নির্যাতনের ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনঢাবি'র শিক্ষকের সামনে শিক্ষার্থীকে মারধর, অত:পর...


Published: 2020-01-22 22:58:51 BdST, Updated: 2020-02-23 14:18:05 BdST

মিজানুর রহমান, ঢাবিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একজন শিক্ষকের সামনে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা নতুন নয়। এমন ঘটনা খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক বার ঘটেছে। কিন্তু শিক্ষক অভিভাবক হয়েও কখনও নিরব ভূমিকায় আবার কখনও অনেকটা অভিমানি হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখেছেন। আর নিরবে মার খেয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী। এমন ঘটনার নায়ক ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী। সেই রাতে জহুরুল হক হলে দায়িত্বরত আবাসিক শিক্ষকের সামনে ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মধ্যরাতে ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে 'শিবির সন্দেহে' মারধর ও নির্যাতনের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুকিম চৌধুরী বলেন, আমাদের মারধরের এক পর্যায়ে হলের আবাসিক শিক্ষক বেলাল স্যার আসেন। পরে বেলাল স্যারের সামনে ছাত্রলীগের নেতারা বিশেষ করে হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক আমির হামজা আমাকে মারধর করে। তখন স্যার কিছুই করেননি। পরে প্রক্টরিয়াল টিম আসে। বেলাল স্যার আমাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেই।

জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষক মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন তাঁদের মারধর করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তাঁদের মারধর করা হয়েছে কিনা সেটা আমি জানি না। আমার সামনে তাঁদের মারধর করা হয়নি। তাঁর সামনে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

পরে, মারধরের শিকার শিক্ষার্থীরা প্রকৃত দোষী হলে পুলিশকে লিখিত অভিযোগ কেন দেননি জানতে চাওয়ার জন্য একাধিক বার কল দিয়েও তিনি রিসিভ করেন নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১ টার দিকে জহুরুল হক হলের গেস্টরুমে ছাত্রলীগের নিয়মিত গেস্টরুম চলছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুকিম চৌধুরীকে শিবির সন্দেহে গেস্টরুমে ডাকা হয়। সেখানে হল শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা তাদের অনুসারীদের দিয়ে মুকিমকে প্রথমে মানসিক চাপ দেয়।

ভিডিও দেখতে লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/Campuslive24/videos/610308593128122/

এতে স্বীকার না করায় তাকে লাঠি, স্টাম্প ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। পরে তার ফোনের চ্যাটলিস্ট দেখে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেনকে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে তাকেও বেধড়ক মারধর করে ছাত্রলীগের নেতারা। মারধর সহ্য করতে না পেরে তারা উভয়েই মেঝেতে বসে ও শুয়ে পড়ে।

এর একটু পর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন ও একই বর্ষের আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দীনকে ধরে গেস্টরুমে আনা হয়। সেখানে রাত দুইটা পর্যন্ত তাদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন করতে থাকে ছাত্রলীগ নেতারা। পরে হলের আাবাসিক শিক্ষক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন আসেন।

তাঁর সামনেও মারধরের ঘটনা ঘটে। তিনি তখন নির্লিপ্ত ছিলেন। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে আহত শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তাদের তুলে দেন। কিন্তু পুলিশকে কোন লিখিত অভিযোগ দেননি তারা।

পুলিশ আহত ৪ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুকিম চৌধুরী ও সানোয়ারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

শিক্ষার্থী মহলে প্রশ্ন উঠেছে মারধরের শিকার শিক্ষার্থীরা প্রকৃত দোষী হলে পুলিশের হাতে লিখিত অভিযোগ দেননি কেন? হল প্রশাসন তদন্ত না করে পুলিশের হাতে তুলে দিল কেন? স্যারের ভাষ্যমতে মারধরের ঘটনা না ঘটলে পুলিশ তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেল কেন?

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।