ঢাবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু ২৫ জানুয়ারি


Published: 2020-01-24 23:10:45 BdST, Updated: 2020-09-20 08:13:04 BdST

ঢাবি লাইভ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। "International Conference on Earth and Environment Science and Technology (ICEEST) for Sustainable Development, 2020" শীর্ষক সম্মেলনটি শেষ হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি।

ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকাতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের ২৬ জানুয়ারি মহামান্য প্রেসিডেন্ট মোঃ আব্দুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এটি "মুজিববর্ষ" উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য প্রোগ্রামের একটি। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেস অনুষদের একটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেস অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মাকসুদ কামাল বলেন, জাতীয়,আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের সাথে ভূসম্পত্ত, সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও প্রকৌশলগত সমাধান সম্পর্কযুক্ত ও ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। টেকশয় উন্নয়নের সাথে এই বিষয়গুলোর সম্পর্ক আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এই কনফারেন্সের অন্যতম লক্ষ ও উদ্দেশ্য।

এছাড়াও দেশে যে গবেষণা পরিবেশ বওরাজ করছে তা বিদেশীদের কাছে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গবেষণা সহযোগিতা, সহায়তা ও যৌথ গবেষণা পরিচালনার পাশাপাশি গবেষকদের গবেষণায় অনুপ্রাণিত করা। অনুষদের গবেষণা উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক পরিবেশ উন্নয়নে এই কনফারেন্স শিক্ষামূলক অবদান রাখবে।

সম্মেলনে কিছু বিষয়বস্তুর নিয়ে আলোচনা করা হবে যা ঢাকা ঘোষণা হিসেবে প্রকাশিত হবে। খসড়া সুপারিশমালা গুলো হল:

১. সুনীল অর্থনীতি : বৈশ্বিক ও বঙ্গোপসাগর পরিপ্রেক্ষিত।
২. ভ-সম্পদের অনুসন্ধান, আহরণ, উন্নয়ন ও টেকশয় ব্যবস্থাপনা।
৩.দূর্যোগ ঝুকিহ্রাস ও ব্যবস্থাপনা।
৪. জনসংখ্যা গতিশীলতা এবং আঞ্চলিক বিকাশের উপর পরিবেয়গত ব্যবস্থাপনা।
৫. আবহাওয়া বিজ্ঞান, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং এর প্রয়োগ।
৬. বদ্বীপ গঠন প্রক্রিয়া এবং বদ্বীপ ব্যবস্থােনা।

প্রফেসর মোঃ মাকসুদ কামাল আরো বলেন, এই সুপারিশমালা জাতীয় পর্যায়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহ ও বিভিন্ন সংস্থায় প্রেরণ করা হবে যাতে করে প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক উপাত্ত ও তথ্য ব্যবহার করে টেকশয় উন্নয়ন নিশ্চত করতে পারা যায়। কনফারেন্সের বিভিন্ন বিষয়বস্তুর মধ্যমে কিভাবে জলবায়ু, ভূমি ব্যবহার এবং মানুষ এই তিনটি উপাদানের কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পারব তা বের হয়ে আসবে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৩০ সালে প্রায় দ্বিগুণ হবে। স্বল্প পরিসরে বসবাসের কি ব্যবস্থাপনা করা হবে তা নিয়ে আলোকপাত করা হবে।

বিভাগের প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই কনফারেন্স বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের সাথে পলিসি মেকারদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

বিভাগের প্রফেসর ড. কামরুল হাসান বলেন, বিভাগের প্রতিষ্টার ১২ বছর পর এমন একটি কনফারেন্স করতে পারছি বলে গর্ববোধ করি। এই কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারকে বুঝানো যে আমাদের সুযোগ দিলে আমরা কী করতে পারি। একাডেমিক কাজে অর্থায়ন ভর্তুকি নয় ইনভেস্ট। জাপানিরা সেটা অনুভব করতে পরেছিল বলে তারা আজ এই পর্যায়ে। গবেষণার জন্য এত কম অর্থ বরাদ্দ দিলেতো হয় না।

এই সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ আখতারুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহিদুল্লাহ, আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল অনুষদের ডীন ড. মাকসুদ কামালসহ বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,গবেষণা প্রতিষ্টান এবং শিল্প- সংস্থার প্রথিতযশা গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও নীতি- নির্ধারকগণ উপস্থিত থাকবেন।তাদের মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৮০ জন এবং জাতীয় পর্যায়ের ৩৫০ গবেষক, বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারক তাদের গবেষণা কর্ম উপস্থাপন করবেন। সম্মলনের অংশ হিসেবে ২৮-৩০ জানুয়ারী সুন্দরবন পরিদর্শনে যাবেন তারা।

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমআই

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।