ঢাবিতে 'নক্ষত্র নিভে যায়' কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব


Published: 2020-01-27 20:50:03 BdST, Updated: 2020-02-23 12:28:25 BdST

ঢাবি লাইভঃ
গেঁথেছি নকশীকাঁথা স্বপ্নে ভরে,
লাল নীল হলুদেরা খেলা করে,
জানি বয়ে যায় জীবনের লগ্ন,
তবু পথ চলার স্বপ্নে এখনো মগ্ন। "
আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'নক্ষত্র নিভে যায়' কাব্যগ্রন্থের ৯০ টি কবিতার 'বেজে উঠল আমন্ত্রণ' কবিতার শেষ পঙক্তি। স্বপ্নের মতো এরকম অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিটি কবিতার লাইন।

ড. আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নক্ষত্র নিভে যায়’ -এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

'নক্ষত্র নিভে যায়' কাব্যগ্রন্থটি খোয়ানো শব্দের লেশ এবং শোক ও দ্রোহের শ্লোক নামে দুই ভাগে বিভক্ত। কাব্যগ্রন্থে মোট ৯০ টি কবিতা রয়েছে। অন্যপ্রকাশ পাবলিকেশন থেকে এটি প্রকাশিত হয়। বইটির মূল্য ২৮০ টাকা। ২ ফেব্রুয়ারী থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অন্যপ্রকাশ পাবলিকেশনের স্টলে এটি পাওয়া যাবে।

আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী। শৈশব থেকেই কবিতা তার সঙ্গী। কবিতা পড়া, কবিতা আবৃত্তি করা তাঁর কাছে নেশার মতো। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য হলো, 'কবিতা আমার আশৈশব সঙ্গী। কবিতা না পড়ে থাকতে পারি না।' অবশ্য কখনো সখনো মনের মাধুরী মিশিয়ে গড়ে তুলেছেন কাব্যপ্রতিমাকেও। তবে তা আড়ালেই থেকে গেছে। কেননা বিষয়টি নিয়মিত ছিল না। তবে গত এক বছর ধরে তিনি মগ্ন হয়ে কবিতা রচনা করছেন।

এইসব কবিতা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; হৃদয়কে ছুঁয়ে গেছে। সেইসব কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হলো আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'নক্ষত্র নিভে যায়'। এখানে আমাদের চারপাশে নানা বিষয়সহ চেতনার বিচিত্র অলিগলির অবয়ব, গভীর সব অনুভূতি মূর্ত হয়ে উঠেছে।

জাতীয় প্রফেসর আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির উপর আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, শিক্ষাবিদ-কথাশিল্পী অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর ভিসি প্রফেসর বিশ্বজিৎ ঘোষ। প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন সাংসদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশনী সংস্থা অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, নক্ষত্র নিভে যায় বইটি একটি কষ্ট লালনের বই। বইটিতে দুটি অংশ আছে। যার প্রথম অংশে রয়েছে একটা দার্শনিক বোধ এবং ভালোবাসার কথা। এখানে তার ব্যক্তিগত কবিতাই বেশি স্থান পেয়েছে। দ্বিতীয় অংশে সমকালে বাংলাদেশের অন্যায়, অবিচার এবং ক্ষোভ প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, নিজের কথাকে যে অন্যের কথা করে তুলতে পারেন সেখানেই শিল্পের সার্থকতা। ব্যক্তি, দেশ এবং বিশ্ব একাকার হয়ে গেছে তার 'নক্ষত্র নিভে যায়' এই কাব্যগ্রন্থে।

প্রফেসর সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, বইটিতে যে নক্ষত্রের কথা বলা হয়েছে। সেই নক্ষত্রকে আমি ভালোভাবে চিনতাম। তিনি হলেন সীতারা পারভীন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়

 

বইটিতে প্রত্যেক কবিতা শুরু হয়েছে একটা আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে। বইটির প্রত্যকটা কবিতায় কোন না কোন বিষয় আন্দোলিত হয়েছে। তিনি কবিতাগুলোতে একটা সুর তুলেছেন কিন্তু এর ফলাফল ছুড়ে দিয়েছেন পাঠকের কাছে।

'নক্ষত্র নিভে যায় ' কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। তিনি বলেন, আমরা ভালোবাসার অংশটুকু নিজের কাছে জমা রাখতে চায়। আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী এখানে তার জীবনের কবিতাগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করে লিখেছেন।

তিনি বলেন, কবিতা এমন একটা জিনিস যা আপনাকে একটা রূপ থেকে অন্য রূপে যেতে প্রলুব্ধ করে। সমস্ত শিল্পের মূল নাম কবিতা। কবিতাকে অন্য শিল্প থেকে পৃথক করার দরকার নেই। সবকিছুর মাঝেই রয়েছে কবিতা।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রফেসর আনিসুজ্জামান বলেন, আহাদুজ্জামান মুহাম্মদ আলী কবিতাকে জীবনের মর্মে গ্রহণ করেছেন। তার কবিতার প্রথম অংশে রয়েছে অন্তরঙ্গতা আর দ্বিতীয় অংশে রয়েছে উচ্চকণ্ঠের প্রকাশ।

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।