শহীদ মিনারে সাংবাদিক শাহীন রেজার শেষ শ্রদ্ধা


Published: 2021-03-03 15:51:05 BdST, Updated: 2021-04-21 11:21:42 BdST

ঢাবি লাইভ: সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন লেখক, সাহিত্যক, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ। তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজউদ্দীন হোসেনের ছেলে।

বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তার মরদেহ নিয়ো আসা হয় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তার নেতৃত্ব গড়ে ওঠা সংগঠন প্রজন্ম ৭১, গণ সংগীত সমন্বয় পরিষদ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সাংস্কৃতিক লীগ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, প্রস ইনিস্টিউট বাংলাদেশসহ সর্বস্তরের মানুষ।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহীন রেজা নূর। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা শেষে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল কালাম আব্দুল মোমেন বলেন, "আজ আমরা একজন নক্ষত্র হারালাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্বপক্ষের লোক, যাদের উপর আমরা সব সময় নির্ভর করতে পারি, আজকে সেরকম একজন লোক চলে গেলেন, আমরা তার মাগফিরাত কামনা করি।"

শাহীন রেজা নূরের বড় ছেলে সোরভ রেজা বলেন, "এরকম ঘটনার তো প্রস্তুতি হয় না। আব্বুর মৃত্যুতেও আমি সাঙ্ঘাতিকভাবে অপ্রস্তুত ছিলাম। আব্বু দেশের মানুষকে অনেক ভালোবাসতো, তার পরিবারকে ভালোবাসতো, সে সবকিছুতেই তা প্রকাশ করতো কোন না কোন ভাবে। তার লেখনিগুলো দেখলে তার পরিচয় পাওয়া যায়। সে মানুষ হিসেবে কিরকম ছিল, সেটা তার লেখা, মানুষের সাথে তার আচার-ব্যবহারে আপনারা বিচার করবেন কিন্তু তিনি পিতা হিসেবে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ ছিল। "

সাংবাদিক শাহীন রেজার শেষ শ্রদ্ধা

 

তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান শাহীন বলেন, "তিন বছর ধরে কানাডায় থাকলেও তার মন সব সময় দেশে পরে থাকতো। প্রতিবছর তিনি দেশে এসে দেশের জন্য কিছু করতে চাইতেই। কিন্তু এভাবে তাকে দেশে আসতে হবে আমি ভাবতে পারিনি। তিনি ছিলেন রত্ন ভান্ডার, সকল বিষয়ে তার পদচারণা ছিল।"

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, “শাহীন মৃত্যুর কদিন আগে লিখেছিল জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে বাধা কোথায়? শাহীন যে প্রশ্ন রেখেছে, সেই প্রশ্নের জবাব আজকে সরকারকে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সহযোগী শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দীন ছেলে আক্ষেপ রেখে গেছেন বাধা কোথায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের, ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে। এই প্রশ্ন আমাদেরও। এই প্রশ্নের জবাব সরকার শুধু দিতেই হবে না, যে বাংলাদেশ দেখবার জন্য শাহীনের বাবারা শহীদ হয়েছেন, শাহীনও দেখে যেতে পার না মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। আমরা আশা করি অচিরেই ধর্মের নামে মৌলবাদী-সামপ্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে।”

এর আগে সকাল ৬টায় তার মরদেহ বিমানবন্দর থেকে রাজধানীর আসাদ এভিনিউয়ে তার বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তারা পরিবার ও অনুরাগীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর পরে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোড মসজিদে সকাল ১০টায় তার প্রথম নামাজ-ই- জানাজা দেওয়া হয়।

ঢাকা, ০৩ মার্চ (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএম//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।