ঢাবির ইসলামি স্টাডিজের উত্তরপত্রের মূল্যায়ন নিয়ে যতকথা


Published: 2017-11-20 22:10:32 BdST, Updated: 2017-12-14 04:34:49 BdST

 

ঢাবি লাইভ: নানান অভিযোগ এখন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। তাদের আচরণ থেকে ক্লাস নেয়া পর্যন্ত অভিযোগের অন্ত নেই। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের
দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ্যান্থার অভিযোগ মিলেছে। তারা উত্তরপত্র না দেখেই নম্বর দেয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই কারণে বিভাগের মাস্টার্স ‘এ’ গ্রুপের ফল প্রকাশে তৈরী হয়েছে বাধা।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর গোলাম রাব্বানীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি ডিসিপ্লিনারি বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের প্রতিবেদন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ধরনের অন্যায়কে আমরা ছাড় দিব না। সে যেই হোক।

জানা গেছে, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারে ‘এ’ গ্রুপে ৫০১ নম্বর থেকে ৫০৫ নম্বর কোর্স রয়েছে। এর মধ্যে কোর্স নম্বর ৫০৪ ও কোর্স নম্বর ৫০৫ অল্টারনেটিভভাবে নেয়ার সুযোগ আছে।

কোর্স নম্বর ৫০৪ হলো ‘টিচিং অ্যান্ড রিসার্স মেথডোলজি’এবং কোর্স নম্বর ৫০৫ হলো ‘উলুম আল কোরআন।’ রিসার্স মেথডোলজি কোর্সের কোর্স শিক্ষক ছিলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফিক আহমেদ ও প্রভাষক কাজী ফারজানা আফরীন।

এক শিক্ষার্থী ৫০৪ নম্বর কোর্স নিয়ে পরীক্ষার কাভার পেজে কোর্স নম্বরের জায়গায় ভুল করে ৫০৫ লিখেন। কিন্তু তিনি খাতায় ৫০৪ নম্বর কোর্সের প্রশ্নের উত্তর লিখেন। ওই শিক্ষার্থীর কাভার পেজে ৫০৫ লেখার কারণে খাতাটি চলে যায় কোর্স টিচার ড.মুহাম্মদ শফিক আহমেদন ও কাজী ফারজানা আফরীনের কাছে।

ওই দুই শিক্ষক শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন। কিন্তু দুই শিক্ষকের এই উত্তরপত্রসহ আরো ২৮টি উত্তরপত্রের নম্বরে ২০ শতাংশ পার্থক্য থাকায় খাতাগুলো তৃতীয় শিক্ষক প্রফেসর ড. মু আব্দুল বাকীর মূল্যায়নের দায়িত্ব পড়ে। তিনিই বিষয়টি ধরতে পেরে খাতাটি মূল্যায়ন না করে ডেপুটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও পরীক্ষা কমিটির প্রধান প্রফেসর ড.মুহাম্মদ শফিক আহমেদ বলেন, ‘আমি ৫০৫ নম্বর কোর্সের ক্লাস নিয়েছি ও পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেছি। এটুকু আমি বলতে পারবো। পরীক্ষার বিষয়গুলো তো গোপনীয়। এগুলো পরীক্ষা কমিটি ছাড়া কারও সঙ্গে শেয়ার করি না।’ এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী কোনো কথা বলতে চাননি।

তদন্ত কমিটির প্রধান প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ওই পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তদান্তধীন বিষয় সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারবো না।

 

ঢাকা, ২০ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।