ঢাবি: অনলাইন ক্লাসের প্রধান অন্তরায় ইন্টারনেট এক্সেস


Published: 2020-05-14 21:58:01 BdST, Updated: 2020-05-31 09:59:09 BdST

মিজানুর রহমান, ঢাবি: মিজানুর রহমান, ঢাবি: করোনার ভয়াল ছোবলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের দুর্বলতার কথা আমরা সবাই জানি। একই সাথে সকলেরই অনলাইনে ক্লাস করার উপযোগী ডিভাইস আছে এমন ভাবাটা বাতুলতা। এই করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে ইন্টারনেটের খরচ বহন করা তাদের উপরে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা ছাড়া কিছু নয়।

করোনাভাইরাস জনিত পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্খিত ও অনির্ধারিত ছুটিকালীন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকে সমাধান হিসেবে দেখছেন অনলাইন ক্লাস। কিন্তু প্রভোস্ট ও ডিন কমিটির একাধিকবার সভার পরও অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তে যেতে পারছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাও একই।

সভায় অনলাইন ক্লাসের প্রধান অন্তরায় হিসেবে উঠে এসেছে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের দূর্বল ইন্টারনেট ফ্রিকুয়েন্সি, ডাটা প্যাকেজ ক্রয়ে অক্ষমতা ও ডিভাইস অপ্রতুলতা। ফলে প্রশ্ন উঠছে তাহলে এটা কেমন ডিজিটাল বাংলাদেশ?

বাংলাদেশে গতবছরের ১৯শে ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বা ফোরজি সেবা চালু করে ৩টি মোবাইল ফোন অপারেটর। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এখনো থ্রি জি মানের সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। বলেছেন এটা তো নামে মাত্র।

ওপেনসিগনালের তথ্য মতে, বিশ্বে গড় ইন্টারনেট ফ্রিকুয়েন্সি ১৬ এমবিপিএস। সিঙ্গাপুরে ৪৪.৩১ এমবিপিএস,ভিয়েতনামে ২১.৪৯ এমবিবিএস, মিয়ানমার ১৫.৫৬ এমবিবিএস, শ্রীলংকা ১৩.৯৫ এমবিপিএস, পাকিস্তান ১৩.৫৬ এমবিপিএস, ভারত ৬.৩৭ এমবিপিএস। আর বাংলাদেশে ৪ এমবিপিএসের নীচে।

তথ্যমতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ইন্টারনেট মূল্য সর্বোচ্চ। ফলে উচ্চমূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ ক্রয়েও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা কতটুকু সেটা নিয়েও প্রশ্ন করছে অনেকেই।

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জমান ডিন’স কমিটির সাথে সভার আয়োজন করেন। সভায় বলা হয়, "বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। ইন্টারনেট এ্যাকসেসসহ প্রযুক্তিগত অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় অনলাইন ক্লাশে তাদের অংশগ্রহনের সক্ষমতা নেই। তাই অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। "

সভায়," ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজ ক্রয়ে অনেক শিক্ষার্থীর অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা আছে বলেও জানান।" বিশেষ করে নিরিবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ থাকে না অনেক এলাকাতে। তাই চাইলেও এটা সশ্বব নয়।

অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে ঢাবি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, "শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।

কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশ কিংবা ফোর জি'র বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসের প্রধান অন্তরায় ইন্টারনেট সংযোগ সেটা ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দের সাথে বেমানান। সরকারের উচিত হবে ফাঁকা বুলি না উড়িয়ে কাজের কাজ করা।"

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, " করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি জনিত ছুটিতে গ্রামে অবস্থান করছি দুইমাস হচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগ দূর্বল হওয়ার কারনে যেখানে ফেইসবুক ইউজ করতে পারছি না, সংবাদ পড়তে পারছি না।

একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ইন্টারনেট সংযোগের কারনে বাকি দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা খুবই হতাশাজনক। সরকারের উচিত গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা,ডাটা প্যাকেজের মূল্য হ্রাস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সকলের নাগালের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা।"

ঢাকা, ১৪ মে (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআর//বিএসসি

 

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।