সামিয়া-মারজানের গবেষণা চুরির তদন্তে অদৃশ্য হাত!


Published: 2017-11-13 20:42:31 BdST, Updated: 2017-11-21 21:39:19 BdST

 

এম এ লতিফ, ঢাবি: গবেষনা চুরির তদন্তে প্রাণ নেই। শ্লথগতি। যেন থমকে আছে। অদৃশ্য কোন কারণে এর গতি কেবল কমছেই। সামনে আসছে না। গবেষনার মত বিষয় চুরি করেও পার পেয়ে যাচ্ছে সংশ্লিস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজান।

এমন অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সিনিয়র শিক্ষক ও গবেষক।

তারা বলছেন, এধরনের ঘটনা ঘটার পরেও কিভাবে তারা প্রকাশ্যে মুখ দেখায়? কিভাবে তারা সমাজে চলাফেরা করে? এই লজ্জা কেবল তাদের নয়। এই লজ্জা গোটা শিক্ষক সমাজের। গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমরা ওই অদৃশ্যমান শক্তির পরিচয় জানতে চাই। যারা নেপথ্যে থেকে এধরনের বড় ও কঠিন অপরাধকে সায় দিয়ে যাচ্ছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে লেখা চুরির অভিযোগ তদন্তে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রোভিসি প্রফেসর ড. নাসরিন আহমদ।

তিনি ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই হিসাব-নিকাশ করেই তদন্ত চলছে। তাছাড়া অভিযুক্তরা সমাজের উচুশ্রেণীর মানুষ। সব কিছু নিশ্চিত হয়েই এগুতে হবে। যেন তেন ভাবে তদন্ত শেষ করা যাবে না।

ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য নির্দিষ্ট সময় এক মাস শেষে আরো দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। গত ২৬ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে এ নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র অনেক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্যাম্পাসলাইভকে বলেছেন, সামিয়া রহমান প্রভাবশালী নারী। তিনি টেলিভিশনে কাজ করেন অনেক কথা বলেন। টক শো করেন তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা একটু কঠিন।

অপর সাংবাদিকতা বিভাগের অপর একজন শক্ষিক বলেছেন, তিনি লম্বা লম্বা কথা বলেন। সমাজ ও দেশকে অনেক জ্ঞান দেন। তার বিরুদ্ধে গবেষনা চুরির অভিযোগ মেনে নেয়া যায় না। তিনি দোষী হলে পদত্যাগ করা উচিত। নিজের সম্মান নিয়ে চলে যাওয়াই ভাল।

এদিকে প্রো-ভিসি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা তদন্ত করছি। শেষ হলে যথাসময়ে জমা দেবো। আমি ওই সময়ের মধ্যে ১০ দিন বাইরে ছিলাম। তা ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরাও নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন। সে কারণেই হয়নি।’

লেখা চুরির এ অভিযোগ ওঠার পর তা অস্বীকার করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান। এ ঘটনার জন্য তিনি ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক মারজানের ওপর দোষ চাপান।

এ দুই শিক্ষক তাঁদের একটি গবেষণা নিবন্ধে মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামে একটি নিবন্ধ থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লেখা হুবহু চুরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতো মধ্যে নানা ধরনের ঘটনা ঘটেছে। জানাজানি হয়েছে সারা দুনিয়ায়।

উল্লেখ্য,পৃথিবী বিখ্যাত দার্শনিক ও চিন্তাবিদ মিশেল ফুকোর লেখা “The Subject and Power” শীর্ষক আর্টিকেল যা প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস (১৯৮২), থেকে লেখা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা চুরি করে নিজের নামে ছাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও নিউজ২৪ টিভি চ্যানেলের কারেন্ট এফেয়ার্স এর প্রধান সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছে স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস।

এক লিখিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির অভিযোগ এর কথা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো প্রেস। উন্নত দেশগুলোতে একাডেমিক চৌর্যবৃত্তি (Plagiarism) একটি ভয়ঙ্কর অপরাধ এবং এর কারনে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো শিক্ষক/গবেষক/ছাত্রের একাডেমিক জীবনের ইতি ঘটতে দেখা যায়। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপাতত কেবল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। এছাড়া অন্য আরেকটি অভিযোগে আরো একটি কমিটি গঠিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বেসরকারি টেলিভিশনে পূর্ণকালীন চাকরি করে আসা সামিয়া রহমান বর্তমানে নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স। এর আগে তিনি একাত্তর টিভি, এনটিভি ও একুশে টিভিতে কাজ করেন। সাংবাদিকতার ছাত্র মারজানও একাত্তর টিভিতে কাজ করেছেন।

 

ঢাকা, ১৩ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।