পিইসিতে থাকছে না জিপিএ-৫!


Published: 2019-06-24 15:11:02 BdST, Updated: 2019-07-24 00:21:14 BdST

লাইভ প্রতিবেদক: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে আর জিপিএ ৫ থাকছে না। প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষায় এখন থেকে সর্বোচ্চ (CGPA) জিপিএ ৫ এর পরিবর্তে জিপিএ ৪ নির্ধারন করে ফল প্রকাশ করা হবে। তবে গ্রেড বিন্যাসের ধরন কেমন হবে এ সিদ্ধান্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এবিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বর্তমানে যে গ্রেড বিন্যাস রয়েছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রেড বিন্যাসের সঙ্গে মিল রেখেই করা হয়েছে।

গ্রেড বিন্যাস বিষয়ে তিনি আরো জানান, এবিষয়ে কমিটি গঠন করে গ্রেড বিন্যাস পরিবর্তন করা হবে। কারণ একই শিক্ষার্থী পিইসিতে এক ধরনের গ্রেড আবার জেএসসিতে আরেক ধরনের গ্রেড পেতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রেডবিন্যাসের সঙ্গে মিল রেখেই পিইসির গ্রেড বিন্যাস হবে।’

জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় কমিটির বৈঠকের পর পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫-এর বদলে জিপিএ ৪-এর মধ্যে ফল চূড়ান্ত করতে কাজ শুরু হয়েছে। ইতমধ্যে কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। জিপিএ ৪-এর মধ্যে এই গ্রেড বিন্যাস অনেকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত একটি পদ্ধতিতে ৯০ থেকে ১০০-এর মধ্যে নম্বরকে ‘এক্সিলেন্ট’ লেটার গ্রেড হিসেবে রাখা হয়েছে, যার গ্রেড পয়েন্ট হবে ‘জিপিএ-৪’। আর ৮০ থেকে ৮৯ নম্বরকে রাখা হয়েছে ‘এ প্লাস’ গ্রেডে, যার গ্রেড পয়েন্ট হবে ‘জিপিএ-৩.৮৫’। এরপর মূলত ৫ নম্বরের ভিত্তিতে লেটার গ্রেড পরিবর্তন করা হয়েছে। সেখানে ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর পেলে লেটার গ্রেড ‘এ’ এবং গ্রেড পয়েন্ট জিপিএ-৩.৭৫; ৭০ থেকে ৭৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘এ মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-৩.৫০; ৬৫ থেকে ৬৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘বি প্লাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-৩.২৫; ৬০ থেকে ৬৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘বি’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-৩.০০; ৫৫ থেকে ৫৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘বি মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২.৭৫; ৫০ থেকে ৫৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘সি প্লাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২.৫০; ৪৫ থেকে ৪৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ডি’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২.২৫; ৪০ থেকে ৪৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ডি মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২; ৩৫ থেকে ৩৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ই’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-১.৭৫; ৩৩ থেকে ৩৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ই মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট ধরা হয়েছে-১.৫০। আর শূন্য থেকে ৩২ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘এফ’, যা ফেল হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে অন্য প্রস্তাবে ‘এক্সিলেন্ট গ্রেড’, ‘সি’, ‘ডি’ ও ‘ই’ গ্রেড নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক জানান, ‘আমরা চার-পাঁচটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মিল রাখার পাশাপাশি গ্রেড বিন্যাস যাতে লজিক্যাল হয় সে বিষয়টিও খেয়াল রাখছি। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ অথবা আগামী সপ্তাহে আমাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।’


ঢাকা, ২৪ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।