পিএইচডি ধারী ও ফাস্টক্লাস ফার্স্ট কে বাদ দিয়েই নিয়োগের সুপারিশ


Published: 2020-02-25 23:55:48 BdST, Updated: 2020-03-30 03:22:37 BdST

ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে পিএইচডি ডিগ্রিধারী পাঁচজন ও অনার্স-মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দিয়ে কোনো ধরনের রিসার্চ পাবলিকেশন না থাকা প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে সিলেকশন বোর্ড।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডের সভা থেকে এ সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে বোর্ড।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সুপারিশ উত্থাপনের কথা রয়েছে।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দু’টি স্থায়ী শূন্য প্রভাষক পদ পূরণের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে ২৬টি আবেদন পড়ে। মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ১৬ জন। তাদের থেকে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে সিলেকশন বোর্ড।

নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃতরা হলেন— মো. রাফিউল ইসলাম রাঙ্গা, এসএম তানজিল শাহ ও মো. আবু সায়েম খান।

এর মধ্যে মো. রাফিউল ইসলাম রাঙ্গা স্নাতক সম্মানে ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড ও স্নাতকোত্তরে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট অর্জন করেন, তাকে সুপারিশের বিষয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই।

তবে বাকি দুজনের নিয়োগের সুপারিশ বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এর মধ্যে মো. আবু সায়েম খান স্নাতক সম্মানে দশম ও স্নাতকোত্তরে পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন। আর এসএম তানজিল শাহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ের চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। তাদের দুজনের কারোরই কোনো গবেষণা প্রকাশনা নেই।

সিলেকশন বোর্ড থেকে বাদ পড়েছেন পিএইচডি ডিগ্রিধারী পাঁচজন চাকরিপ্রার্থী। তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস থেকে পিএইচডি করা ড. মোরশেদা মাহবুব (প্রকাশনা সংখ্যা ৪), যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শুভ্র প্রকাশ নন্দী (প্রকাশনা সংখ্যা ৯), ডেনমার্কের কোপেন হেগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা ড. জিনাত জেরিন হোসাইন (প্রকাশনা সংখ্যা ৬) ও ড. জান্নাতুল ফেরদৌস (প্রকাশনা সংখ্যা ৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শারমিন জামান ইমন (প্রকাশনা সংখ্যা ১৩)।

অপরদিকে রিসার্চ পাবলিকেশন থাকা সত্ত্বেও অনার্স-মাস্টার্সে প্রথম হওয়া নাদিরা নাজনীন রাখি কে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেনি সিলেকশন বোর্ড। তিনিই একমাত্র ডাবল ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হওয়া প্রার্থী। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার দু’টি প্রকাশনা রয়েছে।

নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. নাসরীন আহমাদ বলেন, সবাই ভালো স্টুডেন্ট কোন সন্দেহ নেই। ১ম, ২য়,৩য়,৪র্থ যারা হয় তাদের মধ্যে সিজিপিএর পার্থক্য খুবই অল্প। আর শুধু ভাল ফল করলেই তো হবে না। পারফরম্যান্স বলে একটা কথা আছে।অনেকে ভালো ফল করেছে কিন্তু পারফরম্যান্স ভালো না।

তোমরা সকলেই ফোন দিচ্ছ, আর সিলেকশন বোর্ডে তো আমি একা ছিলাম না। ওই বিভাগের দুইজন সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন। খুব গণতান্ত্রিক উপায়ে এটি হয়েছে। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পিএইচডি ডিগ্রি ধারীদের বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়গ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। ওই পদ রেখে তিনি প্রভাষক পদে যোগ দিতে এসেছেন কেন?

এ বিষয়ে জানতে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানকে ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।