বাকৃবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


Published: 2017-12-23 17:17:58 BdST, Updated: 2018-12-11 22:48:49 BdST

 

বাকৃবি লাইভ: এবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুর্নীতির অভিযোগ মিলেছে। বেশ কয়েকটি বিশ্বদ্যিালয়ের পর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আসাকে ভাল চোখে দেখছেন না এখানকার সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন আমাদের ইমেজ আর রইলো না। আর ওই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন খোদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ইউছুব আলী মণ্ডল।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক। সম্প্রতি কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক পরেশচন্দ্র মোদক, পশুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম ও কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক অভিযোগ পত্রে বিষয়টি জানাজানি হয়। এনিয়ে তোলপাড় চলছে গোটা ক্যাম্পাসে।

মো. ইউছুব আলী মণ্ডল গত ১৪ জুলাই এডিশনাল রেজিস্ট্রার থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিয়োগ পান।সংশ্লিস্টরা বলেছেন তিনি আসলেই এধরণের কাজের ফলে আমরা ইমেজ সংকটে ভুগছি।


ওই তিন শিক্ষক তাদের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছেন, সাবেক রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল খালেকের দুর্নীতি তদন্তে গঠিত কমিটিতে আমরা তিন শিক্ষক দায়িত্বে ছিলাম। যা সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে তদন্ত প্রতিবেদন ভিসির বরাবর জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে রেজিস্ট্রার দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠানো হয়।

ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন এডিশনাল রেজিস্ট্রার ইউছুব আলী মণ্ডলের নাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে এবং রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন দুর্নীতিতে ডান হাত হিসেবে কাজ করেছে। ২০১৫ সালের বহুল বিতর্কিত তিন শতাধিক ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী নিয়োগে যে বাণিজ্য হয়েছিল, তিনি ওই নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন।

এ নিয়োগের পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত নথিতে এর কোনো রেকর্ড ছিল না। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি তাকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক পরেশচন্দ্র মোদক ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বর্তমান ভিসিকে ইউছুব আলীর দুর্নীতির কথা বলার পরও তিনি এ নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা শুনেছি ভিসি স্বজনপ্রীতির কারণে এ নিয়োগ দিয়েছেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে থেকে তিনি এখন সার্টিফিকেট বিক্রি, রেজাল্টে গ্রেড বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি করতে পারেন।

পরে তৎকালীন প্রশাসন ইউছুব মণ্ডলকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব দিতে চেয়েও সফল হতে পারেনি। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি এ সব বিষয় অবহিত করে বর্তমান প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছিল যে, ইউছুল মণ্ডল কখনও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হতে পারবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও এমন দুর্নীতিগ্রস্ত লোকের হাতে পরীক্ষা শাখার মতো গোপনীয় ও স্পর্শকাতর শাখার নিয়ন্ত্রণ কতটা নিরাপদ?

 

এ বিষয়ে ইউছুব আলী মণ্ডলকে ফোন দেয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।বার বার যোগাযোগ করেও সন্ধান মেলেনি।

নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভি করেননি।

ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।