জবির প্রশ্ন কেলেংকারি, তদন্ত এক মাসেও শেষ হয়নি


Published: 2017-11-18 14:40:04 BdST, Updated: 2017-12-14 04:15:27 BdST

 

জবি লাইভ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ১ম বর্ষ ‘ক‘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ একমাসে তদন্ত শেষ হয়নি। প্রশ্ন ফাঁস কেলেংকারি ধামাচাপা দিতেই দীর্ঘ সময়েও তদন্তের কাজ শেষ হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারন শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠে। ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে মোবাইলে উত্তর পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের ভিতরে দুই পরীক্ষার্থীর মোবাইল জমা নেয়া হয় এবং পরীক্ষা শেষে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত পরীক্ষার্থী আয়শা আক্তার সোহার মোবাইলের ফেসবুক মেসেঞ্জারে ১টা ১৬ মিনিটে এবং সাখাওয়াতের মোবাইলে ২টা ২৮ মিনিটে উত্তর পত্র পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ উত্তরপত্রের সাথে পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে আইন বিভাগের প্রফেসর ড. সরকার আলী আককাসকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য ৭ দিনের সময় দেয়া হয়।

কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠনের এক মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার সময় জালিয়াত সদস্যদের আটক করে মামলা দেয়া হলেও মূল হোতাদের আটক করা হয় না।

এছাড়া পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা পুলিশ এসব মামলার খোঁজ খবরও রাখেন না। এ বছরও প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টিকে অতীতের মত ধামাচাঁপা দিতেই এখন পর্যন্ত তদন্তের কাজ শেষ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক জেষ্ঠ্য প্রফেসর বলেন প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ যেহেতু পরীক্ষার শুরুর ২ ঘন্টা আগেই এসেছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষে ২ ঘন্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস করা সম্ভব না। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের পরীক্ষা কমিটির কেউ করতে পারে তাই তদন্তের কাজ শেষ হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সরকার আলী আককাস সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে টেকনিক্যাল কিছু বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্তের কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে।

এছাড়া ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. জাকারিয়া মিয়া দেশের বাইরে অবস্থান করাতেও দেরি হচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে জানা যায়।


ঢাকা, ১৮ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।