নজরুল কলেজ ছাত্রাবাসে চুরি, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা


Published: 2020-06-02 12:41:47 BdST, Updated: 2020-07-09 07:30:59 BdST

কেএনজিসি লাইভঃ করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের শহীদ শামসুল আলম হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার রাতে বন্ধ অবস্থায় হলের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে।

কলেজের শহীদ শামসুল আলম হলের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম জানান, আনুমানিক রাত ৯টায় হলে চুরি হয়। ৩০২ ও ৩০৩ নাম্বার রুমের তালা ভেঙে দুইরুমের ৮টি ফ্যান, একটা কম্পিউটার, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ বই-পোশাক এবং ব্যবহার সামগ্রী, চশমা, ঘড়ি ইত্যাদি নিয়ে গিয়েছে চোর।

রুম দুটিতে ইয়াসিন আরাফাত স্বপন, ইমাম হোসেন ইমন, সানবীর মাহমুদ ফয়সাল, মেহেদী হাসান জয়, শরীফ, হাফিজ, জুয়েল, মেহেদী হাসান, সিরাজ থাকেন।

চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়া কক্ষ

এদের মধ্যে, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সানবীর মাহমুদ ফয়সাল জানান, আমি হলের ৩০২ নম্বর রুমে থাকতাম। করোনা ভাইরাসের কারণে হঠাৎ করে আমাদের হল ত্যাগ করতে বলায় রুমে আমার একটা কম্পিউটার, একটা ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ব্যবহার সামগ্রী রেখে গ্রামে চলে আসি। এগুলো সবই নিয়ে গিয়েছে চোরে।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত স্বপন বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য রুম খালি করতে বলা হয়েছে। আমার সবাই গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছি। কলেজ প্রশাসন যদি এ বিষয়ে সচেতন থাকতো এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে চুরির ঘটনা ঘটতো না। চুরির ঘটনার জন্য কলেজ প্রশাসনের অসচেতনতাকে দায়ী করেন তিনি।

স্বপন জানান, কলেজের অধ্যক্ষকে হল সংস্কার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি আমরা। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ সিকদার রাহাদ বলেন, হলের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ কয়েকবার তুলে ধরা হয়েছে কলেজ প্রশাসনের কাছে কিন্তু কলেজ প্রশাসনের অবহেলায় আজ এই ঘটনা ঘটল।

চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়া কক্ষ

রাজধানীর পুরান ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাস শহীদ শামসুল আলম হলে সিট সংখ্যা ১২০টি। সেখানে গাদাগাদি করে থাকে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী।

কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আকবর হুসাইন বলেন, চুরি প্রসঙ্গে আমি এখনও পর্যন্ত কিছুই জানি না। হলের নিরাপত্তার বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যার ভালো জানাতে পারবেন। যেহেতু চুরি হয়েছে নিশ্চিত জানতে পারিনি, তাই আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না।

এ ব্যাপারে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা, ০২ জুন (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আইকে//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।