"বঙ্গবন্ধুকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে"


Published: 2020-01-25 21:37:50 BdST, Updated: 2020-03-28 14:26:26 BdST

ঢাবি লাইভ : মুজিববর্ষ ও ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের ৭ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে বাঙালীর আত্মাউপলব্ধি ও বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচটি ইমাম), বিশেষ অতিথি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিইউপি) 'বঙ্গবন্ধু চেয়ার' প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম(এইচ টি ইমাম) বাঙালি জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা এ তিনটি আমার কাছে একই সূত্রে গাঁথা এবং এগুলো সমর্থক শব্দ বলে মনে করি আমি। বঙ্গবন্ধুই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি আমাদের ভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বাঙালি জাতিসত্তা তুলে ধরেছেন এবং আমাদের মাঝে সেগুলো প্রোথিত করে দিয়েছেন। যার ফলে আমরা নিজেদের স্বতন্ত্র ভাবতে শুরু করেছি, তখন আমরা বুঝতে পেরেছি আমাদের ভিন্ন রাষ্ট্র হওয়া প্রয়োজন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুকে নানা ভাবে শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে তখনই, যখন আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি। আমরা যতই শ্রদ্ধা দেখাই না কেন, আমরা অনেকে মনে প্রাণে তাঁর সেই স্বপ্ন লালন করি না। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তাঁর বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লড়ে যাচ্ছেন, প্রতি মুহূর্তে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর পাশে খুব বেশি সংখ্যক মানুষ নাই। অথচ যদি তাঁর আশেপাশে আর দুয়েকটা লোক থাকতেন, সংখ্যায় তা যদি একটু বেশি হতো, তাহলে এ দেশটাকে খুব দ্রুতই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হত।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিইউপি) 'বঙ্গবন্ধু চেয়ার' প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু জাতির পিতাই নন, তিনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক জাতির পিতা। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, মুদ্রা, ব্যাংক, রাষ্ট্রীয় তোষাখানা, সীমান্ত সব কিছুই তাঁর চিন্তার ফসল। তিনি বলে গেছেন শোষিতদের জন্য গণতন্ত্র।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ৩১তম বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদি বলেন, আমাদের প্রত্যেক অনুষ্ঠানের একটি উদ্দেশ্য আছে। এই প্রোগ্রামেও একটা উদ্দেশ্য আছে সেটা হলো বঙ্গবন্ধুর দর্শন সম্পর্কে জানা। ১৯৭৫ এর পর থেকে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মুছে ফেলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছে একটি মহল। আমরা যখন পড়লেখা করেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে খুব বেশি জানতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে সমসাময়িক সকল বিষয় উঠে আসে, তাঁর রাষ্ট্র চিন্তা দেশ নিয়ে ভাবনা সব কিছুই। আমরা যারা চাকরি করি পড়াশোনা করার তেমন সময় পাই না তাই তাঁর বক্তব্য গুলো শুনতে পারি। তিনি সরকারের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এতে ৩১তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে যোগদানকারী কর্মকর্তা, তাদের পরিবার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী অঞ্জন দত্ত ও তাঁর গাণের দল 'সর্বনাম' গান পরিবেশন করেন।

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।