ঢাবিতে 'অবৈধ দোকান' উচ্ছেদে ছাত্রলীগের বাধা


Published: 2020-01-27 19:41:55 BdST, Updated: 2020-03-29 17:13:50 BdST

ঢাবি লাইভঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শামসুন্নাহার হলের সামনে মিশুক মনির চত্ত্বর সংলগ্ন এলাকার অবৈধ দোকান উচ্ছেদে বাধা দেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা। সরেজমিন দেখা যায়, হল সংসদের উদ্যোগে প্রশাসন ঘোষিত দোকানগুলো সরাতে গেলে ছাত্রলীগ নেত্রীরা দলবেধে সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেয়।

সোমবার দুপুর ১২টা ৩০মিনিটের দিকে সামসুন্নাহার হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ছাত্রলীগ নেতৃত্বের বলতে শোনা যায়, দোকান সরিয়ে ফেললে শিক্ষার্থীরা খাবে কী! কার অনুমতিতে এগুলো সরানো হচ্ছে? দেখা যায় উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেওয়া হল সংসদের নির্বাচিত (জিএস) আফসানা ছাফাকে 'তুই তুকারি' করে কথা বলতে শোনা যায়। আফসানাও বলতে থাকে 'তোমাকে আমি চিনি না, তুমি বলে সম্বোধন করছ কেন?'

এ ব্যাপারে হল সংসদের জিএস আফসানা ছাফা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দোকানগুলো এখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছে। স্টেট ম্যানেজার এবং হল প্রাধ্যক্ষ এসব অবৈধ বলে নোটিশ দিয়েছে। সেই নির্দেশনা পেয়ে আমরা এখানে এসেছি।

নোটিশ

 

দোকান গুলো উচ্ছেদের কারণ কী এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এসব দোকানের কারণে এখানে বিকাল বেলা বাজারে পরিণত হয়। এখানে বহিরাগত, মাদকসেবী, ভবঘুরে লোকজন আড্ডা দেয়। যার ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগী। তাই আমরা স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে এসেছি। এসময় তিনি এসব দোকান থেকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেন।

বাধার কারণ কী জানতে চাইলে সাংবাদিকদের নিজের নাম এবং বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে ছাত্রলীগ নেত্রীরা। পরে জানা যায়, ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত পাঠকক্ষ বিষয়ক সম্পাদক বিশাখা দাস ইরা এতে নেতৃত্ব দেয়। তার সাথে রয়েছে আরেক ছাত্রলীগ নেত্রী সেহেরজান সহ প্রায় ২০-২৫ জন।

বিশাখা বলেন, আমি জেনারেল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখানে এসেছি। নাম বলার প্রয়োজন মনে করছিনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতে সম্মতি দিয়েছে আপনারা বাধা দিচ্ছেন কেন? এমন প্রশ্নে এ শিক্ষার্থী বলেন, দোকান উঠে গেলে আমরা নাস্তা করবো কোথায়। হলের ভেতর কোন দোকান দেওয়া নাই। তাহলে হলের ছাত্রীরা নাস্তা করবে কোথায়। এক পর্যায়ে সাংবািদকদের সাথে অশোভন কথাবার্তা বলতে শুরু করেন।

উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালীন সময়

এদিকে উচ্ছেদে সম্মতি জানিয়েছে হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর সুপ্রিয় সাহা। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে হল সংসদের আগে থেকেই দাবি ছিল। আমি ২ বছর যাবৎ বিভিন্নভাবে এসব উচ্ছেদ করার জন্য চিঠি দিয়ে আসছি। দোকানগুলো থাকার কারণে এখানে বহিরাগত, গাড়ি পার্কিং শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই এগুলো উচ্ছেদে আমার সম্মতি রয়েছে।তিনি বলেন, এ জায়গা স্টেট ম্যানেজারের দায়িত্বে। আমার দায়িত্বে হলে আমি সরাতাম।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত স্টেট ম্যানেজার মিসেস সুপ্রিয়া দাস বলেন, এটা হল প্রশাসনের দায়িত্ব।আমরা চিঠি দিয়ে তাদের অবহিত করেছি।

স্টেট ম্যানেজারের পাঠানো চিঠিতে দোকানগুলো উচ্ছেদে হল প্রাধ্যক্ষেরও অনুমতি রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর একে এম গোলাম রব্বানী বলেন, গতকাল ওই দোকান গুলো বন্ধ করা হয়েছে। আমি সবাইকে বলে দিয়েছি। এট এস্টেট অফিস করবে। প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ সাথে থাকবেন।

গতকালকে ডাকসু'র জিএস গোলাম রাব্বানী তার ফেইসবুকে শামসুন্নাহার হলের আশেপাশের দোকানগুলোর ছবি দিয়ে পোস্টে লিখেন, শামসুন্নাহার হল সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অবৈধ দোকান ও ভবঘুরেদের উচ্ছেদ করা হবে।

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।