ঢাবির সেই শিক্ষার্থীর মুখে নির্যাতনের বর্ণনা (ভিডিও)


Published: 2020-01-23 02:47:25 BdST, Updated: 2020-04-05 05:38:13 BdST

ঢাবি লাইভঃ গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জহুরুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ছিলো ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুকিম মুহাম্মদ চৌধুরী। সে নিজের মুখেই দিয়েছে নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা।

বণর্নাটি ছিলো এরকম: আমাকে হল ক্যান্ডিডেট (ছাত্রলীগের হল ক্যান্ডিডেট) ফোন দিয়ে গেস্টরুমে আসতে বললে আমি তাড়াতাড়ি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি হল ক্যান্ডিডেটের অনেকেই সেখানে উপস্থিত আছে এবং অনেকে আসছে। তারপর তাদের একজন আমাকে তাদের ফোন থেকে কিছু স্ক্রিনশট দেখায়। কিন্তু আমি অবাক হয়ে যাই সেটা দেখে।

কারণ সেখানে যে কথাগুলো লেখা ছিলো আমি কখনো তা বলিনি। স্ক্রিনশটগুলো আমার ফেইজবুক লগো দিয়ে এডিট করে বানানো হয়েছে। তারপর তারা আমার কোন কথা না শুনেই মারধর শুরু করে। কোনরকম স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করে নি তারা। তারা আমাকে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন করতে থাকে এবং মারতে থাকে।

গেস্টরুমে মারধর শেষে তার আমাকে ছাদে নিয়ে যায়। সেখানেও হল ছাত্রলীগের বিভিন্ন ক্যান্ডিডেট উপস্থিত ছিল। তারা আমার বাসায় ফোন দিয়ে বিভিন্ন ধরণের কথাবার্তা বলতে থাকে যা শুনে আমার পরিবার চিন্তার মধ্যে পরে যায়। আমার বাবা অসুস্থ ছিলেন। ফোনে কথা বলা শেষ করে ছাদের মধ্যেও আমাকে আবার মারধর করতে শুরু করে তারা।

তারা ১৫/২০ জনের মত উপস্থিত ছিলো। সেখানে তারা ১ টা থেকে ১.৩০ মিনিট পর্যন্ত আমাকে ছাদে রেখেছিল। তারপর সেখান থেকে আবার গেস্টরুমে নিয়ে যায়। সেখাও নেতারা যায়। তারপর আমির হামজা ভাই আমাকে সবার সামনে থেকে ধরে নিয়ে বাঁধন অফিস সংলগ্ন একটা কক্ষে নিয়ে যায়।

সেখানে সে আমাকে বেধরক মারধর করে। আমাকে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে আঘাত করছিল। হাতুরি, স্যান্ডেল এবং ডিশের তার দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে। সেখানে পালাবদল করে সবাই আমাকে পেটায় এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করে। তারপর আবার আমাকে গেস্টরুমে নেয়া হয় এবং হাউজ টিউটরকে ডাকা হয়। তখনও আমাকে মেরেই যাচ্ছিলো। হাউজ টিউটর বেলাল স্যার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি কোন কথা বলেন নি বা আমার উপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন থামাতে বলেননি।

ভিডিও দেখতে লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/Campuslive24/videos/212890079849791/

আমার মত আরও কয়েকজনকে (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সানওয়ার হোসেন, ২য় বর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দীন এবং একই বর্ষের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আফছার উদ্দীন) ফোন করে হল থেকে ডেকে আনা হয়েছিল তাদেরসহ আমাকে প্রক্টরিয়ার টিমের মাধ্যমে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

তাকে মারধরের সময় কারা উপস্থিত ছিলো জিজ্ঞেস করলে সে বলে, হলের ভিপি-জিএসসহ হল সংসদের অনেকে ছিলো। বিশেষ করে ছাত্রলীগের আমির হামজা, রানা, ইমন, আনোয়ার, সোহাগ শাহিন, রিফাতসহ প্রায় ১৫/২০ জনের মত সেখানে উপস্থিত ছিলো।

নির্যাতনের বিচার চেয়ে অবস্থান ধর্মঘটে বসেছে নির্যাতনের শিকার ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী মুকিম মুহাম্মদ চৌধুরী।

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমজেড

ক্যাম্পাসলাইভ২৪ডটকম-এ (campuslive24.com) প্রচারিত/প্রকাশিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।