দেড় মাসেও শেষ হয়নি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সেই কাজঢাবিতে লাল ফিতায় বন্দি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন!


Published: 2020-08-15 19:40:25 BdST, Updated: 2020-09-24 02:20:25 BdST

মো. মনিরুজ্জামান, ঢাবি: দেড় মাসেও শেষ হয়নি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন। এনিয়ে ক্যাম্পাসে নানান আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন লালফিতায় আটকে গেছে প্রতিবেদন কার্যক্রম। ওই প্রতিবেদন আলোর মুখ আদৌ দেখবে কিনা এনিয়ে রয়েছে সন্দেহ ও সংশয় । এই অভিযোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবিকে কেন্দ্র করে। গত ২৫ জুন ২০২০ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নীতিমালা প্রণয়ন, তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামা নির্মাণ ও আর্থিক বিষয়সহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রতিবদন তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির মেয়াদ দেড় মাস অতিবাহিত হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেননি এ কমিটি।

গত ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মা. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঢাবি’র ‘অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনার অগ্রগতি পর্যালাচনা’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়।

এই কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে জরিপ চালিয়ে অনলাইন ক্লাসের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। তবে গত দেড় মাসে নীতিমালা প্রণয়ন, তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামা নির্মাণ ও আর্থিক বিষয়সহ আনুষাঙ্গিক বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেননি এ কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, আমারা প্রতিবেদন তৈরীর কাজ শেষ করেছি। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট, অনুষদ থেকে রিপোর্ট আসতে দেরি হয়েছিল, তাই প্রতিবেদন তৈরিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আশাকরি আমরা এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিবেদন হস্তান্তর করতে পারবো।

তিনি বলেন, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্কে কিভাবে আরো শক্তিশালী করা যায় সে কথা চিন্তা করে আমরা একটা দীদীর্ঘমেয়াদী, স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করেছি।

এদিকে করোনা সংক্রমণ রোধে গত ১৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার সাড়ে তিন মাস পর ১ জুলাই থেকে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। তবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোন সহায়তার মুখ দেখেননি ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দেড় মাস যাবত গুগল মিট, জুমের মত অ্যাপস্ ব্যবহার করে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অ্যাপস্ এ ক্লাস করার জন্য যে পরিমান ডাটা ক্রয় করা প্রযোজন তার সমর্থ্য নেই অনেক শিক্ষার্থীর। প্রথম অবস্থায় কিছুটা ডাটা ক্রয় করতে পারলেও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না অনেক শিক্ষার্থীর।

তাছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে যুক্ত হতে পারছে না। ফলে শিক্ষা বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

"গত ২৩ জুলাই বাজেট অধিবেশনে বাজেট বইয়ের মুখবন্ধে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন অনলাইনে ক্লাসে যোগ দেওয়ার জন্য স্মার্টফোন কিনতে ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার একটি প্রস্তাব করেছিলেন। পরে এ অনুদানের কথা নাকচ করে দিয়ে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, যেসব শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যার জন্য ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না, শুধুমাত্র তাদের যুক্ত করতে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, "আমার এ ব্যাপারে বসে সিদ্ধান্ত নেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কাজ আমরা শেষ করেছি। আমরা অনুষদগুলো থেকে তথ্য নিয়েছি, ইউসিসি থেকে তথ্য নিয়েছি।

তাছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে কথা বলে একটা পরিপূর্ণ রিপোর্ট তৈরির চেষ্টা করছি। প্রশাসন যেন এ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। "

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেকুর রহমান সানি বলেন, অনলাইন ক্লাস সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ তা বলা কঠিন । করোনাকালীন এই অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য অনেক ভালো একটা পদক্ষেপ ।

তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখন গ্রামাঞ্চলে ল, যেখানে দ্রুতগতির ইন্টারনেটে নেই । তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেরই অর্থনৈতিক সমস্যা আছে। এসব শিক্ষার্থী ক্লাস করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেট কিনতে পারছে না। ফলে তারা ক্লাস থেকে তথা মৌলিক অধিকার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই এই সময় শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসব শিক্ষার্থীর পাশে দাড়াতে পারেন ।

অ্যাকাউনটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, "অনলাইন ক্লাস একটি ভালো উদ্যেগ হবে যদি বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু অনলাইন ক্লাসে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অংশগ্রহণ করতে পাচ্ছে না। অনলাইনে ক্লাস শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু আশ্বাস দিয়েই গেছেন, কোন সহায়তা হাত বাড়ানি।

গত দেড় মাসে ডাটা কেনার পিছনে প্রায় ৭০০ টাকা ব্যায় করেছি। করোনাকালীন এমন দারিদ্র্য পরিবার থেকে এত টাকা খরচ করে ক্লাস করার সামর্থ্য আমার নেই। মনে হচ্ছে আর খুব বেশি দিন ক্লাস করতে পারবো না।"

ঢাকা, ১৫ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।