ালিটি। এ প্রশ্নগুলো তারাই সলভ করতে পারে যাদের নাম এডমিশনে টপ লিস্টে থাকে। সাস্টে এধরনের প্রশ্নও খুব বেশি দেখা যায় না।

বুঝতেই পারছো যদি মাথা ঠান্ডা রেখে সহজ সহজ প্রশ্নগুলো সলভ করতে পারো তবেই চান্স নিশ্চিত। একবার ভেবে দেখো যাস্ট চান্স পেতে এক্সামে তোমাকে ৩৫ পেতে হবে। আর সময় পাচ্ছো ৯০ মিনিট।

মানে একটা প্রশ্ন সলভ করার জন্য সময় পাবে প্রায় ১৫৫ সেকেন্ড। এর মধ্যে ১ম টাইপের প্রশ্নগুলো সলভ করতে টাইম এতটা লাগবে না। মানে যদি শুধু চান্স পেতে চাও তবে একটা প্রশ্ন সলভ করতে সময় পাবে প্রায় ৩ মিনিট। একবার ভেবে দেখ, মাত্র ৯০ মিনিটে যদি তুমি তোমার সেরাটা দিতে পার তবে চান্স পাওয়া খুব কঠিন নয়।

৭. কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর :
প্রশ্ন ১: ভাইয়া আমার এসএসসিতে জিপিএ এত, এইচএসসিতে এত আমি কি সাস্টে এক্সাম দিতে পারবো?
উত্তর: এ ইউনিটে ভর্তি যোগ্যতা:
যে বছরে ভর্তি পরীক্ষা দিবে অবশ্যই সে বছর বা তার আগের বছরে এইচএসসি পাশ করতে হবে। যেমন তুমি যদি ২০১৮ সালে পরীক্ষা দাও তবে তোমাকে অবশ্যই ২০১৭/২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে হবে। এসএসসি & এইচএসসিতে নুন্যতম ৩সহ সব মিলিয়ে ১০ এর মধ্যে মিনিমাম ৬.৫ পেতে হবে। O লেভেলে কমপক্ষে ৩ টি বিষয়ে B গ্রেডসহ ৫ টি বিষয়ে পাশ এবং A লেভেলে ২টি বিষয়ে B গ্রেডসহ ৩ টি বিষয়ে পাশ করতে হবে।

বি ইউনিটে ভর্তি যোগ্যতা :
যে বছরে ভর্তি পরীক্ষা দিবে অবশ্যই সে বছর বা তার আগের বছরে এইচ এস সি পাশ করতে হবে। যেমন তুমি যদি ২০১৮ সালে পরীক্ষা দাও তবে তোমাকে অবশ্যই ২০১৭/২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে হবে। এসএসসি এবং এইচএসসিতে নুন্যতম ৩ সহ সব মিলিয়ে ১০ এর মধ্যে মিনিমাম ৭.৫ পেতে হবে। O লেভেলে কম্পক্ষে ৩ টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৫ টি বিষয়ে পাশ এবং A লেভেলে ২টি বিষয়ে B গ্রেড সহ ৩ টি বিষয়ে পাশ করতে হবে।

প্রশ্ন ২: ভাইয়া আমার জিপিএ এত আমার জিপিএ স্কোরে ৩০ কত থাকবে?

উত্তর: যারা ফার্স্টটাইম এডমিশন, (তোমার এস এস সি জিপিএ + তোমার এইচএসসি জিপিএ) ৩ যারা সেকেন্ড টাইম দিচ্ছ তাদের, (তোমার এসএসসি জিপিএ + তোমার এইচএসসি জিপিএ) ২.৭ রেজাল্ট যেটা আসে সেটাই তোমার জিপিএ স্কোর (গত বছরের নোটিশ অনুযায়ী)

প্রশ্ন ৩ : ভাইয়া সাস্টে কত পেলে অমুক সাব্জেক্ট / চান্স পাবো?
উত্তর : ১০০ তে ৯৯ পেলেও যে তোমার চান্স হবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই। কারণ বাকি সবাই যদি ১০০ ই পায় তবে? তাই কত পেলে চান্স হবে তা বলা সম্ভব নয়। তবে সাধারণত সাস্টের প্রশ্ন বেসিক লেভেলের হয় তায় মুটামুটি ৪৫-৫০% মার্কস তুলতে পারলে (শুধু এক্সামে) চান্স হবে এটা বলা যায়। তবে ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে কিছুই বলা যায় না।

প্রশ্ন ৪: ভাইয়া আমি অমুক কোচিংয়ে ক্লাস করছি, এখন জিপিএ খারাপ তাই সাস্ট টার্গেট । এত কম সময়ে প্রিপারেশন নেয়া সম্ভব?

উত্তর: বেসিক ঠিক থাকলে মাত্র ১৫-২০ দিনেও ফুল প্রিপেয়ার্ড হতে পার। কিন্তু শুধু সাস্টে এক্সাম দিবে তাই শুধু এটার প্রিপারেশন নেয়া বোকামি। সকল ভার্সিটির জন্য প্রিপারেশন নাও তবে পছন্দের তালিকায় সাস্টকে কোথায় জায়গা দেবে সেটা তোমার ব্যাপার।

প্রশ্ন ৫: ভাইয়া বাজারে কোন গাইড সাস্টের জন্য ভাল?
উত্তর: বাজারের সব গাইডই ভাল। যদি ভাল করে প্রিপারেশন নিতে পারো তবে যেকোনটি পড়েই ভাল করা যায়। তবে তোমার যেটা ভাল লাগবে সেটাই পড়বে। অন্য কারো কাছে সাজেশন না নিয়ে নিজে যাচাই করে গাইড নেয়া উচিত।

আর সাস্ট এডমিশনের জন্য বেস্ট বই হল টেক্সটবুক। কারণ সাস্টের প্রশ্ন কেমন হয় তোমরা অলরেডি দেখে ফেলেছো। খেয়াল করে দেখবে ৯৫% প্রশ্নই সাস্টে রিপিট হয় না। কিছু কিছু প্রশ্ন রিপিট হলেও খুব রেয়ার। তাই কোন বই কেনার আগে মাথায় রাখবে যে বই কিনছো সেই বই থেকে কোন প্রশ্নই হয়ত কমন আসবে না। তাই কোন বইয়ে যদি দেখো "১০০% কমনের নিশ্চয়তা" তাহলে আমার মতে পাস কেটে চলে আসাই বেটার।

প্রশ্ন ৬: ভাইয়া সাস্টে কোন সাব্জেক্ট ভাল? কোনটায় ভর্তি হলে ভাল হবে?
উত্তর: ৩ টা কথায় মাথায় রেখে সাবজেক্ট চয়েজ করতে হয়।
১) প্যাশন
২) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
৩) জব সেক্টর

প্রথমে যদি প্যাশনের কথা বলি তবে এটা সম্পুর্ণ তোমার নিজের ব্যাপার। কারো প্যাশন হতে পারে সিএসই কারো ইইই কারো মেকানিকাল কারো আইপিই কারো ফিজিক্স কারো জিইবি। মনে রাখবে প্যাশন মানে তুমি সাবজেক্টটাকে ভালবাসো। আর যে সাবজেক্টকে ভালবাসলে সফলতা ১০০% ২য়, তোমার পরিকল্পনা... যেমন ধরো যদি গবেষণা ভাল লাগে তবে বায়োলজি রিলেটেড সাবজেক্টের বিকল্প নেই।

এক্ষেত্রে জিইবি আর বিএমবি অসাধারণ। মনে করো তোমার অনেক পড়াশোনা করার ইচ্ছে,বাইরে গিয়ে গবেষণার ইচ্ছে তবে সে কথা চিন্তা করে ফিল্ড গুলো দেখে তোমার চয়েজ করতে হবে।

লাস্ট যে ব্যাপার সেটা হল জব সেক্টর... আমরা অধিকাংশই পড়াশোনা করি লাইফে ভাল কোন চাকরি করার জন্য বা উদোক্তা হওয়ার জন্য। সে ক্ষেত্রে ভাল চয়েজ হয় ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট গুলো... আইপিই, কেমিক্যাল, সিভিল এসব ডিপার্টমেন্টে দেখা যায় তোমার জব খুঁজতে হয়না জব তোমাকে খুঁজে নেয়। অনেকেই পুরোপুরি অনার্স শেষ করার আগেই দেখা যায় জব পেয়ে গেছে। ২-৩ বছর চাকরি করে ফাঁকে ফাঁকে এসে অনার্স কমপ্লিট করছে।

লাইফ তোমার আর ডিসিশনও তোমার... কোন রাস্তায় যাবে সেটাও ডিসিশন তুমিই নেবে। তবে একটা কথা মাথায় রাখবে যে সাবজেক্টেই ভর্তি হও না কেন ভাল করলে তোমার দাম তুমি পাবেই। সুতরাং যেটা করবে চিন্তা করেই করবে, সবার সাথে আলোচনা করেই করবে।

প্রশ্ন ৭: কি করলে সাস্টে চান্স পাওয়া যাবে?
উত্তর: সাস্টের বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সলভ করবা (বুঝে বুঝে শিখে শিখে)। মনে রাখবে তুমি শিখছো মানে তুমি পড়ছোনা, তুমি শিখছো। এতে তোমার বেসিক তৈরি হয়ে যাবে। তোমার বেসিক ভাল মানে তুমি সাস্টিয়ান হতে চলেছো।

প্রশ্ন ৮: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কি বিষয়ে এক্সাম দিতে হবে?
উত্তর: বি ইউনিটের জন্য অবশ্যই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ আর ইংরেজি। ডিপ্লোমাদের একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয়।

প্রশ্ন ৯: মেরিট পজিশন একই!! কিভাবে সম্ভব??
উত্তর: শাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় একই মার্কস পেলে তাদের মেরিট পজিশন সেম আসে। মনে করো তুমিসহ মোট ২০ জন ১০০ তে ৬৫ পেয়ে ১৭০তম হয়েছো। এখন এক্ষেত্রে অন্যান্য ইউনিভার্সিটি র‍্যান্ডমলি তোমাদের একটা পজিশন দিয়ে দেয়। অর্থাৎ ৬৫ পেয়ে এক জনের পজিশন ১৭০ আরেকজনের পজিশন ১৯০।

ফলে অনেক সময় তুমি তোমার স্বপ্নের সাবজেক্ট এ পড়াশোনা করার সুযোগ হারিয়ে ফেলো। ব্যাপার টা যেমন অমানবিক ঠিক তেমনি অযৌক্তিক। তোমাদের যাতে এধরনের প্রব্লেম এ পড়তে না হয় তাই সাস্ট তোমার সাথে এরকম কোন অবিচার না করে তোমাদের ২০ জন কেই একই পজিশন দেয়। অর্থাৎ ২০ জনই তোমরা ১৭০ পজিশন এ।

এখন প্রশ্ন হতে পারে তাইলে কাকে সাবজেক্ট দেয়া হবে আগে?? উত্তর সোজা সবাইকে। মনে করো ১৭০ এ এসে দেখা গেল সিএসই তে সাবজেক্ট আছে আর মাত্র ২ টা বাট তোমাদের ক্যান্ডিডেট ২০ জনই সিএসই নিতে চাও তখন সাস্ট তোমাদের ২০ জন কেই সিএসই তে ভর্তি করে নেয়। অর্থাৎ তোমাদের সাথে কোন অবিচার করা হয় না। এতে সিএসইতে এক্সট্রা ১৮ জন বেশী এডমিট করানো হবে।

আরেকটি প্রশ্ন হতে পারে যদি ১৭০ তম ২০ জন হয় তবে পরবর্তী জন কত তম হবে?? ১৭১ নাকি ১৯১?
উত্তর হল ১৯১ তম। অর্থাৎ মাঝখানের ১৭১-১৯০ পর্যন্ত এই পজিশন গুলো ফাঁকা থাকবে।
আশা করি ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়েছো।

প্রশ্ন ১০: সেকেন্ড মেজর কি ? কিভাবে সেকেন্ড মেজর পড়তে হয়?
উত্তর: বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একমাত্র শাবিপ্রবিতে সেকেন্ড মেজরের ব্যবস্থার প্রচলন আছে।সাধারনত ভর্তির ১ বছর পর সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সেকেন্ড মেজর অফার করা হয়।

৪ বছর পরে ১ম মেজরের জন্য একটা সার্টিফিকেট আর সেকেন্ড মেজরের জন্য আর একটা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। সাধারণত CSE, EEE এবং Physics ডিপার্টমেন্ট হতে সেকেন্ড মেজর অফার করা হয়। একটা লিখিত পরীক্ষা+ভাইভা হওয়ার পরে সেকেন্ড মেজর এলোট করা হবে। সাধারনত সন্ধ্যার দিকে সেকেন্ড মেজরের ক্লাশ হয়।
সেকেন্ড মেজর জিনিস টা কি?

কেউ যদি ফিজিক্সে গ্রাজুয়েশন করে, তাহলে তার মেজর হলো ফিজিক্স, ম্যাথে গ্রাজুয়েশন করলে মেজর হলো ম্যাথ। অর্থ্যাৎ যে যে বিষয়ে পড়াশোনা করছো, সেটাই তার জন্য মেজর।

আর মেজর ব্যতীত অন্যান্য যেসকল কোর্স পড়ানো হয় সেগুলো মাইনর। তাহলে সেকেন্ড মেজর হলো নিজের মেজরের পাশাপাশি আর একটা সাবজেক্ট মেজর হিসেবে নেওয়া।
কি কি বিষয় সেকেন্ড মেজর হিসেবে নেওয়া যায়?

CSE, EEE, PHYSICS। এই বছর MATH ও সেকেন্ড মেজর হিসেবে নেওয়ার প্রচলন করা হচ্ছে। কতো ক্রেডিট পড়ানো হয়? সাবজেক্ট ওয়াইজ ৩৬ থেকে ৩৮ ক্রেডিট। এটা কমিটি নির্ধারন করবে।

CSE তে সেকেন্ড মেজর নিলে কি নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বলতে পারবো?
জ্বী নাহ। সেকেন্ড মেজর আর ফার্স্ট মেজরের মাঝে ফারাক আছে। তাহলে সেকেন্ড মেজর আসলে কাদের জন্য?

বাংলাদেশে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের প্রোগ্রামার হওয়ার আগ্রহ + মেধা উভয়ই রয়েছে। অনেকেরই দেখা যায় সারা জীবন EEE পড়ার আর রোবোটিক্স রিলেটেড কাজ করার ইচ্ছা। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে সাবজেক্টটা পায়নি।

তাদের জন্য সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনার আর রিলেটেড কাজ করার সর্বশেষ সুযোগ সেকেন্ড মেজর। তবে তার মানে এই নয় যে ফার্স্ট মেজরের পড়াশোনা বাদ দিয়ে সেকেন্ড মেজরের জন্য শুধু পড়বা। তাহলে আম-ছালা দুটোই যাবে।

প্রশ্ন ১১: ভাইয়া ঢাবিতে অমুক সাব্জেক্টে পড়বো নাকি বুয়েটে অমুক সাব্জেক্টে পড়বো??
উত্তর: যেখানে ভাল সাব্জেক্ট পাবা সেখানেই পড়বা (আমার ব্যাক্তিগত মতামত)। আমার কাছে মনেহয় ইউনিভার্সিটির চেয়ে সাব্জেক্ট অনেক বড় ফ্যাক্ট।

প্রশ্ন ১২: ডিপ্লোমাদের সিজিপিএ কিভাবে কনভার্ট করা হবে?
উত্তর: (CGPA*5)/4

মনে রাখবে জীবন তোমার। সকল গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে। আর আমি বিশ্বাস করি প্রতিটা মানুষের মধ্যেই প্রতিভা আছে। আমাদের সেটাকে খুঁজে পেতেই পুরোটা জীবন শেষ হয়ে যায়। যারা এটাকে আগে থেকেই ধরতে পারে তারাই হয়ে ওঠে আইন্সটাইন, শচীন বা মেসি-রোনালদো। তাই চয়েজ তোমার তুমি কি হবে আর কি পড়বে বা শিখবে। শুভ কামনা রইল তোমাদের জন্য।

মো: রকিবুল হক
ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

ঢাকা, ০৯ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।