বাজারে মানুষদের সচেতন করতে গিয়ে পুলিশি হেনস্তার শিকার ঢাবি শিক্ষার্থী


Published: 2020-05-15 22:33:05 BdST, Updated: 2020-09-20 01:43:39 BdST

ঢাবি লাইভ: টাঙ্গাইলের সখিপুরের স্থানীয় বাজারে সতর্কবার্তা সম্বলিত কার্ড ঝুলানো ও দোকানগুলোর সামনে দড়ি টাঙিয়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করার কাজ করতে গিয়ে পুলিশের মারধর ও মামলার শিকার হয়েছেন আব্দুল করিম নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সচেতনতামূলক কাজ করার সময় পুলিশি হেনস্তার শিকার হন আব্দুল করিম নামের এই ঢাবি শিক্ষার্থী। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা পুলিশ হেনস্তার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ এনে তাকে অর্থদন্ড প্রদান করেন।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ কে পাঠানো তথ্য পাঠকদের জন্য ঘটনার হুবহু বর্ণনা তুলে ধরা হলো-
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই ওষুধ কেনার জন্য বাজারে এসেছি। বাজারে আসতেই দেখি মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে উপচেপড়া ভিড়।

মামলার কাগজ

 

স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানও বাজারে হেটে হেটে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। আবার রেডক্রিসেন্টের ছেলেরাও সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। বাজারের স্থানীয় বণিক সমিতির উদ্যোগে বাঁশি হাতেও কাজ করছেন কর্মীরা। তবুও যেনো মানুষের ভিড় কমছে না, মানুষের ভিড় আটকানো যাচ্ছে না।'

'এরপরেই আমার ভাগ্নে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাসেলের এবং ছোটভাই মোশারফের সাথে পরামর্শ করি যে কিছু একটা করা যায় কিনা। যারা কিনতে আসছেন তারাও আমাদের পরিচিতজন এবং যারা বিক্রি করছেন তারাও আমাদের পরিচিতজন। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যাদি মানুষ কিনতে আসবেই। তাই আমরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই যাতে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে পারে তার জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিই। সিদ্ধান্তগুলো হলো- দোকানগুলোর সামনে সতর্কবার্তা সম্বলিত কার্ড ঝুলানো। দোকানগুলোর সামনে দড়ি টাঙিয়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিত করা।

'এরপর সতর্কবার্তা লেখার কাজ শুরু করি।দোকানের সামনে কোথায় কোথায় সতর্কবার্তা সম্বলিত কার্ডগুলো লাগানো যায় তা দেখে আমি প্রিন্ট করানোর জন্য বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বাইকের চাবি নিয়ে বের হই। এই সময়ের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা শুরু করেছেন এবং দোকানের চাবি সংগ্রহ করছিলেন।

আমার হাতে তখন বাইকের চাবি ছিল। এইসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে- এই চাবি দে। আমি বলি- ভদ্রভাবে বলুন। এরপরই আমাকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং আমার মুখমণ্ডলের ওপর ঘুষি ও কিল সমেত আঘাত করা শুরু করে।

আমার কাছ থেকে বাইকের চাবিটি কেড়ে নেয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমার ওপর শারীরিক আঘাতের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। আমার পরিচয় জিজ্ঞাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে হুমকি-ধামকি দিতে শুরু করেন এবং উল্টো আমার বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রীয় কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেন, আমাকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।'

আবেগ প্রকাশ করে আব্দুল করিম বলেন, 'এই করোনার বিরুদ্ধে ডাক্তার, পুলিশ, আর্মি অন্যান্য সবার মতোই এই দেশের তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থীরাও লড়ছে। এরাও লড়ছে এই দেশের মানুষের জন্য, এদেরও দেশের প্রতি রয়েছে মমত্ববোধ, আর নিখাদ ভালোবাসা।
আমি শুধু এইটুকুই প্রত্যাশা করছি যে- এইসব ঘটনা যেনো হাজার হাজার তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থীর দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি তাদের দরদের জায়গা, আর তাদের মনোবল যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না করতে পারে!'

ঢাকা, ১৫ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআর//এআইটি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।