জবি ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি


Published: 2020-08-03 12:37:23 BdST, Updated: 2020-09-25 06:21:03 BdST

জবি লাইভঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিনকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সাইফুল ইসলাম সংক্রামক প্রতিরোধ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দেন এবং এক পর্যায়ে তার ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি দেন।

জানা যায়, জবি ছাত্র আল আমিন গত ৩১জুলাই তার পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রাইভেট কার নিয়ে ঢাকা থেকে নেত্রকোনার উদ্দেশ্য রওনা দেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় পৌছানোর পথিমধ্যে নেত্রকোনা সদরের কচিকা বাজারে এলাকায় পৌছালে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সাইফুল ইসলাম তাদের গাড়ি থামিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার অভিযোগ করেন।

এতে জবি ছাত্র আল আমিন বলেন, আমরা সবাই যেহেতু একই পরিবারের সদস্য তাই একই গাড়িতে সবাই একসাথেই বাড়ি যাচ্ছি এতে সামাজিক দূরত্ব কিভাবে বজায় রাখবো?
আমি আমাদের অপরাধ জানার ইচ্ছে প্রকাশ করলে ওনি "সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ" এর মামলা দেন।

যেখানে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইনে বলা হয়েছে- “যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটান বা ঘটতে সহায়তা করেন বা স্থানের সংস্পর্শে আসার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি গোপন করেন তাহলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে।

অথচ, আমি শুধু আমার পরিবার নিয়ে প্রাইভেট কার দিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলাম। আমি বা আমার পরিবারের কেউই করোনা তো দূরে থাক করোনার উপশমও নেই!!!

যখন প্রফেশনের প্রশ্নের উত্তরে আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পরিচয় দিই তখন আমাকে ওভার স্মার্টনেসের কথা বলে সবার সামনে হেয় করে।

আমাকে কোন কোন মামলা দেয়া হয়েছে তা না লিখেই স্বাক্ষর করতে বললে- আমি মামলার কারন জানতে চাইলে এক পর্যায়ে আমাকে আরো মামলা ঠুকে দিবে, ছাত্রত্ব বাতিল করে দিবে বলে থ্রেট দেয়।

যেখানে "তথ্য অধিকার আইন -২০০৯, ২য় অধ্যায়,৪নং এর আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, "কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকিবে এবং কোন নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।"

কচিকা বাজারে থাকা বেশির ভাগ মানুষের কোন মাস্কই ছিল না,সামাজিক দূরত্বের তো বালাই-ই নেই। এমনকি, তাদের কিছু কিছু কনস্টেবলের মুখেও কোন ধরনের মাস্ক ছিল না। আইন কি শুধু আমার ক্ষেত্রেই? নাকি অধিকার জানতে চাওয়ার রোষানল?

এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের গাড়িতে ১৮-২০জন মানুষ ছিল এবং তারা কেউ মাস্ক পরিহিত ছিলোনা এজন্য আমি তাদের সংক্রামক প্রতিরোধ আইনে মামলা দিই।

এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে তিনি অপারেশনে আছেন বলে ফোন রেখে দেন এবং একপর্যায়ে তিন বলেন যে, ওনার বিরুদ্ধে যদি আপিল করার ইচ্ছে হয় আপিল করতে বলে।

ঢাকা, ০৩ আগষ্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমবি//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।