শাবির মহাপরিকল্পনা ‘আইওয়াশ’ : কাগজে আছে বাস্তবে নেই!


Published: 2018-02-12 18:45:32 BdST, Updated: 2018-10-16 18:57:12 BdST

শাবি লাইভ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনায় ছাত্রহল আছে ৬টি, বাস্তবে হয়েছে ৩টি। ছাত্রীহল আছে ৩টি, বাস্তবে হয়েছে ২ টি। বিভাগ আছে ৩৭টি চালু হয়েছে ২৭ টি। একাডেমিক ভবন আছে ১৭টি বাস্তবে হয়েছে মাত্র ৬টি। শিক্ষক কর্মকর্তাদের সর্বমোট ২৮ টি কোর্য়াটারের জায়গায় নির্মিত হয়েছে মাত্র চারটি। শাবির মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের মধ্যেই এসব হওয়ার কথা ছিল। ৩০ বছর মেয়াদী ওই মহাপরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। হয়নি অর্ধেক কাজও। গত ৩০ বছরে কেবল না পাওয়ার বেদনাই সইতে হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।

এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোর মুখ দেখেনি সিনেট হল, স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক, বিজ্ঞান কারখানা, প্রজেক্ট অফিস, বিপনী কেন্দ্র, নিরাপত্তা ক্যাম্প, লেক, হকি, ক্রিকেট মাঠ ও ইলেকট্রিক সাবস্টেশন। এসব কিছুই হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের মধ্যে। না পাওয়ার বেদনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আজ ফাল্গুনের প্রথম দিন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ২৭ পেরিয়ে ২৮ বছরে পদার্পণের সময়েও অবকাঠামোগত খুব একটা অগ্রসর হতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১৯৮৭ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে গৃহীত ৩০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা ২০১৬ সালে শেষ হয়ে গেলেও অর্ধেকও বাস্তবায়ন হয়নি। তাই শাবির উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

১৯৮৭ সালের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ১৯৯১ সালের ১ ফাল্গুন ৩২০ একর জায়গায় ৩টি বিভাগে ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে মোট ২৭ টি বিভাগ ও ২ টি ইন্সটিটিউটএর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৪০০ জন। এছাড়া ছয়টি অধিভুক্ত কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০০০।

১৯৮৭ সালে ছয়টি পঞ্চবার্ষিকীর অধীনে নেয়া ত্রিশ বছর বয়সী মহাপরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ এর মধ্যে ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক চাহিদা পূরণের কথা থাকলেও কাজ হয়নি।

তবে এতোসব সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েও গত দশকে শিক্ষা ও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্বাধনের মধ্য দিয়ে দেশ ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২০১৭ সালে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম ডিজিটাল আইসিটি এওয়ার্ড খেতাব লাভ করে শাবি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা শাবিতেই প্রথম শুরু হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাসীকে। শাবির শিক্ষার্থীরা যেখানে যান সেখানে প্রতিভার সাক্ষর রাখেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের কল্যাণে শাবি অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নতুন করে শাবির উন্নয়নে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। নতুন মহাপরিকল্পনার প্রস্তাবনায় সময়োপযোগী বেশকটি বিভাগ, অত্যাধুনিক ল্যাবসমৃদ্ধ একাধিক একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, ক্রীড়া ও পরিবহন সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

শাবি ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শাবির জন্য নতুন করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে শাবিকে আধুনিক ও রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//সিএস

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।