যেভাবে পর্নো ব্যবসায় জড়ালেন শাবি ছাত্র!


Published: 2018-04-17 18:41:40 BdST, Updated: 2018-08-15 21:06:59 BdST

শাবি লাইভ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের পর্নো ব্যবসা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর্নো ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গড়ে উঠেছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিশেষ করে ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে ওই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ বিভাগের তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিন শতাধিক পেজ তৈরি করে পর্নো ব্যবসার অভিনব সব জাল ফেলেছে একটি চক্র। ওই চক্রের অন্যতম সদস্য শাবি ছাত্র মোস্তফা।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত শনিবার রাজধানীর নিকেতনের একটি পাঁচতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসকর্ট সার্ভিসের নামে উঠতি বয়সী কিশোরীদের ব্যবহার করে পর্নো ব্যবসায় জড়িত করানোর অভিযোগে ছয় তরুণ ও এক নারীকে গ্রেফতার করেছে সাইবার প্রতিরোধ বিভাগ। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্কুল-কলেজপড়ূয়া দুই কিশোরীসহ ৯ নারীকে। এ ছাড়া একই বাসা থেকে ১১ পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তারা জানতে পারেন- ছদ্মনামের শিশির আহমেদ নামে একটি পর্নো গ্রুপ চালাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোস্তফা মোশাররফ। ওই গ্রুপে বিভিন্ন কিশোরী ও তরুণীর ছবি বিকৃত করে তা পর্নোর বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্র জানায়, অনলাইনে পর্নো ব্যবসায় তাদের সহায়তা করছেন একজন 'বড় ভাই'। তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। প্রায়ই ওই বড় ভাই দেশের বাইরে যান। তখন তার ব্যবসা পুরোটাই তারা দেখভাল করেন। এর বিনিময়ে জনপ্রতি পাঁচশ' টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পান।

দেনদরবারের পর যে কোনো পর্নো ব্যবসায় বাসায় নারী-পুরুষ পাঠানোর সার্ভিস তারা দিয়ে থাকে বলে অনলাইনের বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ পার্টিতে এ চক্রের সদস্যরা র‌্যাফেল ড্র'র আয়োজন করে থাকে। সেখানে জিতলে 'ভিআইপি মডেলের' সান্নিধ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সেক্স টয়েজ নামে নানা বিনোদনের সামগ্রীর ব্যবসা করছেন তারা। এ ধরনের সামগ্রীর কোনটির কত দাম, তা তাদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত দেওয়া থাকে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোস্তফা মোশারফ জানান, বিভিন্ন পর্নো সাইট ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ এ ধরনের একটি লিঙ্কের তথ্য পান তিনি। সেখানে যোগাযোগ করলে বলা হয়, নারী-পুরুষ যে কোনো গ্রাহক সংগ্রহ করে দিতে পারলে তাকে কমিশন দেওয়া হবে। এর পর থেকেই তিনি ওই কাজে সম্পৃক্ত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক মাস পরই পর্নোসাইট ও লিঙ্কের ঠিকানা পরিবর্তন করেন তারা। কাজের প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে সিলেট থেকে ঢাকায় আসতেন তিনি।

 

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।