ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোটভাই সহ নির্যাতনের শিকার সাবেক শিক্ষার্থী


Published: 2020-02-23 00:55:25 BdST, Updated: 2020-04-05 03:33:36 BdST
ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের বেলায় ঘুরতে এসে "র্যাগিং" ও পরে ব্যাপক মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী ও তাদের এক ছোট ভাই। শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে সলিমুল্লাহ হল সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের ভিপি এম এম কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়।এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিমের ৪ সদস্য আহত হয়েছে বলেও জানা যায়।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন,থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের রানা নাসের,মার্কেটিং বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নুজহাত ফারহানা এবং রানা নাসেরের ছোট ভাই বাপ্পী।

প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা জানান,খুব অমানবিকভাবে হলের ভিপির উপস্থিতিতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছিল দেখে আমরা দৌড়ে গিয়ে বাধা দিই।আর তাতে আমাদেরও ব্যাপক মারধর করা হয়।

তাদের অপরাধ কি ছিল এমন প্রশ্নে তারা বলেন,তাদের মধ্যে দুজন ভাই।আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় আপু।সে চায়নায় পড়াশোনা করছে।তারা সাবেক এটাই তাদের অপরাধ ছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায় তাদের।এক সদস্য বলেন,কামাল আমাদের ওপর প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী নিয়ে চড়াও হয়।আমরা ছিলাম মাত্র চারজন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রানা নাসের বলেন, আমার ছোট ভাই বাপ্পি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার পরিবার তাকে চায়নাতে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চায়। তাই আমি আমার ছোট ভাইয়ের মানসিক প্রস্তুতির জন্য আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় আপুর দ্বারস্থ হই।

তিনি বলেন,  গতকাল আপুর সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি ফুলার রোডে আমাদের দেখা করতে বলেন। এসময় আমি আমার ভাই এবং ওই আপুকে এক জায়গায় বসিয়ে কাছেই একটি কাজের জন্য যাই। এমন সময় এসএম হলের কিছু শিক্ষার্থী এসে আমার ভাইকে মারধর করতে দেখি।

আমি দূর থেকে দৌড়ে আমার ভাইয়ের কাছে যাই। তখন আমাকে দেখে শিক্ষার্থীরা এসএম হলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে আমি একজনকে ধরে ফেলি। আমি তাকে ক্ষোভ থেকে বলতে লাগলাম,'স্টুপিড, ঢাকা ইউনিভার্সিটির মানে বুঝো?এসব বলতেই এসএম হলের ভিপি কামাল আসে। আমি কামালের সাথে কথা বলতে ছিলাম এমন সময় শিক্ষার্থীরা আমাদের এসএম হলের ভিতরে নিয়ে যায়।

ভিতরে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কামালের নেতৃত্বে  শিক্ষার্থীরা আমাদের ব্যাপক মারধর শুরু করে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম গেলে তাদের উপরও চড়াও হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে  শাহবাগ থানায় অভিযোগ পত্র দায়ের করেছি এবং আগামীকাল প্রক্টর বরবার লিখিত  অভিযোগ দেব।

তিনি বলেন নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়া যে কত বড় কষ্টের সেটা যে ভিক্টিম সেই বোঝে। জানা যায়,সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমে ফুলার রোডে কাপল ও বহিরাগত দেখলেই র্যাগিং-এর নির্দেশনা দিয়েছেন রাজনৈতিক গ্রুপের নেতারা। এটি ছিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা রীতিমতো ফুলার রোডে র্যাগিং দেওয়ার একটি অংশ।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি কামালের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এমনকি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিএক্টিব করে রেখেছেন তিনি। এর আগে পলাশী এলাকায় চাঁদাবাজি,ক্যাম্পাসে ইদের আগে ছাগলের বাজার বসানো,ভিপি নুরের উপর ডিম নিক্ষেপসহ বেশ কিছু অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিয়ে বলেন, একটি মহল আছে যারা এরকম আচরণ করে। ক্যাম্পাসে সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে এরকম আচরণ করে। তাদের একটা ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকে। এটা নিয়ে তোমরা লেখালেখি করো। ইনভেস্টিগেট করো। তাদের নাম বের করার চেষ্টা করো। আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি। 

আমাদের চারজন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যও আহত হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। আগামীকাল ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করবে  বলে জানান।

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//বিএসসি

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।