অবশেষে ফাতেমাই সঙ্গি হলেন বেগম জিয়ার


Published: 2018-02-08 21:07:47 BdST, Updated: 2018-07-22 20:36:13 BdST

তারেক মাহমুদ: একে একে সবাই চলে গেলো। চারদিক ফাঁকা। অনেকটা শুন্যতা বিরাজ করছিল রায়ের পর।এর পর বেগম জিয়াকে বহনকারী গাড়ি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো কারাগারের পকেট গেটের দিকে। এসময় পুলিশ, কারারক্ষি আর কয়েকজন সরকারী কর্তা বাবু ছাড়া কেউ ছিলনা। বিষন্ন মন। কিন্তু বেগম জিয়ার ডান পাশে নিরবে মন খারাপ করে তখনও দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই পুরানো গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম।

ততক্ষনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া অনেকটাই আশ্বস্থ হলেন।
তিনি তার প্রয়োজনীয় কাজ সারতে নির্দেশ দেন। এসময় ২/৩জন মহিলা করারক্ষিও এগিয়ে আসেন। সংশ্লিস্ট সূত্রে এই তথ্য জানাগেছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে সাজা ঘোষণার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকছেন ফাতেমা বেগম (৩৫)। ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছেন।

বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।

আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে। তিনি অনেক রোগে অসুস্থ। তাই আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম গৃহকর্মী ফাতেমাকে সঙ্গে দেওয়ার জন্য। আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন। কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই সেলে থাকবেন ফাতেমা বেগম।

জানাগেছে গুলশানের বাসা থেকে ফাতেমাকে নিয়ে একই গাড়িতে করে আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। রায় পড়ার সময়ও তাঁর সঙ্গেই ছিলেন ফাতেমা। আদালতের রায় পড়া শেষ হলে বিচারকরা কক্ষ ত্যাগ করেন।

এরপর খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে,পরিচর্যার জন্য ফাতেমাকে তাঁর সঙ্গে কারাগারে রাখার আবেদন জানান আইনজীবীরা। আবেদনে স্বীকৃতি দিয়ে এ বিষয়ে একটি আবেদনপত্র দেওয়ার জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেন বিচারক।

আদালতের স্বীকৃতি পেলে, ফাতেমাকে নিয়ে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের দিকে রওনা দেন খালেদা জিয়া।

সানাউল্লাহ মিয়া আরও জানান, মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকেও কিছুদিনের জন্য পারিবারিক জীবন থেকে দূরে থাকার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

রায়ের পর কারাগারে যেতে হলে গৃহকর্মী ফাতেমাকে সঙ্গে নেওয়ার আবেদন জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া এবং আরো দুই আসামি মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

কারাগার সূত্র জানায়, ফাতেমা বেগম জিয়ার খাবার দাবারসহ বিভিন্ন কাজ কর্ম দেখভাল করছেন। তার কক্ষে একটি টেলিভিশন, ছোট একটি ফ্রিজেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সকালে ৩/৪টি পত্রিকা দেয়ারও কথা রয়েছে। রাতের খাবার বেগম জিয়ার পরিবার থেকে দেয়া হবে বলেও সংশ্লিস্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

ঢাকা, ০৮ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।