''অনলাইনে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দেয় জাবি ছাত্র জাহিদ''


Published: 2021-08-03 11:25:13 BdST, Updated: 2021-09-19 10:28:37 BdST

জাবি লাইভ: অনলাইনে ‘রিমোট কন্ট্রোল বোমা’ তৈরির প্রশিক্ষণ পায় নব্য জেএমবির সদস্যরা। এরপর বোমা তৈরি করে তা তাদের টার্গেটে স্থাপন করে আসে গোপনে। রিমোটের মাধ্যমে দূর থেকেই এসব বোমকে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর নেপথ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। সে নব্য জেএমবির বোমা তৈরির অন্যতম কারিগর। তার নাম জাহিদ হাসান ওরফে বোমা জাহিদ ওরফে রাজু ওরফে ফোরকান ভাই।

সম্প্রতি অনলাইনে এমন একটি বোমা তৈরির স্কুলের সন্ধান পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশের জঙ্গি প্রতিরোধে বিশেষায়িত ইউনিট-কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। বোমা তৈরির ওই প্রশিক্ষককে গ্রেফতারে শুরু হয়েছে অভিযান।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ধারাবাহিক অভিযানে কোণঠাসা নব্য জেএমবি আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তুরস্ক থেকে মাহাদী হাসান জন ওরফে আবুল আব্বাস আল বাঙ্গালি পরিচয়ে এক জঙ্গি আমীর হিসেবে নব্য জেএমবিকে সংগটিত করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট করে তারা এখন সংগঠনের সব সদস্যদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে জাহিদ ওরফে ফোরকান গোপনে একটি অনলাইন স্কুল তৈরি করেছে। সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্যদের সেখানে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী সুমন বলেন, ‘অনলাইনে বোমা তৈরির স্কুল পরিচালনা করছে জঙ্গিরা, এমন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি শুরু করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য ও আগে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা বোমা তৈরির অনলাইন স্কুলের সত্যতা পান। পরে এই স্কুলের প্রশিক্ষককে গ্রেফতারের জন্য তার বিস্তারিত নাম-পরিচয় সংগ্রহ শুরু করেন।’

সিটিটিসি সূত্র জানায়, অনলাইনে বোমা তৈরির স্কুল পরিচালনাকারী জাহিদ হাসান ওরফে ফোরকান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় থেকেই সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরকের নানা উপকরণ নিয়ে পড়াশুনা করে এবং অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই বোমা তৈরির দক্ষ কারিগর হয়ে ওঠে। এরপর সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে সে নিজেই বোমা তৈরির স্কুল পরিচালনা শুরু করে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, জাহিদ ওরফে ফোরকান এনক্রিপ্টেড বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সংগঠনের সহযোগী সদস্যদের কাছে প্রথমে বোমা তৈরির ম্যানুয়াল পাঠিয়ে দিতো। তারপর সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভিডিও কলে হাতে-কলমে শেখাতো। তার তৈরি করা বোমা বা আইইডি (ইমপ্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একটি পুলিশ বক্স থেকে উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, গত ১২ জুলাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও বন্দর থানাধীন দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একাধিক আইইডি উদ্ধারের পর তা নিস্ক্রিয় করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও কাউসার হোসেন ওরফে মেজর উসামা নামে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বোমা তৈরির অনলাইন স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষক জাহিদ ওরফে ফোরকানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারা ইতোমধ্যে জাহিদ ওরফে ফোরকানের বিস্তারিত পরিচয় সংগ্রহ করেছেন। ফোরকান বোমা তৈরিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণও নিয়েছে। বান্দরবানে গিয়ে নিজে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে সে একাধিকবার কথিত হিজরতের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টাও করেছিল।

সিটিটিসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিরা শুরু থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের চাইতে আইইডি বা বোমা ব্যবহার করতো বেশি। আত্মঘাতী হামলা বা বিস্ফোরণের মাধ্যমে বেশি লোকজনকে হতাহত করে আলোচনায় আসা তাদের টার্গেট। এ জন্য আগে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিস্ফোরকের উপাদান ও ডেটোনেটর সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু এখন পার্শ্ববর্তী দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে থাকায় দেশীয় বাজার থেকে সহজেই সংগ্রহ করা যায় এমন রাসায়নিক উপাদান এনে বোমা তৈরি করছে তারা। এমনকি জঙ্গিরা বোমা তৈরির ডেটোনেটরও নিজেরা তৈরি করছে।

সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিরা এখন অনেক বেশি অনলাইনকেন্দ্রিক হয়ে আছে। তারা সদস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, অর্থ সংগ্রহ ও প্রোপাগান্ডা প্রচার বা ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচারণার সবকিছুই করছে অনলাইনে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনলাইনে কড়া নজরদারি করছে।

ঢাকা, ০৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।