"দমানোর একটি কৌশল"


Published: 2020-09-23 18:32:17 BdST, Updated: 2020-10-24 10:04:31 BdST

মিজানুর রহমান, ঢাবিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণ মামলার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনেও মামলার প্রধান আসামি হাসান আল মামুন কোনো বক্তব্য-বিবৃতি না দেওয়ায় নানা ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে একাধিক বার ফোন করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছে এতে সরকার দলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তুলছেন জানতে চাইলে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা ফারুক হাসান ক্যাম্পাসলাইভ২৪ কে বলেন, "এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট একটি কথা। অভিযোগকারী আমাদের সংগঠনের কর্মী ছিলেন না। কেউ যদি বলে আমি আপনাদের সাথে কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি আমি আপনাদের দলের কর্মী এটা তো সত্য না। বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে আমরাই বেশি কথা বলতেছি, সমালোচনা করতেছি এবং প্রতিবাদ করতেছি। তাই সরকার এটাকে একটি বাধা মনে করে বিভিন্নভাবে দোষারোপ করে আমাদের কে থামানোর চেষ্টা করতেছে। এটি সরকার দলের পক্ষ থেকে আমাদের কে দমানোর একটি কৌশল।"

দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে আনীত ধর্ষণের অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিতে কতটুকু প্রভাব রাখবে জানতে চাইলে ফারুক হাসান বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে সেটা নতুন না। কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর থেকে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্যবার মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেকবার হামলা করা হয়েছে। এটা শাসক দলের একটি নিত্য নৈমিত্তিক কাজ। আমরা এতে মোটেও বিব্রত নই।"

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা ও ভিপি নুরের সাথে ডাকসু হামলায় আহত হয়ে আলোচিত হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এপি এম সোহেল হাসান আল মামুনের ধর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন চ্যাট আলাপ প্রকাশ করছেন। এই কথোপকথন সত্যি কি-না জানতে চাইলে ফারুক বলেন, "এটা সত্যি না। এপিএম সোহেলকে আমাদের সংগঠন থেকে ছয় মাস আগে সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সে ক্ষোভ থেকে এসব প্রপাগান্ডা ছড়াতে পারে।"

এদিকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন অসুস্থ এবং তিনি সুস্থ হলেই তার অবস্থান সকলের সামনে তুলে ধরবেন এমনটি উল্লেখ করে ফারুক হাসান জানান, "হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা, বানোয়াট, অভিযোগ উঠেছে এই বিষয়ে তিনি সকলের সামনে কথা বলবে। সে এখন অসুস্থ রয়েছে। তাই লাইভে বা মিডিয়াতে কথা বলতে পারছেন না। সুস্থ হলে সে অবশ্যই সবকিছু পরিস্কার করবে।"

উল্লেখ্য, ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরল হক নুরসহ সংগঠনের ছয়জন নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক থানায় দুইটি মামলা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী।

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) //এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।