ঢাকায় বসেই বেরোবি শিক্ষার্থীদের ভাইভা নিলেন ভিসি!


Published: 2018-05-26 20:17:35 BdST, Updated: 2018-10-18 16:15:28 BdST

রংপুর লাইভ : রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ আবারো সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি পরীক্ষা নেয়ার নতুন কৌশল আবিষ্কার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও কিভাবে পরীক্ষা নেয়া যায় তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই তিনি ভাইভা পরীক্ষা নিয়েছেন। শুধু তাই নয় তিনি উপস্থিত না থেকে তার পিএসকে দিয়ে নিজের কোর্সের পরীক্ষা নিয়েছেন। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমনিতেই ক্যাম্পাসে দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন ওই ভিসি। এরই মাঝে তার এমন কাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, ভিসি নাজমুল আহসান ঢাকায় অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন কর্মচারীকে দিয়ে নিজের দুটো কোর্সের পরীক্ষা নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, লিখিত পরীক্ষার পর ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে পরীক্ষার্থীদের ভাইভাও নিয়েছেন তিনি। একইভাবে কাকে কত নম্বর দিতে হবে তাও বলে দিয়েছেন। শনিবার (২৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা আইনে অনুপস্থিত থেকে নিজের কোর্সের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিসি নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ বিভিন্ন বিভাগের ২৬টি কোর্সের দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ তিনি মাসের বেশিরভাগ সময় থাকেন ঢাকায়। মাঝে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলে একদিনেই ৭/৮টি কোর্সের পরীক্ষা নেন। তার এমন পরীক্ষা গ্রহণ চলে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। কিন্তু এবার তিনি তাও করেননি। বরং শ্রেণির কর্মচারীদের দিয়ে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের ভাইভা নিয়েছেন ঢাকায় বসে।

জানা গেছে, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি থাকার পরও দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে লোকপ্রশাসন বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের পাবলিক সেক্টর ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের ২৫ মার্কসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

কোর্স শিক্ষক হিসেবে পরীক্ষার সময় উপাচার্যের উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার পরিবর্তে পরীক্ষা নিয়েছেন ভিসির পিএস আবুল কালাম আজাদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মচারী নিখিল চন্দ্র ও একজন পিয়ন। পরীক্ষা চলাকালে ভিসি ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও শিক্ষার্থীরা জানান।

একইভাবে বিকালে সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ইস্যুজ অ্যান্ড প্রবলেম অফ ডেভেলপমেন্ট ইন সাউথ এশিয়া বিষয়ে ভিসির পক্ষে ইন কোর্স ৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

আগের দিন শুক্রবারও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একইভাবে ইন কোর্স পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেখানে ছিল ৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা আর ৫ নম্বরের ভাইভা। ভাইভা নেওয়ার সময় ওই তিন কর্মচারী ছাড়াও সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক ড. রশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রধান জোবায়ের ইবনে তাহের সাংবাদিকদের জানান, কোর্স শিক্ষক তার সুবিধামতো সময়ে পরীক্ষা নিতে পারবেন কিন্তু তাকে অবশ্যই পরীক্ষার সময় উপস্থিত থাকতে হবে এটাই নিয়ম।

তবে ভিসি প্রফেসর নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

সূত্রমতে, কোর্স পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষক একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানী পেয়ে থাকেন। যেমন, এক ঘণ্টার পরীক্ষা হলে কোর্স শিক্ষক ৫০০ টাকা করে পান। দেড় ঘণ্টার পরীক্ষার ক্ষেত্রে পান সাড়ে ৭৫০ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোর্স শিক্ষক ছাড়া অন্য কোনও শিক্ষক কোনোভাবেই তার হয়ে পরীক্ষা নিতে পারেন না। আর কর্মচারী দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া; সিন্ডিকেট সভাকক্ষে পরীক্ষা নেওয়া কোনও অবস্থাতেই শোভন হতে পারে না।

ঢাকা, ২৭ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।