'জঙ্গিরা ধর্মের নামে অর্থ সংগ্রহের পলিসি গ্রহণ করেছিল'


Published: 2020-02-17 23:01:35 BdST, Updated: 2020-04-10 03:07:25 BdST

ঢাবি লাইভঃ হলি আর্টিজানে তাণ্ডব চালানোর পর আমরা জঙ্গিদের অর্থায়নের দিকে নজর দেই। আমরা দেখেছি যে তারা ধর্মের নামে অর্থ সংগ্রহের পলিসি গ্রহণ করেছিল। আমরা দেখেছি, অনেকে জানেন না কিন্তু ধর্মের নামে টাকা দিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ডাকসু ল এন্ড পলিটিক্স রিভিউ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত 'ডি.ইউ.থিংকস' শীর্ষক সিরিজ বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

উক্ত আলােচনায় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.রুহুল আমিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
বিভাগের প্রফেসর ড. দেলোয়ার হােসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্স ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামাল হোসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হােসাইন। আলােচনা সঞ্চালনা করেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক
সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্নি।

আলোচনায় আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জঙ্গিরা বিভিন্ননামে এদেশের ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করেছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশকে একটা জঙ্গি আস্তানায় রুপান্তর করা। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সবাই ঘুরে দাড়িয়েছিল বলেই জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হয়েছিল।

তিনি বলেন, এদেশের জনগণ কোনদিন জঙ্গিকে আশ্রয় দেয়নি, তাই জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে আমাদের সুবিধা হয়েছিল।

আয়ােজনের তৃতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে "ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম ফান্ডিং ইন সাউথ এশিয়াঃ এ কমপেরেটিভ স্টাডি অফ বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান" প্রতিপাদ্যে অভিসন্দর্ভ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিয়ান রেজা সাররিয়েত।

তিনি দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গিবাদের অর্থায়নের মূল উৎসগুলাে এবং প্রতিরােধ করতে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার গবেষণায় বাংলাদেশের ২টি (আনসার-আল-ইসলাম ও জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ), ভারতের ২টি
(জাইশ-ই-মােহাম্মদ ও লস্কর ই-তাইয়েবা) এবং পাকিস্তানের ২টি (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান ও হাত-উল জিহাদ-আল-ইসলাম) মােট ছয়টি জঙ্গী সংগঠনের অর্থায়নের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন ।

এছাড়াও তিনি তিন দেশের উল্লেখযােগ্য জঙ্গী হামলা- হলি আর্টিজান বেকারিতে তাণ্ডব (বাংলাদেশ), মুম্বাই হামলা (ভারত) এবং বেনজির ভুট্টো গুপ্তহত্যা (পাকিস্তান) এর আগে ও পরে জঙ্গি অর্থায়নে উক্ত দেশগুলাের সরকারের তৎপরতা বিষদভাবে আলােচনা করেন।

বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিরা মূলত ধর্মকে মাধ্যম করে চাঁদা তোলার মাধ্যমে অর্থায়ন করতো। তবে জেএমবি শুরু থেকেই ক্রিমিনাল অ্যাকটিভিটিস এর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতো। তাছাড়াও ফেক ইন্ডিয়ান কারেন্সির মাধ্যমেও তারা অর্থয়ন করতো বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, অর্থ দান করার আগে আমাদের ভাবা উচিত তা কোথায় ব্যায় করা হবে। আর তা করতে পারলে আমরা জঙ্গিবাদের অর্থায়ন বন্ধ করতে পারবো।

ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।