বাংলা একাডেমীতে নিপুণ হাতেই সাজছে একুশে গ্রন্থমেলা


Published: 2020-01-30 03:48:17 BdST, Updated: 2020-09-23 09:59:57 BdST

মিজানুর রহমান, ঢাবিঃ কোয়াশাচ্ছন্ন আকাশ। সারা দিনেই সূর্যের দেখা মেলেনি। শীতের তীব্রতা তেমন নেই। এরই মধ্যে এক পশলা বৃষ্টি। শীত কিংবা বৃষ্টি কোনই কিছুই যেন আবু সাঈদকে স্পর্শ করেনা। বেড়ে উঠার সাথে সাথেই জড়িয়ে যায় রঙের জগতে। এ রং জীবনের রং নয়, অন্যের জীবন রঙিন করতে কাজ করেন সাঈদ।

আর তিন দিন পরেই ২ জানুয়ারী রবিবার শুরু হবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এ নিয়ে আবু সাঈদের মতো হাজারো শ্রমিক ও কারিগরের দম ফেলবার সময় নেই। আর্কিটেকচারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিপুণ হাতে চালিয়ে যাচ্ছে কাজ। প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে কেউ রঙের কাজ, কেউবা টুংটাং শব্দে স্টল নির্মাণে ব্যস্ত। টিএসসি থেকে কার্জন হল এলাকায় অনিন্দ্য সুন্দর ও চন্দময় টুংটাং শব্দেরই অনুরণন। অন্যদিকে বাঁশের নিপুণ শিল্প কর্মও চোখে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর নামে প্যাভিলনগুলোতে চোখ বিঁধে যায়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ২৫ নং প্যাভেলিয়ানের পাঠক সমাবেশ স্টলের মোঃ আবু সাঈদ ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, ক্লাস ওয়ানের গন্ডি পার হওয়ার সুযোগ হয়নি তার। বইয়ের কাছ থেকে আজীবন দূরে থেকেছেন তবু বইয়ের প্রতি একধরনের টান অনুভব করেন। তাই অন্য আট-দশটা কাজের মতো দেখছেন না এটিকে। বইয়ের প্রতি গভীর এক টান থেকেই নিপুণ ভাবে হাত চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বইমেলার প্রস্তুতি

 

তার ভাষ্য হলো, "টাকা পয়সার অভাবে পড়ালেখা করতে পারিনি, তবুও একধরনের টান অনুভব করেন। তাই কাজেই তার প্রমান দিয়ে যাচ্ছি।" মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ ক্যাম্পাসলাইভ২৪ কে বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারের মেলাকে আমরা অন্যবারের তুলনায় কিছুটা ভিন্নভাবে করার চিন্তা করছি। এবারের মেলা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হয়েছে। মেলার সজ্জা, আলোচনাসহ সর্বত্রই থাকবে বঙ্গবন্ধু।

তিনি আরো বলেন, সজ্জায় এবার আসছে ভিন্নতা। বইমেলাকে বঙ্গবন্ধুময় করে তুলতে সাজসজ্জায় বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত উক্তি, আলোকচিত্রের ব্যবহার করা হচ্ছে। গতবছর ৪১৯ টি প্রকাশনা প্রতিষ্টান অংশ গ্রহন করলেও এবারে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বেড়েছে, ফলে মোট ৫৫৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। ৯০০টি ইউনিট এবং ৩৪টি প্যাভেলিয়ন থাকবে।

জানা গেছে, এবারের মেলা আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। সাড়ে আট লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবারের মেলা। মেলার বিন্যাসের নকশা করছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হবে বটে, তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হবে মূল মেলা।

এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন নানান পাশ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকে মেলার সঙ্গে মিশে যেতে পারেন পাঠক।

মেলার চলমান প্রস্তুতি

 

এবারের গ্রন্থ মেলাকে শিকড়, সংগ্রাম, মুক্তি এবং অর্জন এই চার ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। মেলায় নানা আয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুজিব পাঠাগার, যেখানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত শতাধিক বই থাকবে। পাশাপাশি বই নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন এবং প্রদর্শনীও থাকবে।

শিশুদের জন্য নির্মিত হচ্ছে হাতেখড়ি চত্বর। যেখানে অভিবাবকরা বিখ্যাত লেখক ও প্রকাশকদের হাত দিয়ে তাদের শিশুদের হাতেখড়ি শুরু করতে পারবেন।

এ ছাড়া বইমেলা প্রাঙ্গণে মসজিদ, টয়লেট ব্যবস্থাপনা, ফুড পার্ক ও প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র থাকবে। মেলার নিরাপত্তায় তিন শতাধিক সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। বাঁশ ও টিন দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ শক্ত করে বেষ্টনী দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে সেদিনই হবে উদ্বোধন। প্রস্তুতি হিসেবে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে মঞ্চ সজ্জার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।